বিএনপির সমাবেশ: মধ্যরাতেও উজ্জীবিত গোলাপবাগ মাঠ, স্লোগানে সরব নেতা-কর্মীরা

রাত পোহালেই বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। ইতিমধ্যে গোলাপবাগ মাঠ নেতা-কর্মী দিয়ে ভরে গেছে। মধ্যরাতেও উজ্জীবত তারা। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে সমাবেশস্থল। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতা-কর্মীরা এসেছেন সমাবেশস্থলে। নানা বাধা থাকা সত্ত্বেও সমাবেশে যোগ দিতে পেরে খুশি অনেকে। জানাচ্ছেন সমাবেশস্থলে আসতে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা।
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা থেকে ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশে এসেছেন শ্রমিক দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা তুহিন মোল্লা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে পৌঁছে গেছেন গোলাপবাগ মাঠে।
মোড়েলগঞ্জ উপজেলা থেকে ঢাকার গোলাপবাগ মাঠ পর্যন্ত আসতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ বার পুলিশের চেক ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান তুহিন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাগেরহাট থেকে নানাভাবে এই মাঠ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। প্রতিটি মোড়ে চেক ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মোড়েলগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে অন্তত ২০ বার চেক করা হয়েছে। প্রতিটি চেকে পুলিশ ঢাকায় যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে, মোবাইল ফোন চেক করেছে। মোবাইল ফোনে থাকা ছবি, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারসহ সব কিছু তল্লাশি করেছে।'
তুহিন বলেন, ‘ঢাকায় আসার পথে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। এমনকি উত্তরা থেকে এ পর্যন্ত আসতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে চেক করেছে। এই পর্যন্ত আসতেও ৮-১০ বার তল্লাশি করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেটে এসেছি।'
ফেনীর দাগনভুঞা থেকে গত ৭ তারিখ ঢাকায় এসেছেন মো. সেলিম। এক আত্মীয়ের বাসায় তিন দিন আত্মগোপনে থাকার পরে সন্ধ্যায় গোলাপবাগ মাঠে এসেছেন এই যুবদল কর্মী। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি যাই না। অনেকবার আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। এখন পুলিশও ঝামেলা শুরু করেছে। ৭ তারিখে ঢাকায় এসেছি, এর পরও চার-পাঁচবার তল্লাশি করা হয়েছে। মোবাইল ফোন চেক করে দেখে ফোন থেকে সব কিছু ডিলিট করে দিয়েছি।’
মো. মীর সিদ্দিক বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে আসার পথেও বাঁধা। নৌকা বন্ধ। পথে পথে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের বাধা। দলে পদ নেই কিন্তু ভালোবাসা থেকেই এসেছি। সমাবেশ সফল করেই বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গোলাপবাগ মাঠে আসা নেতা-কর্মীদের অভিজ্ঞতা সবারই প্রায় এক। বহু বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ঢাকায় এসেছেন।
দীর্ঘ পথের ভ্রমণক্লান্তি ভুলে উজ্জীবিত নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন স্লোগানে মুখোরিত সমাবেশস্থল। সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। এ ছাড়া মাঠের ভেতরে অবস্থান করা অনেকেই নিরাপদ মনে করছেন। তাই সেখানেই কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ আড্ডা দিয়ে সময় পার করেছেন।
এ ছাড়া অনেকে চলমান বিশ্বকাপ খেলা দেখে সময় কাটাচ্ছেন। মাঠের ভেতরে খেলা দেখার জন্য দুটি প্রজেক্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া স্মার্টফোন দিয়েও অনেকে খেলা দেখছেন। আবার অনেকে মাঠেই বিছানা পেতে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
বিএনপির সমাবেশ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
- ঢাকার পথে বাস চলাচল বন্ধ
- সড়কে প্রস্তুত পুলিশ, ‘নাশকতা হলেই’ ব্যবস্থা
- যান তল্লাশিতে কমেছে যাত্রী, টানাটানি বাস চালকদের
- নয়াপল্টনে নাশকতার আশঙ্কা: হাফিজ
- নাশকতার আশঙ্কা নেই, শহরজুড়ে ২০ হাজার পুলিশ: ডিবির প্রধান
- বিএনপির সমাবেশ: ক্যাপ দেখে যায় চেনা
- বিএনপির সমাবেশ: মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা
- সমাবেশ গোলাপবাগে, নয়াপল্টনে ৪০০ পুলিশের সতর্ক অবস্থান
- খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে ফের অতিরিক্ত পুলিশ: শায়রুল কবির
- গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশ শুরু
- বিএনপির সমাবেশ: রাজধানী গণপরিবহনশূন্য, সড়কে সতর্ক পুলিশ
- পায়ে হেঁটে রাজধানীর পথে কর্মজীবী সাধারণ মানুষ
- গোলাপবাগ মাঠে প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ, অপেক্ষা নেতাদের

বিএনপির সমাবেশ: গোলাপবাগ মাঠেই তৈরী হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন 







