ফিচার ডেস্ক, ঢাকা

সুখ এক অধরা অনুভূতি। কিসে যে আমাদের সেই অনুভূতি হয়, বলা কঠিন। পছন্দের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানো, পছন্দের কাজ করতে পারা, নতুন চাকরি বা দামি গাড়ি—কোন জিনিসটি যে আমাদের সুখের অনুভূতি দেবে, জানি না। ‘প্রিয় বা পছন্দের’ জিনিসের অধিকার পেলে সুখী হব—এই মনোভাব আসলে সাময়িকভাবে আমাদের ভালো রাখে। অর্থাৎ এই অনুভূতি বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেন, ‘সমস্যার মূল হলো, আমরা ভাবি যে সুখ আসে আমাদের পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে। সুখের এক বড় সমস্যা হলো, আমরা ভালো জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যাই। যেমন বেতন বাড়লে প্রথমে ভালো লাগে, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি আর আনন্দ দেয় না। এটাকে বলে হেডোনিক অ্যাডাপটেশন। সত্যিকারের সুখ অনুভবের জন্য এর সঙ্গে লড়াই করতে হয়।'
সুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
লরি স্যান্টোস বলেন, আমাদের মনকে সুখের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে তিনি সাইকোলজি অ্যান্ড দ্য গুড লাইফ নামে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স চালু করেন। কোর্সটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কোর্স এখন একটি পডকাস্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। এর নাম দ্য সায়েন্স অব ওয়েল বিইং।
স্যান্টোস বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সুখ জেনেটিক বা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এই দুটিরই ভূমিকা আছে। তবে আমাদের সুখের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এর বাইরে আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনার অনেক সুযোগ থাকে।’
সুখী হওয়ার কার্যকরী অভ্যাস
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস আমাদের সুখের অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে। স্যান্টোস বলেন, বাইরের পরিস্থিতি পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেদের আচরণ ও মানসিকতা পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর।

সুখ বাড়াতে যে অভ্যাসগুলো সাহায্য করে—
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
প্রতিদিন আপনি যে জিনিসগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ, সেগুলো লিখে রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে জীবন সম্পর্কে আপনার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
ভালো মুহূর্ত উপভোগ
দিনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগের চেষ্টা করুন। যেমন একটি শিশুর হাসি বা সকালের এক কাপ গরম কফি। এটি আপনার মনের নেতিবাচক প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।
সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো
সুখী মানুষেরা সাধারণত বেশি সামাজিক হয়। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা কফি শপে গিয়ে আড্ডা দেওয়াও আমাদের সুখ এনে দেয়।
পরোপকারী কাজ
অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমেও আমরা সুখ অনুভব করতে পারি।
শরীরচর্চা ও ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও সুখী থাকা
স্যান্টোস ও হ্যাপিনেস স্টাডিজ একাডেমির সহপ্রতিষ্ঠাতা তাল বেন শাহ স্বীকার করেন, চরম দারিদ্র্যের মতো পরিস্থিতিতে এসব কৌশল কার্যকর না-ও হতে পারে। তবে তাঁরা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অভ্যাসগুলো মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্ক ভালো রাখা, শরীরচর্চা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পরোপকারী কাজগুলো অর্থবিত্তের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠিন সময়ে এগুলো মানুষকে টিকে থাকতে এবং আরও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
লরি স্যান্টোসের মতে, সুখ অর্জন করতে হলে কিছু পরিশ্রম করতে হবে। এটা কোনো এককালীন সমাধান নয়, বরং একটি নিয়মিত চর্চা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিশ্রম করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনি ভালো অনুভব করবেন।’
সুখ জাদুকরি কিছু নয়। এটি সচেতন প্রচেষ্টা ও নিয়মিত চর্চার ফল। নতুন কিছু পাওয়া সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য আমাদের মনকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। কৃতজ্ঞতা, সামাজিক সম্পর্ক, পরোপকার, শরীরচর্চা ও ঘুমের মতো অভ্যাসগুলো জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে সুখ আমাদের হাতের নাগালেই থাকে। লরি স্যান্টোস যেমন বলেন, সুখ এক দিনে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এক পূর্ণ এবং আনন্দময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

সুখ এক অধরা অনুভূতি। কিসে যে আমাদের সেই অনুভূতি হয়, বলা কঠিন। পছন্দের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানো, পছন্দের কাজ করতে পারা, নতুন চাকরি বা দামি গাড়ি—কোন জিনিসটি যে আমাদের সুখের অনুভূতি দেবে, জানি না। ‘প্রিয় বা পছন্দের’ জিনিসের অধিকার পেলে সুখী হব—এই মনোভাব আসলে সাময়িকভাবে আমাদের ভালো রাখে। অর্থাৎ এই অনুভূতি বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেন, ‘সমস্যার মূল হলো, আমরা ভাবি যে সুখ আসে আমাদের পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে। সুখের এক বড় সমস্যা হলো, আমরা ভালো জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যাই। যেমন বেতন বাড়লে প্রথমে ভালো লাগে, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি আর আনন্দ দেয় না। এটাকে বলে হেডোনিক অ্যাডাপটেশন। সত্যিকারের সুখ অনুভবের জন্য এর সঙ্গে লড়াই করতে হয়।'
সুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
লরি স্যান্টোস বলেন, আমাদের মনকে সুখের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে তিনি সাইকোলজি অ্যান্ড দ্য গুড লাইফ নামে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স চালু করেন। কোর্সটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কোর্স এখন একটি পডকাস্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। এর নাম দ্য সায়েন্স অব ওয়েল বিইং।
স্যান্টোস বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সুখ জেনেটিক বা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এই দুটিরই ভূমিকা আছে। তবে আমাদের সুখের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এর বাইরে আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনার অনেক সুযোগ থাকে।’
সুখী হওয়ার কার্যকরী অভ্যাস
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস আমাদের সুখের অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে। স্যান্টোস বলেন, বাইরের পরিস্থিতি পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেদের আচরণ ও মানসিকতা পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর।

সুখ বাড়াতে যে অভ্যাসগুলো সাহায্য করে—
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
প্রতিদিন আপনি যে জিনিসগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ, সেগুলো লিখে রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে জীবন সম্পর্কে আপনার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
ভালো মুহূর্ত উপভোগ
দিনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগের চেষ্টা করুন। যেমন একটি শিশুর হাসি বা সকালের এক কাপ গরম কফি। এটি আপনার মনের নেতিবাচক প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।
সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো
সুখী মানুষেরা সাধারণত বেশি সামাজিক হয়। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা কফি শপে গিয়ে আড্ডা দেওয়াও আমাদের সুখ এনে দেয়।
পরোপকারী কাজ
অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমেও আমরা সুখ অনুভব করতে পারি।
শরীরচর্চা ও ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও সুখী থাকা
স্যান্টোস ও হ্যাপিনেস স্টাডিজ একাডেমির সহপ্রতিষ্ঠাতা তাল বেন শাহ স্বীকার করেন, চরম দারিদ্র্যের মতো পরিস্থিতিতে এসব কৌশল কার্যকর না-ও হতে পারে। তবে তাঁরা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অভ্যাসগুলো মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্ক ভালো রাখা, শরীরচর্চা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পরোপকারী কাজগুলো অর্থবিত্তের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠিন সময়ে এগুলো মানুষকে টিকে থাকতে এবং আরও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
লরি স্যান্টোসের মতে, সুখ অর্জন করতে হলে কিছু পরিশ্রম করতে হবে। এটা কোনো এককালীন সমাধান নয়, বরং একটি নিয়মিত চর্চা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিশ্রম করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনি ভালো অনুভব করবেন।’
সুখ জাদুকরি কিছু নয়। এটি সচেতন প্রচেষ্টা ও নিয়মিত চর্চার ফল। নতুন কিছু পাওয়া সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য আমাদের মনকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। কৃতজ্ঞতা, সামাজিক সম্পর্ক, পরোপকার, শরীরচর্চা ও ঘুমের মতো অভ্যাসগুলো জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে সুখ আমাদের হাতের নাগালেই থাকে। লরি স্যান্টোস যেমন বলেন, সুখ এক দিনে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এক পূর্ণ এবং আনন্দময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

শীত কিন্তু জেঁকে বসেছে। এমন শীতে কম্বলে গা জড়িয়ে সিনেমা দেখতে দেখতে মুখরোচক কিছু তো খেতেও মন চায়। বাড়িতে মুরগির মাংস থাকলে তৈরি করে ফেলুন চিকেন কাঠি কাবাব। কীভাবে তৈরি করবেন? আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৪ ঘণ্টা আগে
নতুন বছর এলেই অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। ভালো খাওয়ার পরিকল্পনা, বেশি নড়াচড়া করা, জিমে যাওয়া। সব মিলিয়ে ফিটনেস ঠিক রাখার লক্ষ্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। তবে আসল পরিবর্তন আসে ধারাবাহিকতা ঠিক রাখলে। ফিটনেস মানে তাৎক্ষণিক সমাধান বা অতিরিক্ত কঠিন রুটিন নয়। এমন অভ্যাস গড়ে তোলা, যা সারা
৭ ঘণ্টা আগে
মানসিক চাপ কমাতে কফি, কসমেটিকস বা ছোটখাটো কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে। ‘নিজেকে পুরস্কৃত করা’ বা সেলফ-রিওয়ার্ড নামের এই সংস্কৃতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তরুণদের অনেকেই এটিকে মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ধীরে ধীরে আর্থিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে
খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে ঋতু বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে শীতের হিমেল হাওয়ায় গরম এক কাপ চা বা কফি প্রশান্তি দিলেও এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলো কখনো কখনো সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ঋতুতে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমাদের খাবারদাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিপাকতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব
১১ ঘণ্টা আগে