হামোম তনু বাবু। অনেকে তাঁকে চেনেন মণিপুরি জাদুঘরের রূপকার হিসেবে। নিজ সম্প্রদায়ের ইতিহাস গতিশীল রাখার জন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে তিনি তিলে তিলে তৈরি করেছেন এই সংরক্ষণশালা বা জাদুঘর। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের নাম চাউবা মেমোরিয়াল মণিপুরি ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি মিউজিয়াম। এখানে সংরক্ষিত আছে মণিপুরি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান। ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।
এ দেশে মণিপুরি সম্প্রদায়ের বসবাসের ইতিহাস প্রায় তিন শ বছর পুরোনো। মণিপুরে আন্তসম্প্রদায় কোন্দল, বর্মা তথা বর্তমানের মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ ইত্যাদি কারণে মণিপুরি সম্প্রদায় ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সেই সূত্রে এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলেও বসবাস শুরু করে। এই অঞ্চলে মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের ইতিহাস খুব প্রাচীন না হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো অনেক কিছু হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই সব হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন হামোম তনু বাবু। তিনি নিজের ছোট্ট সংগ্রহশালাকে জাদুঘরে পরিণত করেন। বর্তমানে এই জাদুঘরে তিন শতাধিক দুর্লভ নিদর্শন সাজানো আছে।
সম্প্রতি ঘুরতে গিয়েছিলাম চাউবা মেমোরিয়াল মণিপুরি ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি মিউজিয়াম দেখতে। নিজ বাড়ির চারটি ঘর নিয়ে এই জাদুঘর তৈরি করেছেন তিনি। জাদুঘরে মণিপুরি সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্পের শত বছর পুরোনো স্মারক রাখা আছে। এ ছাড়া রয়েছে তাঁতশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। আছে কৃষিকাজে ব্যবহৃত লাঙল, মইসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এখানে একটি ফ্রেমে দেখা যাবে মণিপুরি ভাষার বর্ণমালা। আছে পানি খাওয়ার পাত্র করেক থেকে শুরু করে প্রতিদিনের জীবন এবং বিভিন্ন উৎসবে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, খেলার সরঞ্জাম, মাছ শিকারের ডরি ও তুংঙ্গল, লবণ রাখার পাত্র, পান রাখার তানগ্রালুক, চাল মাপার মেরুক, কাপর ধোয়ার উরুক, মণিপুরি সাতটি গোত্রের দা, তাদের বিয়েতে খই এবং মিষ্টি রাখার পাত্র ইত্যাদি। আছে রাধা, কৃষ্ণসহ ধর্মীয় বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি।
এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে জানালেন, ইতিহাসের গতিশীলতার জন্য প্রতিটি সমাজের সংস্কৃতির উপকরণগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। এই জাদুঘর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেকটা পিছিয়ে আছে। এটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন। এখানে যেসব জিনিস রয়েছে, সেগুলো আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
চাউবা মেমোরিয়াল মণিপুরি ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি মিউজিয়ামের পরিচালক কবি সনাতন হামোম। তিনি জানিয়েছেন, জাদুঘরে প্রতিষ্ঠাতা তনু বাবু আমেরিকায় বসবাস করেন। তিনি জাদুঘরের জন্য যে জায়গা দিয়েছেন, অর্থের অভাবে সেখানে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেখা যায় এই জাদুঘর। প্রবেশ টিকিটের মূল্য ২০ টাকা।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ ও শমশেরনগর—চারটির কোনো এক জায়গায় আপনাকে নামতে হবে। সেখান থেকে মাইক্রোবাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কমলগঞ্জের আদমপুর বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে ছনগাঁও গ্রামে মণিপুরি জাদুঘরে যাওয়া যায়। তবে আদমপুর বাজার থেকে ছনগাঁও গ্রামে রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া পড়বে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

কয়েক বছর ধরে সৌন্দর্যবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল কোরিয়ান গ্লাস স্কিন। কোরিয়ান ধারা মেনে তাই রূপসচেতনেরা এমনভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া ও মেকআপ করা শুরু করলেন, যাতে ত্বক কোরিয়ানদের মতোই স্বচ্ছ ও চকচকে হয়ে ওঠে। তবে বিউটি ট্রেন্ডে সম্প্রতি লেগেছে নতুন হাওয়া।
১২ ঘণ্টা আগে
ডিজনিল্যান্ড এমন একটি পার্ক, যা সরাসরি নিয়ে যায় শৈশবের রঙিন স্মৃতির ভিড়ে। ডিজনির গল্পগুলোতে ছিল রাজা রানি, কথা বলতে পারা পশু, পাখি, গাছ। একেবারে রঙিন আর আকাঙ্ক্ষিত একটি জীবন। যেখানে কষ্টের পরের সুখটা সবাই উপভোগ করতে পারত। গল্প পড়া শেষ হতো একটা লাইন দিয়ে—অবশেষে তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
১৫ ঘণ্টা আগে
পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য দেখার সুবর্ণ সময় বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকাল। সেই পাহাড় যদি হয় তিন পার্বত্য জেলায়, তাহলে তো কথাই নেই। এই সময়গুলোতে পাহাড় তার রূপের ডালি মেলে ধরে। চারপাশে সবুজ আর সবুজ। এবার আমাদের অভিযান ছিল রাঙামাটি জেলার গহিনে সৌন্দর্যের আধার রাইক্ষং ঝরনা। দলে ছিলাম ছয়জন।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভোর চারটায় অ্যালার্ম। কানের তালা ফাটানো সেই শব্দে ঘুম ভাঙল আপনার। তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়ে দৌড়াতে হলো পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখতে। এরপর লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত সেই ল্যান্ডমার্কের সামনে একটা ছবি তোলা। সবই দেখতে ঠিক হুবহু ইন্টারনেটে দেখা বাকি হাজারটা ছবির মতোই।
১৯ ঘণ্টা আগে