
দেশ বাঁচাতে ও জনগণের ভাগ্য বদলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে গতকাল বৃহস্পতিবার দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় এ আহ্বান জানান তারেক রহমান। সিলেটের পর মৌলভীবাজারের শেরপুরে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে, নরসিংদীর পৌর পার্ক-সংলগ্ন সমাবেশে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
বাবা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে পুণ্যভূমি সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন তারেক রহমান। এ জন্য গত বুধবার রাতেই বিমানে করে তিনি সিলেট যান। রাতেই হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। জিয়ারত শেষে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে বেশ খানিকটা সময় অবস্থান করে হোটেলে ফিরে রাত যাপন করেন।
নির্বাচনী প্রচারের বাইরেও ২২ বছর পর তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে সিলেটে বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগও। সব মিলিয়ে চেয়ারম্যানের আগমনে গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য হয়ে উঠেছিল অন্য রকম।
সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশে যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে দলে দলে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এসে জড়ো হন। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ কাঁধে ব্যানার, আবার কেউ স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন সমাবেশস্থল। ভোর থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। একপর্যায়ে মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের অলিগলিতে অবস্থান নেন তাঁরা।
জাফলং থেকে আসা আব্দুল মান্নান মিয়া চোখে-মুখে দৃঢ়তা নিয়ে বললেন, ‘নেতার জন্যই এসেছি। এত বছর পর তিনি আসছেন, এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই হবে।’
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনসভা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। বক্তব্য দেন ২৩ মিনিট। তাঁর বক্তব্যে ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন মামলা-মোকদ্দমা, সিলেটের সন্তান এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, লুটপাট, রাষ্ট্রকাঠামো রূপান্তর, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, হেলথ কার্ড, খাল খনন, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা উঠে আসে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, আগামী মাসের ১২ তারিখে যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আমরা দেশে গণতন্ত্রের সূচনা করতে চাই, একই সঙ্গে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, তাহলে কোথায় সিল মারতে হবে? ধানের শীষে আমাদের সিল মারতে হবে।’
নির্বাচন নিয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যারা এই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে আবার সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পত্রপত্রিকায় এসেছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট যেগুলো পাঠানো হয়েছে, সেগুলোকে কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। একইভাবে হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে যেই অধিকার আমরা অর্জন করেছি, চব্বিশের গণ-আন্দোলনে... এই প্রাণগুলোর বিসর্জনের মাধ্যমে আমরা যে অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি, একটি কুচক্রী মহল এরই ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশকে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত করেছি। আমরা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু করেছি। এখনো সেই যাত্রা শুরু হয়নি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের সেই যাত্রা শুরু হবে। টেক ব্যাক বাংলাদেশ মানে শুধু গণতন্ত্রই রক্ষা নয়। এর সঙ্গে আরও কথা আছে...ওই যে বললাম খাল খনন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড... আমরা ১২ তারিখে নির্বাচিত হলে এসব কার্ড আমরা কৃষক ও নারীদের দেব।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লুদির সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের নেতারা বক্তব্য দেন।
সিলেটের সমাবেশ শেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসে করে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন তারেক রহমান। পথে মৌলভীবাজারের শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন তিনি। এ সময় দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে, দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার দিতে হবে। একমাত্র এই নিশ্চয়তা দিতে পারে কে? কোন দল? ধানের শীষ একমাত্র দিতে পারে এই নিশ্চয়তা।’
সমাবেশস্থলে উপস্থিত একজনকে মঞ্চে ডেকে এনে পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন কি না, দোজখ ও বেহেশতের মালিক কে, জানতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান। এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই সাক্ষী দিলেন। দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না।’
টিকিট দেওয়ার নাম করে একটি দল জনগণকে ঠকাচ্ছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘আগেই তো তারা আপনাদের ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের ফলে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে আপনাদের বোঝেন।’
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি-তমুককে দেখেছি; এবারে একেবার আমাদের দেখেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। কাজেই তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ এরই মধ্যে দেখেই নিয়েছে।’
জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে দলটির নেতাদের প্রটোকল বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ সরকারের প্রতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির যে প্রটোকল, তার চেয়ে তিন গুণ প্রটোকল বাড়িয়ে দেন। কারণ, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এটা জানতে পেরে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে। আমরা চাই না, মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু করে বসুক তাদের।’
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোরে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে প্রস্তুতি নেবেন। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিতে হবে।’

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দুঃশাসন-দুর্নীতি, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিল জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর সমাবেশে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
৪ ঘণ্টা আগে
দুই জাতীয় নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
৪ ঘণ্টা আগে
মাহদী আমীন প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেন ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন’ উদ্যোগ। তিনি জানান, এর আওতায় আজ থেকেই সারা দেশে পোস্টার ও ড্যাংলারের মাধ্যমে একটি বিশেষ কিউআর কোড ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
৮ ঘণ্টা আগে
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামি নির্বাচনে জয়ী হলে মিরপুরের বর্জ্যে ভরা খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ ভাঙা রাস্তাঘাট ও লাইটপোস্ট মেরামত করা হবে। তিনি এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি মনিপুর হাইস্কুলসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের মানে উন্নীত
৯ ঘণ্টা আগে