Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

সাক্ষাৎকার ড. এম মশরুর রিয়াজ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ

আজ ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ঘোষণা আসছে। কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে দেওয়া হচ্ছে এ বাজেট। কেমন হওয়া উচিত নতুন এ বাজেট? এসব বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সাবেক সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মশরুর রিয়াজ।

 

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ১৭:৪৪

ড. এম মশরুর রিয়াজ বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ কী কী? 

ড. এম মশরুর রিয়াজ: কোভিডের কারণে সারা বিশ্বের মতো আমাদের অর্থনীতিও চাপে আছে। এবারের বাজেটটা যে পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হচ্ছে, তার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনা করা। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে আমাদেরও এই ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে। আগামী ছয় থেকে আট মাস মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বব্যাপী বেশ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী এবং জ্বালানি আমাদের চলতি বছরজুড়ে ভোগাবে। শিল্প খাতেও এই মূল্যস্ফীতির ঢেউ আছড়ে পড়বে। ফলে কাঁচামালের দাম বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে উৎপাদন খরচ। এই বিষয়গুলো ব্যবস্থাপনা করাই সরকারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয় হবে। 
স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাজেটে কী ব্যবস্থা চাইছেন?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ এমনিতেই চাপে আছে। এই বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যপণ্যে আর্থিক সহায়তামূলক প্যাকেজ থাকতে হবে। সরকার ভর্তুকি মূল্যে যে খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে, তার আকার আরও বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে আর্থিক সাহায্য প্রকল্প স্বল্প সময়ের জন্য হলেও চলমান রাখতে হবে। 
জ্বালানি পণ্যে ভর্তুকি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতি একসঙ্গে সচল হওয়ার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকারের ব্যয় কয়েক গুণ বাড়বে। তবে সরকারের উচিত হবে না জ্বালানির মূল্য আগামী ছয় মাসে বাড়ানো। জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ালে এর প্রভাব পড়বে কৃষিজে পণ্য উৎপাদনে। কৃষি উৎপাদনে খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। এই বাজেটে জ্বালানির জন্য বাড়তি ভর্তুকি সরকারকে দিতেই হবে। একই সঙ্গে সার, ডিজেলের ভর্তুকিও অব্যাহত থাকতে হবে। কৃষিপণ্যের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর যাতে দাম না বাড়ে, এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। 
ডলারের সংকট কাটানোর উপায় কী?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: ডলারের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় সবই আমদানি করতে হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় একটা অংশ আমাদের আমদানি করতে হয়। পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে হয়। এই পণ্যগুলোর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি সব জায়গায় একযোগে চালু হওয়ার কারণে আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। আমদানি ব্যয় যা বেড়েছে, তা আমাদের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় দিয়ে পেরে উঠছে না। তাই ডলারের দাম বাড়ছে। ডলারের চাহিদা কমাতে হলে সরকারকে বিলাসবহুল অপ্রচলিত পণ্যের ওপর আরও বেশি হারে ভ্যাট আরোপ করতে হবে। 
টাকার মান বাড়াতে ব্যাংকের সুদের হারে কি পরিবর্তন আনা দরকার?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: টাকার মান ধরে রাখতে সরকারকে ব্যাংকের সুদের হার বাড়াতে হবে। বর্তমান ৯ শতাংশ সুদের হারের কারণে ডলারের বিপরীতে আমরা টাকার মান হারাচ্ছি। সুদের হার বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে টাকা আরও বেশি আকর্ষণীয় হবে। এবারের বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫ শতাংশ হারে দেওয়া প্রণোদনা কমিয়ে বরং ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়ালে সুফল বেশি আসবে। রেমিট্যান্সে ভর্তুকি না দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে দিলে আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও বেশি সহজলভ্য করতে হবে, যাতে আমাদের ডলারের প্রবাহটা বাড়ে। 
রপ্তানি বাড়াতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: আগামীতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়তে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের অর্থনীতিতে মন্দা আসার আশঙ্কা আছে। ইউরোপে মন্দা দেখা দিলে আমাদের রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। রপ্তানিশিল্পে জড়িত খাতকে আরও বেশি প্রণোদনা দিতে হবে। পোশাক রপ্তানির ওপর যেমন ১২ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে, তা সব রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে সমান করতে হবে। আমাদের রপ্তানি খাতকে সব দিক দিয়ে সাহায্য করতে হবে। 

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?

ড. এম মশরুর রিয়াজ: কোভিডের কারণে অনেকের চাকরি চলে গেছে। আমরা কোভিড-পরবর্তী ভালোই করছিলাম। এর মধ্যে চলে এসেছে বৈশ্বিক টালমাটাল অবস্থা। কোভিডের কারণে যেসব জায়গায় কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা আবারও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। 

জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানে ক্লিক করুন

এই সম্পর্কিত পড়ুন:

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    সাড়ে ৭% ছাড়াল মূল্যস্ফীতি, বেশি চাপে গ্রামের মানুষ

    বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে বাজেট পাস

    সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশে ৮৬৭ বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলেছে

    সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে সম্পূরক বাজেট পাস

    টাকা পাচারকারীদের দায়মুক্তি অবৈধ উপার্জন উৎসাহিত হবে: পীর ফজলুর রহমান

    ‘গরিব হওয়া যে কত কষ্টের সেটা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি’

    বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

    দুর্গাপূজায় কোনো অঘটন চায় না সম্প্রীতি বাংলাদেশ 

    ইভিএম বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল, অন্তরে ঠিকই বিশ্বাস করে: ইসি আলমগীর

    মরদের রাস্তায় এনে গ্রামবাসীর মানববন্ধন, আসামি গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

    মরিয়ম মান্নানকে অনলাইনে ‘হেনস্তাকারীরা’ সিআইডির নজরে

    হাসপাতালে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসকসহ আটক ২