Ajker Patrika

শীতে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৫২
আমরা কী খাচ্ছি, তা আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিপাকতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ছবি: পেক্সেলস
আমরা কী খাচ্ছি, তা আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিপাকতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ছবি: পেক্সেলস

খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে ঋতু বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে শীতের হিমেল হাওয়ায় গরম এক কাপ চা বা কফি প্রশান্তি দিলেও এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলো কখনো কখনো সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ঋতুতে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমাদের খাবারদাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিপাকতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ জন্যই শীতকালীন সাধারণ রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি। শীতের এ সময়ে নিজের গলা পরিষ্কার রাখা, শক্তিশালী হজমশক্তি বজায় রাখা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে এই খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনগুলো আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

চা-কফি না খেয়ে কী খাবেন

শীতের সকালে চা বা কফি খুব আরামদায়ক মনে হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এতে গলা ও নাকের পথ শুকিয়ে যায় বলে ভাইরাস সহজে আক্রমণ করতে পারে। এদিকে ডাবের পানি শরীর ঠান্ডা রাখে। শীতকালে ঘন ঘন ডাবের পানি পান করলে হজমে সমস্যা হতে পারে। এতে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ সমস্যা এড়াতে চা-কফির বিকল্প হিসেবে মসলাযুক্ত আদা ও তুলসী পানীয় পান করুন। আদায় থাকা জিনজারল হজমে সাহায্য করে এবং তুলসী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি গলাব্যথা, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি দূর করতে অতুলনীয়। আদা বেশি ঝাঁজালো মনে হলে গরম পানিতে আদার সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। লেবুর ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মধু গলায় আরাম দেয়। তবে হ্যাঁ, ফুটন্ত পানিতে মধু দেবেন না। তাতে তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। পানি সামান্য ঠান্ডা বা কুসুম গরম হলে মধু মেশান।

বিকেলের নাশতায় চা-কফির বদলে এক বাটি গরম স্যুপ শরীর তাজা রাখবে এবং পুষ্টি জোগাবে। এটি শরীর গরম রাখতে প্রাকৃতিক হিটারের মতো কাজ করে। শীতকালে কোল্ড ড্রিংকসের বদলে হালকা গরম পানি, ভেষজ চা বা স্যুপ পান করা অনেক বেশি উপকারী।

সকাল শুরু করার জন্য গরম পানিতে লেবু ও মধু দিয়ে তৈরি পানীয় একটি চমৎকার ডিটক্স। ছবি: পেক্সেলস
সকাল শুরু করার জন্য গরম পানিতে লেবু ও মধু দিয়ে তৈরি পানীয় একটি চমৎকার ডিটক্স। ছবি: পেক্সেলস

ভাজাপোড়া খাবারকে বিদায় জানান

আমাদের দেশে শীতের দিনে বিকেলের আড্ডায় পিঠা কিংবা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার প্রবণতা আছে। কিন্তু খেতে গিয়ে অনেকে ভুলে যান যে শীতের সন্ধ্যায় গরম গরম তেলে ভাজা পিঠা বা তৈলাক্ত খাবার হজম করা কঠিন। দুর্বল হজমশক্তি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত তেল শ্লেষ্মা বা মিউকাস তৈরি করে বুক জ্যাম হওয়া এবং কাশির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে তেলে ভাজা ডালপুরি বা পেঁয়াজুর বদলে শুকনো খোলায় ভাজা বা সামান্য মসলা দিয়ে সেঁকা ছোলা খেতে পারেন। ডিপ ফ্রাইড চিপসের সেরা বিকল্প হলো পপকর্ন। তবে এটি মাখন বা অতিরিক্ত লবণ ছাড়া ঘরে তৈরি করা ভালো। চানাচুর বা ভাজাপোড়া স্ন্যাক্সের বদলে একমুঠো চিনাবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম বা কুমড়োর বীজ খেতে পারেন। তেলে ভাজা খাবারের বদলে ভাপে তৈরি খাবার, যেমন পুলিপিঠা, ভাপা পিঠা বা মোমো খেতে পারেন। বাড়িতে আড্ডা না হয়ে যদি বাইরে হয়, সে ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের ভাজাপোড়া না খেয়ে পোড়া ভুট্টা বা কর্ন সালাদ বেছে নিন। মিষ্টিজাতীয় ভাজাপোড়া খেতে ইচ্ছা করলে তার বদলে সিজনাল ফল, যেমন আপেল, পেয়ারা, বড়ই বা পেঁপের ওপর সামান্য বিট লবণ ও চাট মসলা দিয়ে সালাদ করে খেতে পারেন।

দুপুর বা সকালের রোদে বসে ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। ছবি: পেক্সেলস
দুপুর বা সকালের রোদে বসে ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। ছবি: পেক্সেলস

কোন ফলগুলো খাবেন না

কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও অনেকের ক্ষেত্রে শীতকালে এটি শরীরে মিউকাস বা কফ তৈরি করে। যাদের সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের প্রবণতা আছে, তাদের জন্য শীতকালে কলা এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া তরমুজ ও খরমুজজাতীয় ফলগুলোর প্রকৃতি অত্যন্ত শীতল এবং এতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। শীতকালে এগুলো খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে এবং কফ তৈরি হয়ে সর্দির লক্ষণগুলো আরও প্রকট হতে পারে। কমলা বা মাল্টার মতো লেবুজাতীয় ফল ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ হলেও শীতকালে এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি গলায় জ্বালাপোড়া বা কাশির উদ্রেক করতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি।

সবার জন্য সাধারণ ফল হলো আপেল, ডালিম বা আনার, পেঁপে, আমলকী ও আঙুর। তবে ফ্রিজ থেকে বের করে সরাসরি ফল খাবেন না। সূর্যাস্তের পর বা রাতে ফল না খাওয়াই ভালো, এতে হজমে সমস্যা বা কফ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুপুর বা সকালের রোদে বসে ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।

অতিরিক্ত সবকিছুকেই না বলুন

অতিরিক্ত চিনি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ গলা ও নাকের পথ শুকিয়ে ফেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। তেমনই দুধ, পনির বা ক্রিম অনেকের ক্ষেত্রে কফ ঘন করে দেয়, যা বুক জ্যাম হওয়া এবং কাশির সমস্যা জটিল করে তোলে। যদি দুধ দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়ার পর আপনার কফ বেড়ে যায়, তবে শীতকালে এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

সূত্র: হেলথ শর্টস, ওয়েব মেড, হার্ভার্ড হেলথ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমার সন্তানেরা কী করেন, ১৬ বছর কেমন কেটেছে

ছেড়ে দিলে কী আর করার: মোস্তাফিজ

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র

মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় শাহরুখ খানের ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্বভারতীয় ইমাম সংগঠনের সভাপতি

মোস্তাফিজকে ছেড়েই দিল কলকাতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত