মো. আরাফাত হোসেন

তরুণদের ভ্রমণ গন্তব্যে এখন পাহাড় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেকের সে পথে চলাচলের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানিও। তাই পাহাড়ে যাওয়ার আগে কিছু বিশেষ বিষয় জেনে রাখা ভালো। তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
কাদাময় পথে চলতে
কর্দমাক্ত উঁচু-নিচু পথে যাওয়ার সময় অবশ্যই পাহাড়ের গায়ে থাকা লতাপাতা বা গাছের ডাল ধরে চলার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি বাঁশ বা ট্রেকিং পোল সঙ্গে রাখুন। পাহাড়ে যাঁরা একদম নতুন যাচ্ছেন, তাঁরা অবশ্যই গ্রুপের শারীরিকভাবে শক্তসমর্থ সদস্য অথবা হোস্টের সহায়তা নিন। রাস্তা বেশি উঁচু আর পিচ্ছিল হলে দাঁড়িয়ে নামতে যদি ভয় লাগে, সে ক্ষেত্রে বসে বসে নামতে পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, কোনোভাবেই বসে স্লিপ কেটে কেটে নামবেন না। তাতে আপনার পেছনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। শান্তভাবে বসে বসে ধীরে ধীরে ছোট ছোট পা বাড়িয়ে সেই পথ অতিক্রম করুন।
পাহাড়ের গহিনে গেলে
পাহাড়ের গহিনে গেলে অবশ্যই সঙ্গে রশি রাখবেন। অনেক সময় বিভিন্ন ঝিরিতে পানি বেড়ে যায়। সঙ্গে লম্বা রশি থাকলে সহজে দলের অন্য সদস্যরা সেই রশি ধরে ঝিরি অতিক্রম করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রশিটিকে অবশ্যই কোনো গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখতে হবে।
বাড়তি নিরাপত্তার জন্য
বাড়তি নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে বিভিন্ন ঝিরি ও খুম নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন। ওজনে বেশ হালকা বলে এটি পরিবহনেও সমস্যা নেই।
হঠাৎ পিছলে গেলে
পা পিছলে গেলে চেষ্টা করতে হবে বসে পড়তে। এতে শরীর একই জায়গায় থাকবে। আর সেই সুযোগ না থাকলে অবশ্যই শরীর মাটিতে পড়ার আগে হাত দিয়ে সম্পূর্ণ ভর আটকে ফেলতে হবে। পিছলে পড়ে যাওয়ার সময় যেভাবেই হোক মাটি বা পাথরের ওপর পড়ে যাওয়া আটকাতে হবে। মাথায় যাতে আঘাত না লেগে, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এখন হাঁটু, কনুই এবং মাথার জন্য ওজনে হালকা অনেক হেলমেট ও গার্ড পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
প্রাথমিক প্রস্তুতি
» রেইন কভার বা প্লাস্টিকের বড় ব্যাগ সঙ্গে রাখতে হবে, যাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ব্যাগ ভিজে না যায়।
» কুইক ড্রাই কাপড়ের পোশাক নেবেন। এগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায়। সুযোগ পেলেই ভেজা কাপড় শুকিয়ে নেবেন।
» ব্যাগ বেশি বড় নেবেন না। ২০ থেকে ২৫ বা ৩০ লিটারের ব্যাগ নিতে পারেন। সঙ্গে ছোট আরেকটি ব্যাগপ্যাক রাখুন দরকারি কাগজ, টাকাপয়সা আর গ্যাজেট রাখার জন্য। ওয়াটারপ্রুফ হলে ভালো, নইলে পলিথিন পেঁচিয়ে নিন।
» দুই থেকে তিন দিনের ট্রিপের জন্য তিনটি টি-শার্ট ও প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট নেওয়া ভালো।
» ট্রেকিংয়ে ব্যবহার করা ভেজা পোশাক রাতে শুকাতে দিন। পরদিন সেটা পরেই ট্রেকিং করুন। রাতে ঘুমানোর জন্য এক সেট এবং ব্যাকআপ এক সেট পোশাক সঙ্গে রাখুন। অযথা বেশি কাপড় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
» জোঁক ও পোকামাকড়ের কামড় থেকে বাঁচতে ইনার পরুন। সঙ্গে লবণ রাখুন জোঁক ছাড়ানোর জন্য।
» দুর্গম পাহাড়ের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। তাই ফোনসহ অন্য ইলেকট্রনিকস গ্যাজেট চার্জ করতে পাওয়ার ব্যাংক রাখবেন। ঝিরিপথে ফোন পানিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আলাদা কভার সঙ্গে রাখুন।
» টর্চ বা হেড ল্যাম্প সঙ্গে রাখবেন, তাতে সন্ধ্যায় বা রাতে হাঁটতে সুবিধে হবে।
» প্রচুর শুকনা খাবার সঙ্গে রাখুন। সাধারণত ঝরনাগুলো দুর্গম জায়গায় হওয়ায় সারা দিন লেগে যায় যাতায়াতে। ফিরে এসে ভারী খাবার খাওয়ার আগে অনেকটা সময় ট্রেকিং করতে হয়। তাই শুকনা খাবার, যেমন ম্যাঙ্গো বার, চকলেট, পিনাট বার, খেজুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বাদাম, বিস্কুট ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।» মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে রাখুন মসকুইটো রিপেলেন্ট।
» সানগ্লাস, ক্যাপ, ফেসওয়াশ, সানস্ক্রিন সঙ্গে রাখুন। না হলে রোদে সানবার্ন হতে পারে।
» মাথাব্যথা, জ্বর, ঠান্ডা, মাইগ্রেনের ব্যথা, পেশি শিথিল করার মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ একটু বেশি করে সঙ্গে রাখুন।
» পার্বত্য এলাকা ভ্রমণ করতে অভিজ্ঞ গ্রুপ ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যেতে হবে। তারা স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ট্রিপ পরিচালনা করে।
» স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সহায়তা পেতে সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ফোন নম্বর রাখতে হবে।
লেখক: পর্যটক ও প্রতিষ্ঠাতা, বেঙ্গল ট্রেকার্স

তরুণদের ভ্রমণ গন্তব্যে এখন পাহাড় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেকের সে পথে চলাচলের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানিও। তাই পাহাড়ে যাওয়ার আগে কিছু বিশেষ বিষয় জেনে রাখা ভালো। তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
কাদাময় পথে চলতে
কর্দমাক্ত উঁচু-নিচু পথে যাওয়ার সময় অবশ্যই পাহাড়ের গায়ে থাকা লতাপাতা বা গাছের ডাল ধরে চলার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি বাঁশ বা ট্রেকিং পোল সঙ্গে রাখুন। পাহাড়ে যাঁরা একদম নতুন যাচ্ছেন, তাঁরা অবশ্যই গ্রুপের শারীরিকভাবে শক্তসমর্থ সদস্য অথবা হোস্টের সহায়তা নিন। রাস্তা বেশি উঁচু আর পিচ্ছিল হলে দাঁড়িয়ে নামতে যদি ভয় লাগে, সে ক্ষেত্রে বসে বসে নামতে পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, কোনোভাবেই বসে স্লিপ কেটে কেটে নামবেন না। তাতে আপনার পেছনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। শান্তভাবে বসে বসে ধীরে ধীরে ছোট ছোট পা বাড়িয়ে সেই পথ অতিক্রম করুন।
পাহাড়ের গহিনে গেলে
পাহাড়ের গহিনে গেলে অবশ্যই সঙ্গে রশি রাখবেন। অনেক সময় বিভিন্ন ঝিরিতে পানি বেড়ে যায়। সঙ্গে লম্বা রশি থাকলে সহজে দলের অন্য সদস্যরা সেই রশি ধরে ঝিরি অতিক্রম করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রশিটিকে অবশ্যই কোনো গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখতে হবে।
বাড়তি নিরাপত্তার জন্য
বাড়তি নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে বিভিন্ন ঝিরি ও খুম নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন। ওজনে বেশ হালকা বলে এটি পরিবহনেও সমস্যা নেই।
হঠাৎ পিছলে গেলে
পা পিছলে গেলে চেষ্টা করতে হবে বসে পড়তে। এতে শরীর একই জায়গায় থাকবে। আর সেই সুযোগ না থাকলে অবশ্যই শরীর মাটিতে পড়ার আগে হাত দিয়ে সম্পূর্ণ ভর আটকে ফেলতে হবে। পিছলে পড়ে যাওয়ার সময় যেভাবেই হোক মাটি বা পাথরের ওপর পড়ে যাওয়া আটকাতে হবে। মাথায় যাতে আঘাত না লেগে, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এখন হাঁটু, কনুই এবং মাথার জন্য ওজনে হালকা অনেক হেলমেট ও গার্ড পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
প্রাথমিক প্রস্তুতি
» রেইন কভার বা প্লাস্টিকের বড় ব্যাগ সঙ্গে রাখতে হবে, যাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ব্যাগ ভিজে না যায়।
» কুইক ড্রাই কাপড়ের পোশাক নেবেন। এগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায়। সুযোগ পেলেই ভেজা কাপড় শুকিয়ে নেবেন।
» ব্যাগ বেশি বড় নেবেন না। ২০ থেকে ২৫ বা ৩০ লিটারের ব্যাগ নিতে পারেন। সঙ্গে ছোট আরেকটি ব্যাগপ্যাক রাখুন দরকারি কাগজ, টাকাপয়সা আর গ্যাজেট রাখার জন্য। ওয়াটারপ্রুফ হলে ভালো, নইলে পলিথিন পেঁচিয়ে নিন।
» দুই থেকে তিন দিনের ট্রিপের জন্য তিনটি টি-শার্ট ও প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট নেওয়া ভালো।
» ট্রেকিংয়ে ব্যবহার করা ভেজা পোশাক রাতে শুকাতে দিন। পরদিন সেটা পরেই ট্রেকিং করুন। রাতে ঘুমানোর জন্য এক সেট এবং ব্যাকআপ এক সেট পোশাক সঙ্গে রাখুন। অযথা বেশি কাপড় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
» জোঁক ও পোকামাকড়ের কামড় থেকে বাঁচতে ইনার পরুন। সঙ্গে লবণ রাখুন জোঁক ছাড়ানোর জন্য।
» দুর্গম পাহাড়ের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। তাই ফোনসহ অন্য ইলেকট্রনিকস গ্যাজেট চার্জ করতে পাওয়ার ব্যাংক রাখবেন। ঝিরিপথে ফোন পানিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আলাদা কভার সঙ্গে রাখুন।
» টর্চ বা হেড ল্যাম্প সঙ্গে রাখবেন, তাতে সন্ধ্যায় বা রাতে হাঁটতে সুবিধে হবে।
» প্রচুর শুকনা খাবার সঙ্গে রাখুন। সাধারণত ঝরনাগুলো দুর্গম জায়গায় হওয়ায় সারা দিন লেগে যায় যাতায়াতে। ফিরে এসে ভারী খাবার খাওয়ার আগে অনেকটা সময় ট্রেকিং করতে হয়। তাই শুকনা খাবার, যেমন ম্যাঙ্গো বার, চকলেট, পিনাট বার, খেজুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বাদাম, বিস্কুট ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।» মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে রাখুন মসকুইটো রিপেলেন্ট।
» সানগ্লাস, ক্যাপ, ফেসওয়াশ, সানস্ক্রিন সঙ্গে রাখুন। না হলে রোদে সানবার্ন হতে পারে।
» মাথাব্যথা, জ্বর, ঠান্ডা, মাইগ্রেনের ব্যথা, পেশি শিথিল করার মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ একটু বেশি করে সঙ্গে রাখুন।
» পার্বত্য এলাকা ভ্রমণ করতে অভিজ্ঞ গ্রুপ ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যেতে হবে। তারা স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ট্রিপ পরিচালনা করে।
» স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সহায়তা পেতে সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ফোন নম্বর রাখতে হবে।
লেখক: পর্যটক ও প্রতিষ্ঠাতা, বেঙ্গল ট্রেকার্স

কথাটা সবার সঙ্গে নিশ্চয় মিলে গেল! আমরা যারা ফিট থাকতে চাই, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাই, বছরের শেষ দিনটিতে প্রায় প্রত্যেকে একটি প্রতিজ্ঞা করি। সেই প্রতিজ্ঞায় থাকে, এই বছর আমরা কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাব না, কোনো ধরনের ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত শর্করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চিনি ইত্যাদি এড়িয়ে চলব...
২ ঘণ্টা আগে
এখন শীতকাল। শীতকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাধারণত বেশি ঘটে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। রান্নাঘর এর মধ্যে অন্যতম। বাসাবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের বড় কারণও এটি। যেকোনোভাবেই হোক, অসাবধানতাবশত এখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ অফিসে এমনভাবে প্রবেশ করবেন যেন আপনিই কোম্পানির মালিক। কিন্তু লাঞ্চের আগেই বস আপনাকে এমন সব ফাইলের পাহাড় দেবে যে সেই ‘সিংহ’ ভাবটা মুহূর্তেই ‘ভেজা বেড়াল’-এ পরিণত হবে। সহকর্মীদের থেকে সাবধান, তারা আপনার টিফিনের ওপর নজর রেখেছে!
৩ ঘণ্টা আগেমনমাতানো গন্ধ আর রঙের মিশেলে তৈরি ক্যান্ডি ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয় সব সময়। ক্যান্ডির কচকচে প্যাকেট খুললে কখনো গোলাপি আর সাদা তো কখনো লাল, কমলা, হলুদ রঙের ঢেউয়ের নকশা। ছেলেবেলার ক্যান্ডির স্মৃতি যদি পোশাকেও বয়ে বেড়ানো যায়, মন্দ কি!
৪ ঘণ্টা আগে