৩ নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন

২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন ছিল ‘সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত’। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আজ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সময় স্বল্পতার কারণে ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বার্থে ভবিষ্যতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় তদন্ত কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন; সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, রিজওয়ানা হাসান ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন নেয়। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশ নেয়।
২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে একধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা নির্বাচন সেল নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচনব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কীভাবে একটি পেশাদার রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে ব্যক্তিগত ও দলীয় ‘পৈশাচিক লাঠিয়াল বাহিনীতে’ রূপান্তর করা হয়েছিল, তার এক রোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান।
২ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের প্রেক্ষিতে অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
২ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নেবে।
৪ ঘণ্টা আগে