Ajker Patrika

ট্রাইব্যুনালে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন হাসিন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ট্রাইব্যুনালে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন হাসিন
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। জবানবন্দিতে তিনি জেআইসিতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাসিনুর রহমান এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় ২৭ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

এই মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১২ জনই বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার থাকা তিনজন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকিরা পলাতক।

জবানবন্দিতে বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমান (বীর প্রতীক) বলেন, লে. কর্নেল পদে সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ৯ জুলাই তিনি গুম হন। ঢাকার আর্মি ইন্টারোগেশন সেলে তাঁকে ৪৩ দিন চোখ ও হাত বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। পরে অফিসার্স মেসে নেওয়া হয়। বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানতে দেওয়া হয়নি। কোর্ট অব ইনকোয়ারি করে অভিযোগ আনার পর কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হরকাতুল জিহাদ নামের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। ২০১৪ সালে ইকবাল করিম ভূঁইয়া সেনাপ্রধান হলে তাঁর নির্দেশে তিনি মুক্তি পান।

হাসিনুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট তাঁকে আবার গুম করা হয়। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় রাখা হয় ডিজিএফআইয়ের ‘আয়নাঘরে’। তাঁকে যে রুমে রাখা হয়, সেটি ছিল ৮-১০ ফুট এবং স্যাঁতসেঁতে, নোংরা, ভয়াবহ। রুমে হাইভোল্টেজ বাল্ব জ্বলত। দেয়ালে রক্ত দিয়ে মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন তিনি সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে কেন লেখালেখি করেন, ২০১৮ সালের শেষের দিকে রাওয়া ক্লাবে কেন গিয়েছিলেন। তাঁকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়েছে। যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, সেভাবে কাজ না করলে গায়েব করে দেওয়া হবে।

হাসিনুর আরও বলেন, তাঁকে ওই ভবনের অপর একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়; যা আগের রুমের চেয়ে খারাপ ছিল। সেখানে বড় বড় দুটি এগজস্ট ফ্যান লাগানো ছিল। ওখানে ১০টি রুম ছিল। প্রতিটি রুম থেকে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত। সেখানে কাউকে কাউকে হত্যা করার জন্য র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হতো। তাঁকে যেখানে রাখা হয়েছিল, প্রহরীরা সেটাকে ‘আয়নাঘর’ বলত। এটি ছিল ডিজিএফআই সদর দপ্তরের ১৪ তলা ভবনের দক্ষিণ পাশে। সেখানে খাবার ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। বিছানার চাদর ও পোশাক ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রায়ই পাশের রুমগুলো খালি হয়ে যেত। বন্দীদের সরিয়ে ফেলা হতো। সেখানে নতুন বন্দী আনা হতো। প্রহরীরা বলত, যাঁদের নিয়ে যাওয়া হতো, তাঁদের ক্রসফায়ারের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিল পরিবার: বাগেরহাটের ডিসি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ কর্মী নেবে আরএফএল, বেতন ৪০ হাজার টাকা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শ্রমিক দল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল

‘গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি’

‘পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ থাকবে না’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত