
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এক চা-বাগানের শ্রমিক কলোনি, কুঁড়েঘর, সীমিত আয়, প্রতিদিনের সংগ্রাম—সেই বাস্তবতার মধ্যেই বেড়ে ওঠা হরিবল বোনার্জির। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তাঁকে। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। অদেখা পৃথিবীকে জানার আগ্রহ আর এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হরিবলকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শ্রীমঙ্গলের হুগলিছড়া চা-বাগানের শ্রমিক অনিল বোনার্জি ও বিশাখা বোনার্জির সন্তান হরিবল। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে শুনতে হয়েছে—‘অন্ধ ছেলে দিয়ে কী হবে? কত দূর যেতে পারবে ও?’ কিন্তু সেই কথাগুলোই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে প্রেরণা।
কখনো ব্রেইল পদ্ধতিতে, কখনো আবার বই কিনে অন্যকে দিয়ে রেকর্ড করিয়ে সেই অডিও শুনে পড়ালেখা করেছেন হরিবল। পরীক্ষার হলে নির্ভর করতে হয়েছে শ্রুতিলেখকের ওপর। এই নির্ভরশীলতা অনেক সময় হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
হরিবল বলেন, ‘পরীক্ষার সময় যদি শ্রুতিলেখক না পাই, এই আতঙ্ক সব সময় কাজ করে। মনে হয়, এত পড়েও কীভাবে পরীক্ষা দেব? লাস্ট মোমেন্টে (শেষ মুহূর্তে) যাঁকে পাই, তাঁকে দিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়।’ তবে সব অনিশ্চয়তা আর বাধা পেরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন হরিবল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন তিনি।
হরিবল জানান, মূলত দশম শ্রেণি পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতির বই পেয়েছেন। এর পর থেকে অন্যের রেকর্ড শুনে বা মোবাইলে বিভিন্ন সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ২০২১ সালে যখন নবম শ্রেণিতে পড়েন, সে সময় একজন শিক্ষক তাঁকে একটি স্মার্টফোন দিয়েছিলেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখনো সেই ফোনটি তাঁর সবচেয়ে বড় সঙ্গী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রেইল বই বা নোটের অভাবে স্মার্টফোনের টেক্সট টু স্পিচ (টিটিএস) প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয় হরিবলকে। কিন্তু তাঁর ব্যবহৃত ফোনটি পুরোনো হওয়ায় প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হরিবলের ডান চোখের কর্নিয়া স্বাভাবিকের তুলনায় খুবই ছোট। ফলে পর্যাপ্ত আলো প্রবেশ করতে পারে না। সামান্য যতটুকু প্রবেশ করে তার মাধ্যমে শুধু কোনো কিছুর উপস্থিতি বা আকৃতি বুঝতে পারেন তিনি। আর বাঁ চোখ একেবারেই দৃষ্টিশক্তিহীন। চোখে ক্যালসিয়াম জমে থাকা এবং শিরা সংকুচিত হওয়ার সমস্যায়ও ভুগছেন তিনি। প্রতিদিনই মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা তাঁর নিত্যসঙ্গী।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ৯ এপ্রিল ঢাকার একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে দেখানোর পর হরিবলকে বলা হয়েছে, ভারতে উন্নত চিকিৎসা, বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল কর্নিয়া ট্রান্সপ্লান্ট করলে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৪-৫ লাখ টাকা, যা তাঁর পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
হরিবল বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে এখানে আসছি। মানুষ অনেক কথা বলেছে। কিন্তু আমি থামিনি। যদি একটু দেখতে পেতাম, আমার আর কিছু লাগত না। আমি শুধু নিজের চোখে এই পৃথিবীটা দেখতে চাই।’

দেশ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় নীতিনির্ধারণে অনেক উন্নত দেশের মতো পরিপক্ব হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
১৪ মিনিট আগে
লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরি হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে। আর্টিফিশিয়াল ক্রাইসিস সৃষ্টি করা হয়েছিল। গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি বাপেক্স দিয়ে। ফেয়ার করা হয়েছিল তৌফিক সাহেবকে দিয়ে, যা ছিল সম্পূর্ণ ব্লাফ। কুইক রেন্টাল দিয়ে কুইক ডিস্ট্রয় করা হয়েছিল দেশকে। সেই বোঝা দেশ বহন করছে...
২৩ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার সংসদে জামালপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
৪০ মিনিট আগে
জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, এসব আইন পুনরায় পর্যালোচনা করে অধিকতর মানবাধিকার নিশ্চিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুযোগ রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে