
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সমীক্ষা এবং অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে ভিন্ন ৪৬টি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদিত তালিকার বাইরে গিয়ে স্থাপন করা হয়েছে ৯টি কূপ (ডাগ ওয়েল)। এ ছাড়া ৮৮টি খাল অর্ধেক খনন করে ফেলে রাখায় ব্যাহত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। শতভাগ সরকারি অর্থায়নের এই প্রকল্পে এমন বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত তথ্য আমলে না নিয়ে টেবিল-চেয়ারে বসে প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরির কারণে বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে এই ধরনের বড় অসংগতি হয়েছে।
‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ নামে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত এই প্রকল্পে গত এপ্রিল পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬৭ শতাংশ। আর্থিক ব্যয় হয়েছে ৩৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতিবেদন বলছে, ভৌত অগ্রগতি দৃশ্যত সন্তোষজনক মনে হলেও প্রকল্পের মূল নকশা ও পরিকল্পনায় রয়েছে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় যে পরিমাণ খাল খননের সুপারিশ ছিল, ডিপিপিতে খালের দৈর্ঘ্য তার চেয়ে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কম দৈর্ঘ্যের খাল খনন করে উল্টো বেশি পরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অবাস্তব ও পরস্পরবিরোধী।
প্রকল্পটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে আইএমইডি। দেখা গেছে, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) ও খরচের ক্ষেত্রে মূল ডিপিপি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (ডিওএফপি) সংক্রান্ত নির্দেশনাবলি মানা হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে এক খাতের টাকা অন্য খাতে নিয়ে ‘আন্তখাত সমন্বয়’ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে ব্যয় করা হয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক অনিয়মের কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এক্সটার্নাল অডিটের পক্ষ থেকে ৭টি গুরুতর অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এখনো নিষ্পত্তি করতে পারেনি।
সরেজমিনে পরিদর্শনকারী দল বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখেছে। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বিদ্যুৎহীন পাম্প হাউস। বিদ্যুচ্চালিত এলএলপি (লো লিফট পাম্প) হাউস নির্মাণ করা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করায় সেগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়নি। কোটি টাকার অবকাঠামো মাঠে অলস পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সেচ অবকাঠামো নির্দেশিকায় যেকোনো সৌরবিদ্যুতে চালিত প্রকল্পের জন্য ‘বজ্রপাত সুরক্ষা ব্যবস্থা’ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই প্রকল্পে স্থাপিত মূল্যবান সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলগুলোতে কোনো বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আধুনিক ড্রিপ ও স্প্রিংকলার (বিভিন্ন গতিতে পানি দেওয়া) সেচব্যবস্থাকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও যন্ত্রগুলোকে শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে প্রকল্পের আওতায় ২৯৪টি খালের মোট ৪৭১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৮৮টি খাল আংশিক বা অর্ধেক খনন করে ফেলে রাখা হয়। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং উজান ও ভাটির কৃষকদের মধ্যে সেচের পানি পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। পরিদর্শন দলের সদস্যরা দেখেছেন, এই ৮৮টি খালের মধ্যে ১১টিই সমীক্ষা ও অনুমোদিত নকশার বাইরে।
আইএমইডির হয়ে সরেজমিন গিয়ে সাক্ষাৎকার ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস (আইটিএমসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকল্প তদারকির জন্য সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ই-পিএমআইএস সফটওয়্যারে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত ও সঠিকভাবে হালনাগাদ করা হয়নি। কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, এটি তদারকির প্রক্রিয়াকে অন্ধকারে রাখার শামিল। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ কারিগরি জনবলও তৈরি করা হয়নি।
আইএমইডির প্রতিবেদনে অনতিবিলম্বে প্রকল্পটির ডিপিপি সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি বিধি অমান্য করে যাঁরা ভিন্ন স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন এবং যাঁরা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক সমীক্ষা এবং নকশায় না থাকলেও ৪৬টি খাল পুনঃখনন ও ৯টি কূপ খননের কথা স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক নূরুল ইসলাম। তিনি এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি এবং উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদনক্রমে খাল খনন ও ডাগ ওয়েল স্থাপন নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের উচিত প্রকল্প প্রণয়নের আগেই সঠিকভাবে সমীক্ষা করা, যাতে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করতে না হয়। সঠিকভাবে সমীক্ষা না করে প্রকল্প নেওয়া হলে তার বাস্তবায়নে দেরি হয়, ব্যয়ও বাড়ে।
বছরের পর বছর সরকার এভাবে কাজ করে আসছে মন্তব্য করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর ফলে প্রকল্পগুলো সঠিক জবাবদিহির আওতায় আসে না।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরা হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে।

বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট ও পরিবেশগত বিরূপ অভিঘাতের মুখে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার জন্য জাতিসংঘের কাছে যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ...
৪ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল খনন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের প্রায় সব খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আরও ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। নতুন গঠিত স্থায়ী কমিটিগুলো হলো—মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত; শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত; বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত...
৫ ঘণ্টা আগে
নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর বিষয়ে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দীর্ঘ আইনি ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তখন তাঁকে থামিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ সদস্যের
৫ ঘণ্টা আগে