কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
দখলদার দুজনের নামগুলো দেখুন: একজন সরকার জিয়াউর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। তাঁরা দুজনেই কোনো না কোনোভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন। সরকার জিয়াউর রহমান রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। অন্য জিয়াউর রহমানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাঁর বাড়িটি দখল করা হচ্ছিল, তিনিও বিএনপির একজন নেতা। যাঁরা বাড়িটি দখলমুক্ত করেছেন, তাঁরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মানে, ‘আমরা আর মামুরা’ রাজনীতির এক চরম প্রকাশ বটে!
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবে বসেছিলেন বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন দেয়নি। কালক্ষেপণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা ধরনের সংবাদ খোলাসা হওয়া শুরু করলে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এ রকম জটিল এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই অনেকে নিজেদের প্রভাববলয় বিস্তার করার নানা চেষ্টা করেছে। তারই একটি ঘটনা হলো রাজশাহীর এই দখলদারি।
দুই জিয়াউর রহমান ফন্দিটা এঁটেছিলেন ভালোই। ‘জিয়াউর রহমান’ নামটাই হয়তো তাঁদের শরীরে শক্তি দিয়েছিল। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়ে তাঁরা এই বাড়িতে সাইনবোর্ড আর ব্যানার টানান ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের এক সংগঠনের। ভাবা যায়! জিয়া, খালেদা জিয়া—নামগুলোই তো স্থানীয় মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং ভাড়া না দিয়ে দখলের চেষ্টা চলতেই থাকে। বাড়ির মালিকের সন্তান যখন একটি ফেসবুক পোস্টে এই দখলদারির ব্যাপার জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, তখনই টনক নড়ে জেলা বিএনপি নেতাদের। বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিনু তাঁর কর্মীদের নিয়ে এসে সাইনবোর্ড আর ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্ছেদ করেন।
সরকার জিয়াউর রহমান অবশ্য নিজের পিঠ বাঁচিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার গন্ধ পেতেই একশ্রেণির লোক তার অপব্যবহার শুরু করে দিলে তাদের ঠেকাবে কে? কোনো সংগঠন যদি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখতে পারে, তবে সমূহ বিপদ। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার এই বাড়িটি না হয় একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে রেহাই পেল, কিন্তু দখলদারেরা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে কি তাদের উচ্ছেদ করা এত সহজ হতো?
দখলদারত্বের রাজনীতির প্রতি জিরো টলারেন্সই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সে মুক্তির দেখা পাবে কি এই দেশটা?

সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও তর্কাতীত নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের সব সময়ের প্রত্যাশা ছিল। জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনেও জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, প্রতিটি নির্বাচনই যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা যে যার
১ দিন আগে
মাত্র কয়েক মাস আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ যখন ঢাকা নগরের বাড়িভাড়া বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন রাজধানীর অগণিত ভাড়াটের মনে স্বস্তির আশা জেগেছিল। কিন্তু ২০ জানুয়ারি ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ভাড়াটের অধিকার নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রকের পক্ষে বিস্তারিত
১ দিন আগে
নির্বাচন মানে দলের আদর্শ, প্রার্থীর যোগ্যতা-আচরণ এবং দলের বক্তব্যের ফুলঝুরি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে সাধারণ ভোটারদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসা। দেশের মানুষ আসলে এরকম নির্বাচনই প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাচন মানে সহিংসতা। তবে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি একটা উদাহরণ হয়ে আছে। সে রকম নির্বাচন
১ দিন আগে
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—কোথাও চলছে সভা, কোথাও কর্মসূচি, কোথাও ডিজিটাল প্রচার। এই নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল বলে কিছু নেই। ক্ষমতাসীনেরা থাকলে তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলত। বিপরীতে বিরোধীরা বলত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা। এখন
২ দিন আগে