Ajker Patrika

হামের প্রাদুর্ভাব: রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু

  • টিকা ও সিরিঞ্জ শুক্রবারের মধ্যে উপজেলায় পাঠানো হবে
  • মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সব ছুটি প্রত্যাহার
  • ইপিআইয়ের নিয়মিত কর্মসূচির টিকার ঘাটতি রয়েছে
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
হামের প্রাদুর্ভাব: রোববার থেকে জরুরি
টিকাদান কর্মসূচি শুরু
প্রতীকী ছবি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকা ক্যাম্পেইন শুরুর কথা জানিয়েছে সরকার। দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম এই রোগের উপসর্গ নিয়ে চলতি বছরে ২ হাজারের বেশি শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫০টির বেশি শিশুর।

বেশ কয়েক মাস ধরে দেশে হামের টিকাসহ নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) দেওয়া শিশুদের টিকাগুলোর সংকট রয়েছে। তবে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য টিকা মজুদ রয়েছে। তা দিয়েই রোববার থেকে জরুরি টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তাঁর মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ‘জরুরি ক্যাম্পেইনের’ ঘোষণা দেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার এবং পরশুর (শুক্রবার) মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (হামে) উপজেলাগুলোতে আগামী দুই দিনের মধ্যে টিকা ও সিরিঞ্জ গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রোববার সকাল থেকে টিকাদান শুরু করা হবে।’

মন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সব ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাঁরা টিকা দেবেন, তাঁরা সবাই স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যতটা ভয়াবহভাবে মিজেলস (হাম) আমাদের আক্রমণ করেছে, আমরা তার চেয়ে দ্রুতগতিতে প্রতিহতের চেষ্টা করেছি। কিছু ক্যাজুয়ালটি (মৃত্যু) হয়েছে।

তবে অবশ্যই বলব, এটা আমাদের অনেকটা সার্থকতা—আমরা এটি যথাযথভাবে ম্যানেজ করেছি। আমরা ত্বরিৎগতিতে বেসরকারি খাত থেকে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছি, যা খুবই দরকার ছিল।’

ভাইরাসজনিত অতি ছোঁয়াচে রোগ হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের আওতায় ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত কর্মসূচিতে ৮৬-৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়। অর্থাৎ অন্তত ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যা জমে গিয়ে কয়েক বছর পর বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয় এবং হামের প্রকোপ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর ‘ফলো-আপ’ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হামের এক মাসের একটি ক্যাম্পেইন হয়েছিল। তবে সব শিশুকে তখন এর আওতায় আনা যায়নি। অসম্পূর্ণ অবস্থায় ক্যাম্পেইনটি শেষ করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) কাছ থেকে বিনা মূল্যে পাওয়া ২ কোটি ১৯ লাখ টিকার মজুত রয়েছে। অন্যদিকে ইপিআইয়ের টিকা কেনার জন্য ৬০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে টিকা কেনা হলে গ্যাভির কাছ থেকে নেওয়া টিকা প্রতিস্থাপন করা হবে। ক্যাম্পেইনের টিকা বিনা মূল্যে গ্যাভি থেকে পাওয়া যায়।

ইপিআই সূত্রে জানা যায়, তাদের নিয়মিত কর্মসূচির জন্য টিকার সংকট রয়েছে। ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয় হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা তার অন্যতম। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এই টিকার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ওই সময়ে হামের টিকার মোট চাহিদার মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। ইপিআইয়ের অন্য টিকাগুলোতেও সংকট রয়েছে।

হামের টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইনে ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে এবং বেশি উপদ্রুত ৬টি জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তবে নিয়মিত টিকাদানে ৯ মাসের আগে টিকা দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

হামের টিকা প্রয়োগের জন্য সিরিঞ্জের সংকট রয়েছে বলে চলতি সপ্তাহে ইপিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। ইপিআইয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সিরিঞ্জের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থায়ী টিকা কেন্দ্র ছাড়া অস্থায়ী কতটি টিকা কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে, কত শিশুকে টিকা দেওয়া হবে এবং কতজন কর্মী কাজ করবেন; সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।

দেশের ৫১টির বেশি জেলায় হামজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তি বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে ২ হাজার ২৯৫ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪২৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ এমনভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। তাদের মধ্যে ৯ জনের ক্ষেত্রে হামজনিত মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, হামের কারণে এ পর্যন্ত দেশে ৫০টির বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত