Ajker Patrika

গোলাপি রঙের বাস

সম্পাদকীয়
গোলাপি রঙের বাস

নারী যাত্রীদের জন্য নারী চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাস আজ থেকে চলবে। শুরুতে ঢাকার বিভিন্ন রুটে ১০টি, বগুড়ায় দুটি এবং চট্টগ্রামে দুটি বাস চলবে। সিসি ক্যামেরা ও পস মেশিনে টিকিট কাটার মতো আধুনিক সুবিধাও থাকবে।

যানজটপূর্ণ ঢাকা শহরে যাঁরা গণপরিবহনে চলাচল করতে বাধ্য হন, একমাত্র তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারেন দুর্গতি কাকে বলে! যেখানে পুরুষ তো বটেই, বিশেষ করে নারী এবং বয়স্ক মানুষের জন্য কত কষ্টের ও বিড়ম্বনার। গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের নিত্যদিনের যাতায়াত অভিজ্ঞতা যে কতটা উদ্বেগ, শঙ্কা ও মানসিক যন্ত্রণার, তা আমাদের অজানা নয়। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া নারীদের প্রতিদিন ভিড় ঠেলে বাসে ওঠা এবং নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক হয়রানির মুখোমুখি হওয়া এক নিত্য বিড়ম্বনা। নতুন উদ্যোগে এ বাসগুলো চালু হওয়া নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি নতুন আশা তৈরি করেছে।

তবে আশঙ্কা যে অতীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রহণ করা এ ধরনের উদ্যোগের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল না। অনেক সময়ই দেখা গেছে, বেশ ধুমধাম করে কোনো ভালো উদ্যোগ শুরু হলেও কিছুদিন পর তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা অলাভজনক অজুহাতে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিআরটিসির এ উদ্যোগ যেন সেই একই পুরোনো অবহেলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে এই উদ্যোগের পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বেসরকারি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক গোষ্ঠীর লোকজন। গণপরিবহন খাতে বেসরকারি বাসমালিকদের যে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে, তাতে বিআরটিসির এ উদ্যোগ তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানতে পারে। রুটে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া, বিআরটিসির কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কিংবা কৌশলে এ বাস সার্ভিসকে অকার্যকর প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালানো অস্বাভাবিক নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো কঠোর হাতে পরিবহন খাতের এসব সিন্ডিকেট ও অপতৎপরতা দমন করা।

ঢাকায় নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে মাত্র ১০টি বাস দিয়ে হাজার হাজার নারী যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এ শহরে হাজার হাজার নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে প্রতিদিন গণপরিবহন ব্যবহার করে থাকেন। তাই দ্রুত এই সার্ভিসটিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। তার চেয়েও জরুরি এই সার্ভিসের জন্য নারীদের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে যেন না হয়। বাসে উঠতে যদি অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে নারীরা এর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সে জন্য রুটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বাসের সংখ্যা অনেক গুণ বাড়াতে হবে। নতুবা এ সার্ভিস মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। কারণ, ১০টি বাস দিয়ে কোনোভাবেই এতসংখ্যক নারীকে সঠিকভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব না।

তাই রুট এবং বাসের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত