Ajker Patrika

ঝিনাইদহের লজ্জা

সম্পাদকীয়
ঝিনাইদহের লজ্জা

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে ছিল বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি অনায়াসে ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। অথচ কারা এটি ভাঙছে, সে ব্যাপারে কেউ কিছু জানত না। আজকের পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় বলা হয়েছে, ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে, নাকি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বুধবার।

তবে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবার দাবি করেছে, ভাস্কর্যটি যেখানে ছিল, পুনরায় সেখানেই স্থাপন করতে হবে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটির চরম অবমাননা করা হয়েছিল ২০২৪ সালে সরকার পতনের সময়টিতে। সরকার হটানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা করার যেসব দৃশ্য দেখা গেছে ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে, তারই শিকার হয়েছিল এই ভাস্কর্য। এটি যে কত বড় লজ্জা এবং অপমানের বিষয়, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। আন্দোলনের সুযোগে একশ্রেণির পথভ্রষ্ট ও পাকিস্তানপ্রেমী মানুষ মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলো ভেঙে ফেলার মতলব হাসিল করার জন্য দলে দলে পথে নেমে পড়েছিল। সে সময় এই অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধকেই চ্যালেঞ্জ করে বসেছিল। এই স্মারকগুলো যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন অন্তর্বর্তী সরকার কী ভূমিকা পালন করেছিল, তা নিয়ে ভবিষ্যতেও প্রশ্ন উঠবে। কেউ কেউ চব্বিশকে মুক্তিযুদ্ধের কাতারে দাঁড় করাতে চাইছিল। কিন্তু দেশের মানুষ ধীরে ধীরে সেই মতলববাজি ধরতে পেরেছে, কিন্তু ততক্ষণে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র আওয়ামী-বিরোধিতার নাম করে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধিতার পদধ্বনি শোনা গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে উল্লাস করেছে একশ্রেণির বদ মতলববাজ। তৌহিদি জনতা নাম দিয়ে হালাকু খানের মতো নৃশংসতা চালিয়ে গেছে এরা।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য যারা খোদ ঝিনাইদহে ভাঙার সাহস দেখিয়েছে, তারা কারা? জেলা প্রশাসন এখন ভাস্কর্য ভাঙার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে বের করে প্রকৃত অপরাধী যারা, তাদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য তদন্ত করাতে পারে। জাতির জন্য জীবন দেওয়া সেরা মানুষদের অপমান যারা করেছে, তারা বিচারের সম্মুখীন হবে কি না, সে বিষয়ে মুখ খোলা দরকার জেলা প্রশাসনের। ভাস্কর্য সরানো হবে কি না, সেটি মুখ্য আলোচনা হতে পারে না। শহরের প্রবেশমুখে শহরের সবচেয়ে বড় বীরের ভাস্কর্য কেন থাকবে না, সেই ব্যাখ্যা আগে দিক তারা। তার আগে এমন কিছু করা দরকার, যেন ঝিনাইদহের মানুষ তার বীর সন্তানের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করে। আর তা করতে হলে মতলবি সেসব কুলাঙ্গারকে অবিলম্বে শনাক্ত করতে হবে, যারা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভেঙেছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামে জন্ম নেওয়া অদ্ভুত রাষ্ট্রটি ২৩ বছর বাঙালিদের শোষণ করে টিকে ছিল। সেই রাষ্ট্র ভেঙে যাঁরা বাংলা নামের দেশটি সৃষ্টি করতে অবদান রাখলেন, তাঁদের অপমান করা মানে গোটা জাতিকে অপমান করা হয়, সে কথা কি প্রশাসন বুঝবে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত