Ajker Patrika

তিশা উধাও

সম্পাদকীয়
তিশা উধাও

আরও একটি প্রতারণার ঘটনা ঘটল। কত ধরনের প্রতারণাই তো ঘটে চলেছে চারদিকে। এবারের ঘটনা গাইবান্ধার। সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি টাকা। এ রকম লোভনীয় প্রলোভনের ফাঁদে পড়েছেন শতাধিক গ্রাহক।

পরিশ্রমহীন আয়ের দিকে কেন আমাদের দেশের মানুষ সহজে আকৃষ্ট হন, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। অবশ্য তা শুধু আমাদের দেশের মানুষের প্রবণতা নয়, বিশ্বের প্রায় সবখানেই এ রকম প্রতারণার জাল পাতা আছে। সরল বিশ্বাসে এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়েন।

প্রশ্ন হলো, চোখের সামনে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা ঘটতে দেখার পরও মানুষ কেন নতুন করে একই রকম প্রতারণার শিকার হন—উত্তর হলো লোভ। খুব সহজে ভাগ্য ফেরানোর এই ফাঁদ অনেককে নিঃস্ব করে।

গাইবান্ধার ‘তিশা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি এনজিওর প্রতারণা কিছুটা গোছানো। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং মানুষের কাছে গিয়ে তারা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। শর্তটি এতটাই সহজ যে দ্রুত সেই ঋণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং মানুষ। শর্তটি হলে এ রকম: যদি এই এনজিওতে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করা হয়, তাহলে তার ওপর ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। আর যদি সঞ্চয় হয় ১ লাখ টাকা? তাহলে তো কেল্লা ফতে! ১ লাখ টাকায় ঋণ দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা! অনেকে ভেবেছেন, এত সহজে যদি এ রকম ঋণ পাওয়া যায়, তাহলে তো আখের গুছিয়ে নেওয়া যাবে!

কিন্তু পরে যা ঘটল, সেটি হলো অল্পে বেশি পাওয়ার আশা করে মানুষ টাকা জমা করতে থাকলেন এনজিওটিতে। টাকা জমা হতে থাকল এনজিওর পকেটে। ঋণ দেওয়ার নির্ধারিত দিনে সবাই এনজিওর অফিসে গিয়ে দেখলেন, অফিসে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তারা লাপাত্তা! এরপর সবাই বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ দেখলে বোঝা যায়, ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কেউ দিয়ে থাকলে প্রতারিত হওয়ার জন্য একদল মানুষও সব সময় তৈরি থাকে। তবে কোটি টাকা আত্মসাৎ করা এই তিশা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা ধরা পড়বেন কি না, ধরা পড়লেও গ্রাহকেরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন গোলক ধাঁধা হয়ে ঘুরতেই থাকবে। আর সেই সুযোগে নতুন নতুন প্রতারকের দল জন্ম নেবে, আবারও সাধারণ মানুষের ঘাড় ভেঙে তারা প্রতারণা চালিয়ে যেতে থাকবে।

অনেকের মনে পড়ে যাবে, নিকট অতীতে কতভাবেই তো মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছে। বিভিন্ন নামে এমএলএমের মাধ্যমে কত প্রতিষ্ঠান টাকা কামিয়ে নিয়েছে। ডেসটিনি গ্রুপের প্রতারণার কথা নিশ্চয় অনেকেই মনে আছে। আরও মনে আছে যুবক, ইভ্যালির কথা। এর সবকিছুই মানুষের লোভের ওপর নির্ভর করে প্রতারণার কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছে। মানুষকে লোভী করে তুলতে পারলেই প্রতারণা জমে ভালো।

সহজে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন যারা দেখায়, তাদের হাতে যদি নিজের সঞ্চয় দিয়ে দেন, তাহলে প্রতারণার ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সরলতার সঙ্গে লোভ যুক্ত হলে এই প্রতারণা এড়ানো যাবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত