রাজিউল হাসান

দেশে প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস অনেক অভিভাবকের কাটে উদ্বেগ-দুশ্চিন্তায়। এ কথা বেশি প্রযোজ্য নতুন শিশুশিক্ষার্থীর অভিভাবকদের জন্য। কারণ, সন্তানকে পছন্দমতো বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অনেকে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারেন, অনেকে পারেন না। ভর্তির এই প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এর ভেতর সূক্ষ্ম বৈষম্যের ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়।
একসময় দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে ভর্তি নিত। আপাতদৃষ্টে ব্যবস্থাটা উপযুক্ত মনে হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। নিজেকে সচেতন দাবি করা অনেক অভিভাবকই কোমলমতি শিশুদের ভর্তিযুদ্ধে নামানোর নামে রীতিমতো অত্যাচার করতেন। তাঁদের সেই ‘অসুস্থ’ আচরণের সুযোগে তৈরি হয়েছিল কোচিং ব্যবসা। যে সময় একটি শিশুর আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে পা রাখার কথা, তার আগেই তার মনটা বিষিয়ে যেত পড়ালেখার চাপে।
সেই চাপ থেকে উত্তরণে সরকার দারুণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিজিটাল লটারির ভিত্তিতে দেশজুড়ে সরকারি এবং বেশির ভাগ বেসরকারি স্কুলগুলোয় ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে শিশুরা, অভিভাবকেরা বেঁচেছেন ভর্তিযুদ্ধের নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতার হাত থেকে। স্কুলে ভর্তির কোচিং ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় বেঁচে গেছে অভিভাবকদের কষ্টার্জিত কিছু অর্থও।
তবে ডিজিটাল লটারি ব্যবস্থায়ও সূক্ষ্ম একটি বৈষম্য রয়ে গেছে বলে মনে করি। যদিও বিষয়টা সম্পূর্ণ কারিগরি, কিন্তু তার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। আর এ কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টা ব্যাখ্যা করার আগে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে কীভাবে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
বর্তমান ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী পছন্দ অনুযায়ী যত ইচ্ছা ততটি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভার্সনের জন্যই আবেদন করা যায়। তবে একজন শিক্ষার্থী একটি থানা এলাকার সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে একই বিদ্যালয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে পৃথক আবেদন করতে হয়। আবার থানা এলাকা পরিবর্তন করলেও ভিন্ন আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী একটি থানায় একটি ভার্সনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করতে পারে। ভার্সন কিংবা থানা পরিবর্তন করলেই পৃথক আবেদন। আবার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্যও পৃথক আবেদন করতে হয়। প্রতিটা আবেদনে শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউজার আইডি তৈরি হয়। একজন শিক্ষার্থী যদি এভাবে পাঁচটি আবেদন করে, তাহলে তার পাঁচটি ইউজার আইডি তৈরি হয়।
এই ইউজার আইডি দিয়েই ডিজিটাল লটারি সম্পন্ন হয়। কম্পিউটার ব্যবস্থা দৈবচয়নের ভিত্তিতে (র্যানডমলি) বিদ্যালয়ভিত্তিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজার আইডি বাছাই করে। যেমন একজন শিক্ষার্থী ‘ক’ বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করে থাকলে কম্পিউটার ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বিদ্যালয়ের জন্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীর ইউজার আইডি ডেটাবেইসে সক্রিয় হয়। তবে শিক্ষার্থী যে বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করেনি, সে বিদ্যালয়ের লটারির ক্ষেত্রে তার ইউজার আইডি বিবেচনায় আসে না। আবার শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দের বিদ্যালয়ের জন্য লটারি ব্যবস্থা তার আইডিটি বাছাই না করলে আবেদনে থাকা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ক্রমের বিদ্যালয়ের জন্য আইডিটি সক্রিয় থাকে। কোনো একটি আইডি একটি বিদ্যালয়ের জন্য বাছাই হয়ে গেলে আবেদনের পরের বিদ্যালয়গুলোর জন্য সেটি আর বিবেচিত হয় না। বিষয়টি একটু জটিল মনে হলেও বৈষম্যহীনভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির যথার্থ একটি প্রক্রিয়া এটি।
তবে যেহেতু একজন শিক্ষার্থী সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, ভার্সন, থানাভেদে পৃথক আবেদন করে, কাজেই তার আবেদনের সংখ্যার সমসংখ্যক ইউজার আইডি তৈরি হয়। ফলে তার বিদ্যালয়, ভার্সন ও থানাভেদে একাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে যেটা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিদ্যালয়ের জন্যই নির্বাচিত হয় না। ফলে সে সুযোগবঞ্চিত হয়। এতে কোনো কোনো পরিবারে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ারে; আবার সন্তানকে পছন্দের কিংবা মানসম্পন্ন কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সুযোগ না পাওয়ায় কোনো কোনো অভিভাবক ডোবেন হতাশায়। এটি একধরনের বৈষম্যই বলা যায়। কারণ, সব শিশুরই সমানাধিকার থাকা উচিত।
এই বৈষম্য কমানোর একটি উপায় আমার মাথায় এসেছে। আমি যেহেতু কারিগরি কিংবা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নই, কাজেই আমি নিশ্চিত নই, উপায়টা সহজে বাস্তবায়ন সম্ভব কি না অথবা আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কি না। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য উপায় বাতলে দেওয়া নয়, বৈষম্যটা ধরিয়ে দেওয়া। সরকার ও লটারিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে ‘সূক্ষ্ম বৈষম্যের’ বিষয়টি উপস্থাপন করা। আমার মাথায় আসা সম্ভাব্য সমাধানটা হলো, একজন শিক্ষার্থীর দুয়ের অধিক ইউজার আইডির ব্যবস্থা না রাখা। এ ব্যবস্থায় থানা ও ভার্সনভেদে পৃথক আবেদনের ব্যবস্থা না রেখে একটি আবেদনে যত খুশি ততটি বিদ্যালয়ে আবেদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শুধু সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে পৃথক আবেদনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এতে একজন আবেদনকারীর সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য একটি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য একটি ইউজার আইডি তৈরি হবে। ডিজিটাল লটারির সময় ডেটাবেইসে সংরক্ষিত ইউজার আইডিগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করবে। একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি বিদ্যালয়ের জন্য বাছাই হয়ে গেলে তার ইউজার আইডি লকড হয়ে যাবে। বাকি বিদ্যালয়গুলোর জন্য সেটি আর বিবেচনায় আসবে না। লটারিটা হবে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ, ‘ক’ বিদ্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ব্যবস্থা যখন সক্রিয় হবে, তখন এই বিদ্যালয়কে প্রথম পছন্দে রাখা শিক্ষার্থীদের ইউজার আইডি প্রথমে যাচাই করবে জিডিটাল ব্যবস্থা। সেই তালিকা থেকে বিদ্যালয়ের সব আসন পূরণ না হলে বিবেচনায় আসবে বিদ্যালয়টিকে দ্বিতীয় পছন্দে রাখা শিক্ষার্থীরা। আবার যেসব শিক্ষার্থী ‘খ’ বিদ্যালয়কে প্রথম পছন্দে রাখবে, এই বিদ্যালয়ের জন্য লটারির ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবস্থা তাদের আইডি প্রথমে বিবেচনায় নেবে।
এতে যেটা হবে, একজন শিক্ষার্থীর একাধিক বিদ্যালয়ে সুযোগের হার কমে আসবে, সম্ভাবনা বাড়বে কোনো সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের। আমি আগেই বলেছি, আমি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নই। কাজেই এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিশ্চিত নই। আমার শুধু উদ্বেগ, কোথাও সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে। সে ক্ষেত্রে তাদের সুযোগের হার শূন্য থেকে যতটা সম্ভব বাড়ানো যায়, সে ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন।

দেশে প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস অনেক অভিভাবকের কাটে উদ্বেগ-দুশ্চিন্তায়। এ কথা বেশি প্রযোজ্য নতুন শিশুশিক্ষার্থীর অভিভাবকদের জন্য। কারণ, সন্তানকে পছন্দমতো বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অনেকে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারেন, অনেকে পারেন না। ভর্তির এই প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এর ভেতর সূক্ষ্ম বৈষম্যের ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়।
একসময় দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে ভর্তি নিত। আপাতদৃষ্টে ব্যবস্থাটা উপযুক্ত মনে হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। নিজেকে সচেতন দাবি করা অনেক অভিভাবকই কোমলমতি শিশুদের ভর্তিযুদ্ধে নামানোর নামে রীতিমতো অত্যাচার করতেন। তাঁদের সেই ‘অসুস্থ’ আচরণের সুযোগে তৈরি হয়েছিল কোচিং ব্যবসা। যে সময় একটি শিশুর আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে পা রাখার কথা, তার আগেই তার মনটা বিষিয়ে যেত পড়ালেখার চাপে।
সেই চাপ থেকে উত্তরণে সরকার দারুণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিজিটাল লটারির ভিত্তিতে দেশজুড়ে সরকারি এবং বেশির ভাগ বেসরকারি স্কুলগুলোয় ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে শিশুরা, অভিভাবকেরা বেঁচেছেন ভর্তিযুদ্ধের নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতার হাত থেকে। স্কুলে ভর্তির কোচিং ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় বেঁচে গেছে অভিভাবকদের কষ্টার্জিত কিছু অর্থও।
তবে ডিজিটাল লটারি ব্যবস্থায়ও সূক্ষ্ম একটি বৈষম্য রয়ে গেছে বলে মনে করি। যদিও বিষয়টা সম্পূর্ণ কারিগরি, কিন্তু তার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। আর এ কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টা ব্যাখ্যা করার আগে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে কীভাবে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
বর্তমান ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী পছন্দ অনুযায়ী যত ইচ্ছা ততটি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভার্সনের জন্যই আবেদন করা যায়। তবে একজন শিক্ষার্থী একটি থানা এলাকার সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে একই বিদ্যালয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে পৃথক আবেদন করতে হয়। আবার থানা এলাকা পরিবর্তন করলেও ভিন্ন আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী একটি থানায় একটি ভার্সনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করতে পারে। ভার্সন কিংবা থানা পরিবর্তন করলেই পৃথক আবেদন। আবার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্যও পৃথক আবেদন করতে হয়। প্রতিটা আবেদনে শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউজার আইডি তৈরি হয়। একজন শিক্ষার্থী যদি এভাবে পাঁচটি আবেদন করে, তাহলে তার পাঁচটি ইউজার আইডি তৈরি হয়।
এই ইউজার আইডি দিয়েই ডিজিটাল লটারি সম্পন্ন হয়। কম্পিউটার ব্যবস্থা দৈবচয়নের ভিত্তিতে (র্যানডমলি) বিদ্যালয়ভিত্তিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজার আইডি বাছাই করে। যেমন একজন শিক্ষার্থী ‘ক’ বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করে থাকলে কম্পিউটার ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বিদ্যালয়ের জন্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীর ইউজার আইডি ডেটাবেইসে সক্রিয় হয়। তবে শিক্ষার্থী যে বিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করেনি, সে বিদ্যালয়ের লটারির ক্ষেত্রে তার ইউজার আইডি বিবেচনায় আসে না। আবার শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দের বিদ্যালয়ের জন্য লটারি ব্যবস্থা তার আইডিটি বাছাই না করলে আবেদনে থাকা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ক্রমের বিদ্যালয়ের জন্য আইডিটি সক্রিয় থাকে। কোনো একটি আইডি একটি বিদ্যালয়ের জন্য বাছাই হয়ে গেলে আবেদনের পরের বিদ্যালয়গুলোর জন্য সেটি আর বিবেচিত হয় না। বিষয়টি একটু জটিল মনে হলেও বৈষম্যহীনভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির যথার্থ একটি প্রক্রিয়া এটি।
তবে যেহেতু একজন শিক্ষার্থী সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, ভার্সন, থানাভেদে পৃথক আবেদন করে, কাজেই তার আবেদনের সংখ্যার সমসংখ্যক ইউজার আইডি তৈরি হয়। ফলে তার বিদ্যালয়, ভার্সন ও থানাভেদে একাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে যেটা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিদ্যালয়ের জন্যই নির্বাচিত হয় না। ফলে সে সুযোগবঞ্চিত হয়। এতে কোনো কোনো পরিবারে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ারে; আবার সন্তানকে পছন্দের কিংবা মানসম্পন্ন কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সুযোগ না পাওয়ায় কোনো কোনো অভিভাবক ডোবেন হতাশায়। এটি একধরনের বৈষম্যই বলা যায়। কারণ, সব শিশুরই সমানাধিকার থাকা উচিত।
এই বৈষম্য কমানোর একটি উপায় আমার মাথায় এসেছে। আমি যেহেতু কারিগরি কিংবা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নই, কাজেই আমি নিশ্চিত নই, উপায়টা সহজে বাস্তবায়ন সম্ভব কি না অথবা আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কি না। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য উপায় বাতলে দেওয়া নয়, বৈষম্যটা ধরিয়ে দেওয়া। সরকার ও লটারিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে ‘সূক্ষ্ম বৈষম্যের’ বিষয়টি উপস্থাপন করা। আমার মাথায় আসা সম্ভাব্য সমাধানটা হলো, একজন শিক্ষার্থীর দুয়ের অধিক ইউজার আইডির ব্যবস্থা না রাখা। এ ব্যবস্থায় থানা ও ভার্সনভেদে পৃথক আবেদনের ব্যবস্থা না রেখে একটি আবেদনে যত খুশি ততটি বিদ্যালয়ে আবেদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শুধু সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে পৃথক আবেদনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এতে একজন আবেদনকারীর সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য একটি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য একটি ইউজার আইডি তৈরি হবে। ডিজিটাল লটারির সময় ডেটাবেইসে সংরক্ষিত ইউজার আইডিগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করবে। একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি বিদ্যালয়ের জন্য বাছাই হয়ে গেলে তার ইউজার আইডি লকড হয়ে যাবে। বাকি বিদ্যালয়গুলোর জন্য সেটি আর বিবেচনায় আসবে না। লটারিটা হবে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ, ‘ক’ বিদ্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ব্যবস্থা যখন সক্রিয় হবে, তখন এই বিদ্যালয়কে প্রথম পছন্দে রাখা শিক্ষার্থীদের ইউজার আইডি প্রথমে যাচাই করবে জিডিটাল ব্যবস্থা। সেই তালিকা থেকে বিদ্যালয়ের সব আসন পূরণ না হলে বিবেচনায় আসবে বিদ্যালয়টিকে দ্বিতীয় পছন্দে রাখা শিক্ষার্থীরা। আবার যেসব শিক্ষার্থী ‘খ’ বিদ্যালয়কে প্রথম পছন্দে রাখবে, এই বিদ্যালয়ের জন্য লটারির ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবস্থা তাদের আইডি প্রথমে বিবেচনায় নেবে।
এতে যেটা হবে, একজন শিক্ষার্থীর একাধিক বিদ্যালয়ে সুযোগের হার কমে আসবে, সম্ভাবনা বাড়বে কোনো সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের। আমি আগেই বলেছি, আমি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নই। কাজেই এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিশ্চিত নই। আমার শুধু উদ্বেগ, কোথাও সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে। সে ক্ষেত্রে তাদের সুযোগের হার শূন্য থেকে যতটা সম্ভব বাড়ানো যায়, সে ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন।

রাজনৈতিক হাওয়া উত্তপ্ত যখন, তখনই শীতের প্রকোপে বিহ্বল দেশ। দুদিন হালকা রোদ উঠলেও সূর্যের উত্তাপহীন হাড়কাঁপানো শীত এবার দেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। সামনে নির্বাচন, তা নিয়েই ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু এই নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
৩০ ডিসেম্বর রাতে বান্দরবান থেকে ফিরছিলাম। বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি লোকে লোকারণ্য। সবার গন্তব্য ঢাকা। কেউ বলছে, ‘মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করব’, কেউ বলছে, ‘নেত্রীকে এক ঝলক দেখব, শেষ দেখা’। সবার চোখ অশ্রুসিক্ত। ৩১ ডিসেম্বর সকালে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হলো না। কারণ, রাস্তাজুড়ে গাড়ি আর গাড়ি।
৩ ঘণ্টা আগে
সবাইকে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরটি শুভ হোক, কল্যাণকর হোক—এই আশা এ দেশের প্রত্যেক মানুষই করবে। আমরাও আমাদের পাঠক, গুণগ্রাহী, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্টসহ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবার জীবনে নতুন বছর শান্তির পরশ বুলিয়ে দিক।
১ দিন আগে
নতুন বছর ২০২৬-কে সুস্বাগত। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে গেল, সময় এগিয়ে গেল আরেক ধাপ। পৃথিবীর কাছে যদি জিজ্ঞাসা করো সে কবি নাজিম হিকমতের ভাষায় হয়তো বলবে, একটি বছর অণুমাত্র কাল। তবে মানুষের জীবনে একটি বছর মিনিট-সেকেন্ডের এক বিশাল ব্যাপ্তি।
১ দিন আগে