
‘নিজে এক বেলা না খাইলেও সমস্যা নাই, কিন্তু বাড়িত তো কিছু না কিছু পাঠাইতেই অইব। বাড়িত ঈদের পোশাক তো দিতে অইব। আমার লাইগা কিছু লাগে না, বাড়ির মানুষগুলা ভালো থাকলেই অয়। নিজে কষ্টে থাকলেও মায়রে কষ্ট দিবার পারি না।’ চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রডমিস্ত্রি আরিফ হোসেন।
১৮ বছরের এই যুবকের বাড়ি বরিশালের বরগুনায়। জীবিকার তাগিদে তিনি চার বছর আগে ঢাকায় রডমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন। গতকাল রাজধানীর গুলিস্তান মোড়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আরিফ বলেন, ‘আমার যা লাগুক না লাগুক, মায়ের ওষুধ আর খাওনের টাকা আগে। প্রতি মাসে তাঁর জন্য ওষুধ কেনা লাগে। আবার সামনে ঈদ। সেমাই, চিনি, তেল, মসলা, চাল-ডাল ও পোশাকের জন্য বাড়িত পাঁচ হাজার টাহা পাঠান লাগছে।’
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে আরিফ দ্বিতীয়। দরিদ্র পরিবার ও আর্থিক অনটন থাকায় দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন বলে জানান। বাবা পেশায় একজন জেলে। অন্যত্র বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীকে খরচাপাতি দেন না। কথার ফাঁকে নিজের হাত দেখিয়ে আরিফ বলেন, ‘কাজ করতে করতে হাতে ফোসকা পড়েছে, দেখেন!’ তিনি বলেন, ‘বাপে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অসুস্থ মা আমার কাছে থাকেন। সারা দিন রড বাঁধনের কাম কইরা যা আয় অয়, তার পুরাডাই চলে যায় বাড়ির মানুষের লাইগা। টাকা ধার নিয়ে নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি কিনেছি। গতকাল এক বন্ধু টি-শার্ট কিনে দিয়েছেন।’
রাজধানীর নিউমার্কেট ও গুলিস্তানে গতকাল সরেজমিনে কয়েকজন ক্রেতা এমন কষ্টের কথা জানান। হাসপাতালের এক কর্মচারী নাজমা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কাল থেকে আমরা ছুটি পাব। সাড়ে চার হাজার টাকার জামাকাপড় কিনে বাড়ি পাঠিয়েছি। নিজের জন্য কিছু কিনেছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এবার ঈদ ঢাকায় করব। আমার পরিবার ও বাচ্চারা খুশি থাকলেই আমি খুশি। ওদের ঈদ মানে আমার আনন্দ।’
এদিকে নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটছেন অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত অনেকে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গুলিস্তান এবং তার আশপাশ এলাকাগুলোতে দেখা গেছে ভিড়। অনেকে ট্রেন, বাস বা লঞ্চ ধরার আগে পরিবারের জন্য পোশাক, জুতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ছুটছেন দোকানে দোকানে।
বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় শেষ সময়ে বেচাকেনা বেড়েছে কয়েক গুণ। তাঁদেরই একজন তারিফ আহমেদ বলেন, ‘বাসায় যাচ্ছি। কিছু কেনাকাটা বাকি আছে, সেগুলো যাওয়ার পথে কিনে নিচ্ছি।’
পোশাক বিক্রেতা শরিফ উদ্দীন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে যা বিক্রি করেছেন, এই দুদিনেই এর সমান বিক্রি হবে বলে আশা তাঁর।
শেষ সময়ে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ছেলেদের পাঞ্জাবি, মেয়েদের থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসবের দাম ৩০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
দোকানের মালিক রনি বলেন, গতবার দিনে গড়ে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছিল। এবার আশাব্যঞ্জক নই। তবে এ কয়দিন বেচাবিক্রি যেহেতু বেশি হচ্ছে, তাই কম লাভ হলেও সেল দিচ্ছি।
ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুর রহমান টিপু আজকের পত্রিকাকে বলেন, বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার পোশাক বেচাকেনা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।
খুব বেশি দামে একটি পাঞ্জাবি না কিনে সেই টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কথা বলেন সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ভোগের চেয়ে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, জাকাত দেওয়া এবং দুস্থদের সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি করা উচিত।’

জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের সময়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মূল কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন বা হালনাগাদ করা যাবে।
৯ মিনিট আগে
দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক পর্যটন উন্নয়নে দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ...
২৭ মিনিট আগে
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
২ ঘণ্টা আগে
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়; প্রয়োজনে তা পরিবর্তনযোগ্য। সরকারের কোনো কাজে ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে।
২ ঘণ্টা আগে