Ajker Patrika

অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শামার, প্রমাণ চাইলেন নাহিদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ২৮
অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শামার, প্রমাণ চাইলেন নাহিদ
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি জানিয়ে বলেছেন, তিনি কোথাও দুর্নীতি করে থাকলে তার প্রমাণ দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এই অভিযোগ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি বা তাঁর ভাষণ অবৈধ হয়, তবে তৎকালীন সরকারও অবৈধ কি না, তা ভেবে দেখতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা যখন নতুন বাংলাদেশ ও নতুন প্রজন্মের কথা বলি, তখন শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার রাজনীতি আশা করি না। দেশের জন্য কাজ করতে হলে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিরোধী দলও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি সরকারে থেকে কাজ করতে হয়, তাহলে এক্সপেরিয়েন্স যেমন দরকার, সাহস সে রকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও সে রকম দরকার। কারণ, বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল, যে ফেসবুকে রাজনীতি করে না; তারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে খেটে রাজনীতি করে। শুধু বট বাহিনী দিয়ে, স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে, আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি একাত্তর সালে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া থাকত, তাহলে দেশ স্বাধীন হতো কি না, আমরা জানি না।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আমি আমার সামনে বসা সংসদ সদস্য নাহিদ ও হাসনাতদের সেন্টিমেন্ট রিলেট করি; আমরাও চাই, আমাদের সন্তানেরা এমন এক নতুন বাংলাদেশে বসবাস করুক, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, খুনের বিচার হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা যদি কাদা-ছোড়াছুড়ি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে এই পার্লামেন্ট থেকেই গুণগত উন্নয়নের সূচনা হবে।’

শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। আমি সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলাম, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলও (বর্তমান আইনমন্ত্রী) ছিলেন। আমি নির্বাচনের অনেক আগেই পদত্যাগ করেছি।’

নাহিদ বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ যেহেতু উনি বললেন, তাঁরা সরকারে আছেন, তাঁদের এটা প্রমাণ করতে হবে। এটা জাতীয় সংসদে যেহেতু বলেছেন, প্রমাণ দিতে হবে। নাহিদ ইসলামের নামে কী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন, সে প্রমাণ আমি তাঁদের কাছে চাচ্ছি।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কারও নাম বলেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত