Ajker Patrika

ভোটের ইশতেহার বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে সরকার

  • স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯,৪০৯ কোটি করার প্রস্তাব
  • ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে
  • ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিদের সহায়তায় বরাদ্দ ১,০৬২ কোটি টাকা
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ভোটের ইশতেহার বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে সরকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর দেওয়া প্রথম জাতীয় বাজেটে ওই সব প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.০২%) করার প্রস্তাব করা হয়েছে; যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৫৮ %)।

জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আধুনিক ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ‘সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রেফারেল সিস্টেম’ যুক্ত থাকবে, যা ভুল চিকিৎসার হার কমাবে এবং চিকিৎসার উন্নত মান নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, নতুন করে আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই হবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের আর্থিক সুরক্ষা বলয়ের নিচে আনতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের (১ লাখ ২৬ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিরা প্রতিবছর ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এ বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাথমিক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে (চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা)। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষিবিমা ও ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টন মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য যৌথভাবে মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৬৩%) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হচ্ছে এবং মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতার জন্য ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধির এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া জুলাই শহীদদের পরিবার ও কর্মক্ষমতা হারানো জুলাই যোদ্ধাদের আবাসনের জন্য চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এই মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তরুণসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করতে প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত