ফারুক মেহেদী, ঢাকা

কঠিন সময়ে ভোক্তা আর সরকার উভয়েরই চাপের বাজেট আসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এক দিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে আয়ের চেয়ে বেশি খরচের ফর্দ নিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল আর নিত্যপণ্যের পেছনে বাড়তি ভর্তুকির দুশ্চিন্তা সরকারের। ডলারের মজুত ধরে রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, সরকারি খরচের লাগাম টানা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা বিষয়ে একূল সামলাতে গিয়ে ওকূলে টান পড়ছে।
এমন এক পরিস্থিতিতে সবার চোখ এখন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কালো ব্রিফকেসের দিকে। তাঁর ব্রিফকেসের মলাটবন্দী বাজেট বক্তৃতায় তিনি কী বার্তা লিখে রেখেছেন, যা শুনে সাধারণ মধ্যবিত্তের মধ্যে স্বস্তি এনে দেবে—এই প্রশ্ন সব মহলে। নাকি তিনি বড় খরচের হিসাব মেলাতে রাজস্ব আয়ের আড়ালে নিত্যপণ্যের সঙ্গে শুল্ক-কর-ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে মানুষের দিনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলবেন? তবে প্রশ্ন যা-ই হোক, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে আসছে বাজেটটি যে ভোক্তা কিংবা সরকার কারও জন্যই স্বস্তিকর নয়—এ ব্যাপারে অনেকটাই একমত বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদেরা। তাঁরা মনে করেন, চাপে থাকা সাধারণ মানুষ নতুন অর্থবছরে আরেকটু চাপে পড়তে পারে। তাই সরকারের উচিত হবে বাজেটে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া।
এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আজিজুর রহমান বলেন, বাজেটে কিছু করুক না করুক, বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের একটু দাম বাড়িয়ে দেওয়া একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। এর বাইরেও এবার জনগণের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কারণ এবার চারদিকে সমস্যা। তিনি বলেন, সরকার একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে সরকারকে যদি কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়, তাহলে এমনিতেই চাপে থাকা জনগণ আরেকটু চাপে পড়বে। এ ছাড়া তেমন গতি নেই। তবে সরকার সতর্ক আছে বলে মনে হয়। সামনে নির্বাচন আছে। যতটা পারা যায় জনগণকে ভালো রাখার চেষ্টা করবে।
গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও সরকারের রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঋণ করে বড় আকারে একটা বাজেট দেওয়া সরকারের উচিত হবে না। বরং দরিদ্র মানুষকে একটু সহায়তা দেওয়ার জন্য আগামী বাজেটে সরকারের উচিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আকার ও প্রদত্ত টাকার পরিমাণ বাড়ানো। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে টিআর, কাবিখার মতো কিছু প্রকল্প নেওয়া এবং একই সঙ্গে খোলাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি আরও সম্প্রসারিত করতে হবে।
জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানে ক্লিক করুন
বাজেট তৈরির সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে মানুষ নতুন অর্থবছরে খরচের চাপে পিষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও সরকার যে খুব নির্ভার থাকবে, এমন নয়। কারণ নতুন অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বড় বাজেট দিলেও রাজস্ব আয়ে রাতারাতি কোনো সাফল্য আসবে না। তাই ধার করে খরচ মেটানোর লক্ষ্য। এর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীকে বিশ্ববাজার থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি তেল কিনতে হবে। এ ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় আমদানির পেছনে দেশের বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে। শিগগিরই এই ধারা কমে আসবে এমনটি আশা করা যায় না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ছে। যেহেতু রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে না, ধারের পরিমাণ বাড়ছে। এ জন্য ধারের বিপরীতে সুদ বাবদ টাকা গুনতে হবে। সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে দরিদ্র মানুষের খাওয়ানোর পেছনে খরচ বাড়বে। চারদিকের এসব চাপ সামলানো অর্থমন্ত্রীর জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই সম্পর্কিত পড়ুন:

কঠিন সময়ে ভোক্তা আর সরকার উভয়েরই চাপের বাজেট আসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এক দিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে আয়ের চেয়ে বেশি খরচের ফর্দ নিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল আর নিত্যপণ্যের পেছনে বাড়তি ভর্তুকির দুশ্চিন্তা সরকারের। ডলারের মজুত ধরে রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, সরকারি খরচের লাগাম টানা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা বিষয়ে একূল সামলাতে গিয়ে ওকূলে টান পড়ছে।
এমন এক পরিস্থিতিতে সবার চোখ এখন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কালো ব্রিফকেসের দিকে। তাঁর ব্রিফকেসের মলাটবন্দী বাজেট বক্তৃতায় তিনি কী বার্তা লিখে রেখেছেন, যা শুনে সাধারণ মধ্যবিত্তের মধ্যে স্বস্তি এনে দেবে—এই প্রশ্ন সব মহলে। নাকি তিনি বড় খরচের হিসাব মেলাতে রাজস্ব আয়ের আড়ালে নিত্যপণ্যের সঙ্গে শুল্ক-কর-ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে মানুষের দিনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলবেন? তবে প্রশ্ন যা-ই হোক, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে আসছে বাজেটটি যে ভোক্তা কিংবা সরকার কারও জন্যই স্বস্তিকর নয়—এ ব্যাপারে অনেকটাই একমত বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদেরা। তাঁরা মনে করেন, চাপে থাকা সাধারণ মানুষ নতুন অর্থবছরে আরেকটু চাপে পড়তে পারে। তাই সরকারের উচিত হবে বাজেটে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া।
এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আজিজুর রহমান বলেন, বাজেটে কিছু করুক না করুক, বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের একটু দাম বাড়িয়ে দেওয়া একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। এর বাইরেও এবার জনগণের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কারণ এবার চারদিকে সমস্যা। তিনি বলেন, সরকার একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে সরকারকে যদি কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়, তাহলে এমনিতেই চাপে থাকা জনগণ আরেকটু চাপে পড়বে। এ ছাড়া তেমন গতি নেই। তবে সরকার সতর্ক আছে বলে মনে হয়। সামনে নির্বাচন আছে। যতটা পারা যায় জনগণকে ভালো রাখার চেষ্টা করবে।
গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও সরকারের রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঋণ করে বড় আকারে একটা বাজেট দেওয়া সরকারের উচিত হবে না। বরং দরিদ্র মানুষকে একটু সহায়তা দেওয়ার জন্য আগামী বাজেটে সরকারের উচিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আকার ও প্রদত্ত টাকার পরিমাণ বাড়ানো। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে টিআর, কাবিখার মতো কিছু প্রকল্প নেওয়া এবং একই সঙ্গে খোলাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি আরও সম্প্রসারিত করতে হবে।
জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানে ক্লিক করুন
বাজেট তৈরির সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে মানুষ নতুন অর্থবছরে খরচের চাপে পিষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকলেও সরকার যে খুব নির্ভার থাকবে, এমন নয়। কারণ নতুন অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বড় বাজেট দিলেও রাজস্ব আয়ে রাতারাতি কোনো সাফল্য আসবে না। তাই ধার করে খরচ মেটানোর লক্ষ্য। এর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীকে বিশ্ববাজার থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি তেল কিনতে হবে। এ ছাড়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় আমদানির পেছনে দেশের বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে। শিগগিরই এই ধারা কমে আসবে এমনটি আশা করা যায় না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ছে। যেহেতু রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে না, ধারের পরিমাণ বাড়ছে। এ জন্য ধারের বিপরীতে সুদ বাবদ টাকা গুনতে হবে। সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে দরিদ্র মানুষের খাওয়ানোর পেছনে খরচ বাড়বে। চারদিকের এসব চাপ সামলানো অর্থমন্ত্রীর জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই সম্পর্কিত পড়ুন:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচার চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই প্রচার যেন নামকাওয়াস্তে। প্রচারকাজে অংশ নেওয়া ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান শুধু শহর এলাকাতেই ঘুরছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি না যাওয়ায় বেশির ভাগ ভোটার এই প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১২২টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। মঙ্গলবার ইসির আইন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মাইনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
৮ ঘণ্টা আগে
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ, সক্ষমতা—এমনকি সদিচ্ছারও ঘাটতি স্পষ্ট।
৯ ঘণ্টা আগে
শুনানি শেষে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
১০ ঘণ্টা আগে