Ajker Patrika

কমিশনের প্রতিবেদন

তিন সংসদ নির্বাচনে জবরদখল হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তে

  • প্রশাসন, পুলিশ, ইসি, গোয়েন্দাদের একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
  • নির্বাচন ডাকাতি যাতে আর কখনো না ঘটে সে ব্যবস্থা করতে হবে: ড. ইউনূস
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩: ০৪
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেয় জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। ছবি: প্রেস উইং
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেয় জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। ছবি: প্রেস উইং

নির্বাচন ডাকাতি যাতে আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল সোমবার জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিশনের সদস্যরা আলোচনা করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিশনপ্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, কমিশন সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম। সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে, এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। কিছু করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য যারা যারা জড়িত ছিল তাদের চেহারাগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল, সেটা জানতে হবে। নির্বাচন ডাকাতি যাতে আর কখনো না ঘটতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে একধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। আর ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয় বলে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা নির্বাচন সেল নামে পরিচিতি লাভ করে।

২০১৪-২৪ পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।

প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে; নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির একটি ব্যবস্থা থাকা জরুরি—যাতে কমিশন স্বেচ্ছাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে না পারে। এ জন্য একটি স্থায়ী নির্বাচন তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের কমিশন গঠনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার মাত্রা যাতে কোনোভাবেই খর্ব না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে সংবিধান ও আইনে আলাদা সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠনসহ বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

ডামি ও বিনা ভোটের নির্বাচন বন্ধ করতে সুপারিশে বলা হয়, ‘নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রমে সকল গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা বন্ধ করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন যদি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো কাজে তাদের সহায়তা গ্রহণ প্রয়োজনীয় মনে করে, তবে তা নিতে পারবে।’ এ ধরনের বিধান প্রণয়ন করা যেতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে বলা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। দল ও প্রার্থীর জন্য নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা শুধু নির্বাচনকালীন প্রযোজ্য বিধায়, সরকারি অর্থে পরিচালিত এ কার্যক্রম বন্ধ করা যায় না। এতে নির্বাচনের মাঠ অসমতল থাকে। তাই এ ধরনের প্রচারণা বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে—প্রশাসন ক্যাডার থেকে কোনো কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের বাইরে থেকে সচিব নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণনয় করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশনের পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ করতে হবে। প্রণীত নির্বাচন সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে কারও অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন, অর্থাৎ নতুন করে কারও কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না। কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনোক্রমেই গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না।

দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ

বাসস জানায়, ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শুরু হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। রাজধানীর হোটেল লো মেরিডিয়েনে আয়োজিত সম্মেলনটি চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। গতকাল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইউজিসি। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট আটটি সেশন হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর ছাত্রীকে খুন করেন তার বাবার হোটেলের কর্মচারী: র‍্যাব

বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিল নতুন জরিপ

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে সৃষ্ট ধোঁয়াশা পরিষ্কার করল বিসিবি

‘বাংলাদেশকে নিয়ে তিনটি আশঙ্কা, ভারতে খেলার পরিস্থিতি নেই’

সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছালেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত