Ajker Patrika

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় নীতিনির্ধারণে পরিপক্ব হতে পারেনি দেশ: তথ্যমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৫০
গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় নীতিনির্ধারণে পরিপক্ব হতে পারেনি দেশ: তথ্যমন্ত্রী
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় নীতিনির্ধারণে অনেক উন্নত দেশের মতো পরিপক্ব হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) আয়োজিত এক কর্মশালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ুসংক্রান্ত অভিবাসীদের অভিযোজনগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন সমাধান’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট ও সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অনেক দুর্বলতায় সমাজ, অর্থনীতি ও সভ্যতার এমন গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় আছে, যা খুব একটা ভালোভাবে বোঝা যায়নি অথবা বোঝার সময় পাওয়া যায়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়ার কারণে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অনেক উন্নত দেশের মতো পরিপক্ব হতে পারেনি দেশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই অজুহাতে কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না।...আমরা ক্ষমতায় আসার আগেই সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্র এবং কাঠামোর মধ্যে অনেক সমস্যাকে চিহ্নিত করেছি। এটা একটি বিগত দিনের রাজনীতির সঙ্গে বর্তমান রাজনীতির গুণগত পার্থক্য এবং বিগত দিনের সরকারপ্রধান অথবা সরকারের সঙ্গে আমাদের সরকারের একটা গুণগত পার্থক্য। জনমানুষের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যাঁরা বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসছেন, তাঁদের সমস্যাকে কেবল মানবিক বা আপৎকালীন সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জননীতির (পাবলিক পলিসি) গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তিনি বলেন, এই অভিবাসনপ্রক্রিয়াকে চলমান উন্নয়নপ্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞানের নানা ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে এমন কোনো গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি, যেখানে সমস্যা হলে পরে আমরা সবাই মিলে চলে যাব। তাই, পথ একটাই খোলা আছে। এই গ্রহকে বাসযোগ্য করতে হবে। বাসযোগ্য রাখতে হবে।’

কর্মশালায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সরকারের লক্ষ্য। সেটা আবার রাতারাতি করা যাচ্ছে না। এর জন্য উপযোগী একটা ব্যবস্থা দরকার। আমরা বলেছি, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে আমরা পৌঁছাতে চাই। কিন্তু সেটা ধারণ করার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা, মানে আইনকানুন সেই জায়গাগুলোয় থাকতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনসক্ষমতা থাকতে হবে।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরএমএমআরইউর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। গবেষণার যুক্তি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের আঞ্চলিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. সিদ্দিকী বলেন, খুলনা বা অন্যান্য অঞ্চলের শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসছে। যদি বিভাগীয় শহর বা জেলা পর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রি ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং রিজওনাল গ্রোথ সেন্টার তৈরি করা যায়, তবে মানুষ নিজের এলাকায়ই তাঁদের আয় বাড়াতে পারবেন। অভিবাসীরা কেবল অর্থনৈতিক কারণেই আসেন না, বরং অনেকে রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতেও শহরমুখী হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের গবেষণা উপদেষ্টা ড. ফ্রাঙ্ক ভলমার দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য নিয়ে একটি উপস্থাপনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অভিবাসন ও সুরক্ষাবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা-তানিতা গ্রেমিঙ্গারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। কর্মশালায় যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য এবং অভিবাসীদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন নিশ্চিতে নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত