সবাইকে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরটি শুভ হোক, কল্যাণকর হোক—এই আশা এ দেশের প্রত্যেক মানুষই করবে। আমরাও আমাদের পাঠক, গুণগ্রাহী, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্টসহ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবার জীবনে নতুন বছর শান্তির পরশ বুলিয়ে দিক।
বাংলাদেশের জন্য গত বছরটি ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ একটি বছর। এত বেশি রাজনৈতিক ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির গন্তব্য কোন দিকে, সে প্রশ্নটিও আড্ডায়, রকে-রেস্তোরাঁয়, পরিবারে, স্বজন সমাবেশে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে বৃহৎ পরিসরেও। একটি সফল নির্বাচন এই প্রশ্নটির কতটা মীমাংসা করতে পারে, তা এখনই বলে দেওয়া যায় না। তবে এ কথা ঠিক, দেশ এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনটি কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু রাজনৈতিক স্বাস্থ্যের ওপর দেশের মানুষের ভালো থাকা-মন্দ থাকা নির্ভর করে না। কেমন আছে কৃষি, কেমন আছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কেমন আছে শিক্ষা, কেমন আছে খেলাধুলা, কেমন আছে দেশের নারীরা, কেমন আছে সামাজিক সম্পর্ক—এই ধরনের অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা করলে দেশের প্রকৃত স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়গুলো জনগণকে স্বস্তি দিতে পারছে কি না, সেটা জনগণ নিজের মতো করেই অনুধাবন করছে। তাই, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি-শিক্ষা মিলে দেশের যে পূর্ণাঙ্গ একটি চিত্র ফুটে ওঠার কথা, এ বছর সে চিত্রটির অপেক্ষায় থাকবে দেশের অগণন জনগণ। প্রত্যেকেরই চাওয়া থাকবে হানাহানি, ঘৃণা, পারস্পরিক অবিশ্বাসকে হারিয়ে দিয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
নতুন বছরে রাজনৈতিক পরিপক্বতা, বিচক্ষণতার প্রতি আস্থা আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে, কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে সেই কথার অভিঘাত কী হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সবার কাছে আমরা কোন পরিচয়ে পরিচিত হচ্ছি, সে কথা ভাবা প্রয়োজন। হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত এ সময় বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব যাদের ওপর বর্তাবে, তাদের উচিত হবে বুঝে-শুনে দেশের কল্যাণের স্বার্থে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২০২৬ সালে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর সর্বত্রই আধিপত্য নিয়ে যে সূক্ষ্ম লড়াই চলছে, তা কারও নজর এড়াচ্ছে না। সর্বত্রই উগ্রতা এসে ঢেকে দিতে চাইছে মানবতাবাদকে। ধর্মে-ধর্মে, জাতিতে-জাতিতে, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে বিভেদ এসে বিপর্যপ্ত করে তুলেছে পৃথিবী। এই উগ্রতা ও আধিপত্যবাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য শান্তিকামী মানুষের ঐক্যের বিশেষ প্রয়োজন। ২০২৬ সাল সারা বিশ্বে শান্তিকামী মানুষেরা এক হয়ে উগ্রতার হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর শপথ নিক।
দমন-নিপীড়ন চালানো হলে ফুঁসে ওঠে মানুষ। জোর করে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তার ফল যে ভালো হয় না, জনগণই যে তার মোক্ষম জবাব দেয়, তার উদাহরণ নিকট অতীতে আছে। তাই জনগণের জন্যই পরিচালিত হোক এ দেশের রাজনীতি, জনগণকে ভুল বুঝিয়ে দেশকে অনিশ্চয়তার মধ্যে না ফেলা হোক।
শুভ নববর্ষ।

আলতাফ পারভেজ লেখক ও গবেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনঃপাঠ’, ‘বার্মা: জাতিগত সংঘাতের সাত দশক’, ‘শ্রীলঙ্কার তামিল ইলম’, ‘গ্রামসি ও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা’ প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই।
১ দিন আগে
নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিশোরীটি ১৫ দিন আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাইতে গেলে সেই ইউপি সদস্য মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন।
১ দিন আগে
নবনিযুক্ত আইজিপি মব মোকাবিলার বিষয়ে কথা বলেছেন। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আইজিপির বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হলো, বিগত সময়টিতে মব সংস্কৃতি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখন সত্যিই সবার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি করেছে। অন্তত আইজিপি সেটা স্বীকার করেছেন।
২ দিন আগে
একটি গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তারা দেড় বছরের এলেবেলে শাসন চালিয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তার পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন।
২ দিন আগে