
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান এড়িয়ে উল্টো আরেকটি প্রস্তাব আনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। গতকাল বুধবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সদস্যদের নিয়ে সংসদকক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
বাইরে গিয়ে জুলাই সনদ আদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি আদায়ে ১১ দলের রাজপথে আন্দোলন করার কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তবে উল্টো প্রস্তাব আনার কথা নাকচ করেছেন সরকারি দলের সদস্য সদস্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এ নিয়ে বক্তব্য দেন।
গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সরকারি দল সংবিধান সংশোধনে একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে এতে একমত হয়নি বিরোধী দল। তারা বলেছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটি হলে বিরোধী দল সেটা ভেবে দেখবে।
গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আগের দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে মুলতবি প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু এটা জন-আকাঙ্ক্ষার বিষয়, গণভোটের বিষয়, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিষয়, তাই তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন স্পিকারের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন।
তিনি স্পিকারকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, তা তিনি বুঝতে পারেননি। এ বিষয়টি তিন সুস্পষ্টভাবে জানতে চান।
এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব। এটি তাঁর অনুপস্থিতিতে হয়েছিল। দেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল।
স্পিকার বলেন, যে সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যায়, সেটি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরেও উদারভাবে কথা বলতে চাইলে সেটা বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের আরও বক্তব্য থাকলে সে সুযোগ দেওয়া হবে।
এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা প্রতিকার চেয়েছেন। বিষয়টা কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের আগে সরকারি দল, বিরোধী দল—সবাই একমত হয়েছে, স্বপক্ষে কথাও বলেছে, ক্যাম্পেইন করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা প্রতিকার যে পেলাম না, এটা আমরা না, এটা দেশবাসী তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না, মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এ জন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।’
তখন বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরো বক্তব্য শুনেছি। আপনার ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার। কিন্তু আমি বলতে চাই, আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা বলতে পারবেন।’
এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ওই নোটিশটাও তাঁদের নজরে এসেছে। তিনি মনে করেন মূল নোটিশটা (বিরোধী দলেরটা) চাপা দেওয়ার জন্য ওই নোটিশটা সামনে আনা হয়েছে। এ জন্য দুইটার প্রতিবাদেই তাঁরা সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছেন।
তখন স্পিকার বলেন, ‘নোটিশই তো উত্থাপন হয় নাই। আপনি কী করে বুঝলেন কোনটা চাপা দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে? আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। নোটিশের বিষয়বস্তু শুনুন।’
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এর আগে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নোটিশটি সংশ্লিষ্ট সদস্য পড়েছেন। তাঁরা সেটা শুনেছেন। বুঝেশুনেই তিনি বলছেন যে দুই কারণে তাঁরা ওয়াকআউট করছেন।
তখন স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আপনারা ওয়াকআউট করতে পারেন।
এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদকক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা কোনো মুলতবি প্রস্তাব এখানে রিডআউট করি নাই। বিরোধীদলীয় নেতা যেটা বলেছেন, সেটা অসত্য বলেছেন। যেটা মুলতবি প্রস্তাব—আমিও শুনেছি আজকে একজন বেসরকারি সদস্য উত্থাপন করতে পারেন, সেটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু একই বিষয়ে আপনি বিরোধীদলীয় নেতার একই রকম মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এটা রেওয়াজ হিসেবে অ্যাজ এ ম্যাটার অব রাইট বেসরকারি সদস্য, সেটা ক্লেইম করতে পারেন।
‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়’
ওয়াকআউট করে বাইরে এসে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু হাউসের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টা সেভাবে সম্মানিত এবং গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই। যে জনগণ আমাদের এই রায় দিয়েছিল, আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই গণভোটের যে দাবি—এই দাবি কীভাবে আদায় করা যায়, সেই কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করব।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমরা খুবই বিস্মিত, আহত, মর্মাহত। এর আগে তিনটা গণভোট বাংলাদেশে হয়েছে। কোনো গণভোট এইভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটার তিনটিতেই জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। এই প্রথম যেটাতে আমরা সবাই সরকারি দল, বিরোধী দল—সবাই আমরা একমত ছিলাম। সবাই চাইলাম, সবাই এর পক্ষে ভোট চাইলাম। এখানে এসে এটাকে অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হলো এবং এটাকে শেষ করে দেওয়া হলো। কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় যেটাকে সংবিধানের চূড়ান্ত জায়গায় স্থান দেওয়া হয়েছে, সেইটাকেই কিন্তু লঙ্ঘন করা হলো।’—মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
আন্দোলনে নামার আভাস দিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, ১১টি দল আমরা নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের দুইটা মেজর দাবি ছিল—একটা হলো সুশাসন ন্যায়বিচার, আরেকটা ছিল দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থা। তা আমরা এখন জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নিয়ে যাব। যেহেতু এখানে আমরা পারলাম না আদায় করতে। আমরা ইনশা আল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
জামায়াত সংসদে থাকবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংসদে থাকব না এটা বলি নাই। আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, আমরা সংসদকে গিভআপ করি নাই। আমরা তো সংসদের অংশ। আমরা তো সংসদ সদস্য, জাতির দেওয়া এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। আমরা তো জাতির দেওয়া এই দায়িত্বকে অবহেলা করতে পারি না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে। আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে আমি বলেছি যে আমাদের ১১টি দল আমরা একত্রে বসে; দ্রুতই আমরা বসছি এবং বসে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তগুলো নেব।’

‘যেহেতু হাউসের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টা সেভাবে সম্মানিত ও গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই—যে জনগণ আমাদের এই রায় দিয়েছিল, আমরা এখন...
৫ ঘণ্টা আগে
অনির্বাচিত সরকারের কোনো অধিকার ছিল না এই রকম চুক্তি করার। তাদের মেটিকুলাস প্ল্যানের শেষ পেরেক ছিল আমেরিকার সঙ্গে অতিশয় গোপন বাণিজ্য চুক্তি। তথাকথিত বাংলাদেশপন্থীরা...
৭ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে কোনো ‘প্রতিকার না পাওয়া’ এবং তাদের প্রস্তাবটি চাপা দিতে আরেকটি প্রস্তাব আনার প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। আজ বুধবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদকক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
৭ ঘণ্টা আগে
কোনো বিপ্লব বা কোনো গণ-অভ্যুত্থান কোনো সংবিধানের অধীনে হয় না। এটা জনগণের ইচ্ছায়, আকাঙ্ক্ষায় হয়। সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই এ পর্যন্ত আমরা এসেছি। যেমন ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের কোনো প্রভিশন নাই। ৯০ দিনের মধ্যে ইলেকশন করতে হবে—যদি এ রকম সিচুয়েশন হয় সেইটা আমরা মানিনি, মানতে পারিনি...
১ দিন আগে