Ajker Patrika

আন্দোলনের সময় নানক-তাপসের হাতে অস্ত্র ছিল: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৩৮
আন্দোলনের সময় নানক-তাপসের হাতে অস্ত্র ছিল: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি
জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলে নূর তাপস। ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইলের মা। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে ইসমাইলের মা জানান, তাঁর ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন। ওই দিন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশায় করে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছেলের কাছে যাওয়ার সময় রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখেন। সে সঙ্গে কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বিপ্লব—তাঁদের হাতে অস্ত্র দেখতে পান তিনি।

গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে গত ১০ মে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৮ আসামির মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপসসহ ২৪ জন পলাতক। গ্রেপ্তার আছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। আসামিদের মধ্যে নানক, তাপস ছাড়াও অন্যদের মধ্যে ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।

জবানবন্দিতে ইসমাইলের মা জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন তাঁর ছেলে। সন্ধ্যার পর ইসমাইলকে তাঁর খালা আকলিমা ফোন করেন। তবে ইসমাইল ফোন ধরেননি। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তাঁর বন্ধু কালু ফোন ধরে বলেন, ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে ইসমাইলের মা, খালা, নানিসহ কয়েকজন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশায় ঢামেকের উদ্দেশে রওনা হন। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখেন তাঁরা। ওই সময় কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাপস, বিপ্লব—তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল। তাঁদের সামনেই একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ইসমাইলের মা আরও জানান, ঢামেকে যাওয়ার পর ছেলেকে খুঁজতে থাকেন তাঁরা। না পেয়ে কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকের কাছে জানতে চান ছেলের বিষয়ে। ওই সময় কর্তব্যরত এক চিকিৎসক মোবাইলে ছবি দেখান। ছবি দেখে তাঁরা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন। এরপর তাঁদের মর্গে নিয়ে গেলে ৩০০ থেকে ৪০০ লাশ দেখতে পান। একটার ওপর আরেকটা লাশ পড়ে ছিল। পরনের পোশাক দেখে ছেলেকে তিনি চিনতে পারেন। ছেলের মাথায় গুলি লেগেছিল। লাশ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের অনুমতি ছাড়া দিতে অস্বীকার করে। পরদিন মোহাম্মদপুর থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইসমাইলের লাশ বাসায় নিয়ে যান তাঁরা। লাশ নেওয়ার সময় মামলা করবেন না মর্মে হাসপাতাল থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত