Ajker Patrika

জেন-জি প্রজন্মের আসক্তি কী এই ‘লিটল ট্রিট’

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৫৩
ছবি: ফ্রিপিক
ছবি: ফ্রিপিক

মানসিক চাপ কমাতে কফি, কসমেটিকস বা ছোটখাটো কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে। ‘নিজেকে পুরস্কৃত করা’ বা সেলফ-রিওয়ার্ড নামের এই সংস্কৃতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তরুণদের অনেকেই এটিকে মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ধীরে ধীরে আর্থিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ২৩ বছর বয়সী টেরান ফিল্ডার কাজের চাপ বা মানসিক অস্বস্তি অনুভব করেন অনেক সময়। তাই নিজের মন ভালো করতে কোথাও গিয়ে দামি খাবার বা ছোট উপহার কিনে নেন। পেশায় তিনি যোগাযোগ কর্মকর্তা। এ অভ্যাসে তাঁর মাসিক খরচ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ডলার। তাঁর মতে, এটি শুধু বিলাসিতা নয়, এটি মানসিক স্বস্তি ও স্বাস্থ্যের জন্য বিনিয়োগ।

‘লিটল ট্রিট’ সংস্কৃতি

ফিল্ডারের মতো এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেক তরুণের মধ্যে সাধারণ। কোনো বিশেষ উপলক্ষ ছাড়াই স্ন্যাকস, বাবল টি, কসমেটিকস কিংবা অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে তারা দৈনন্দিন মানসিক চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি খোঁজে। এই ‘লিটল ট্রিট’ সংস্কৃতি এখন জেন-জি প্রজন্মের জীবনধারার অংশ হয়ে উঠছে।

জরিপের তথ্য: অতিরিক্ত ব্যয়ের স্বীকারোক্তি

জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত ব্যাংক অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেন-জি প্রজন্মের অনেকে এভাবে মাসে কয়েক শ ডলার ব্যয় করছে। তবে প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ স্বীকার করেছে, এই আত্মতুষ্টিমূলক ব্যয় তাদের অতিরিক্ত খরচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জরিপে আরও বলা হয়, ৫৭ শতাংশ তরুণ অন্তত সপ্তাহে একবার নিজেকে কিছু না কিছু কিনে দেয়। কিন্তু তারা সীমিত আয় করে।

প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য

ভোক্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভান্ট গাইড ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড্যানিয়েল লেভিনের মতে, নিজেকে পুরস্কৃত করার অভ্যাস নতুন নয়। তবে জেন-জি প্রজন্ম এটিকে একেবারে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বেবি বুমাররা বড় কোনো অর্জনের পর গাড়ি বা ভ্রমণে অর্থ ব্যয় করত, জেন-এক্স প্রজন্ম কাজের চাপ কমাতে মাঝেমধ্যে রাতের পার্টিতে ঝুঁকত। কিন্তু জেন-জি প্রজন্ম তাদের নিজেদের পেছনে খরচ করছে ভিন্ন উপায়ে।

প্রযুক্তি ও অনলাইন সেবার ভূমিকা

অনলাইন শপিং ও খাবার ডেলিভারি অ্যাপের সহজলভ্যতা এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এক জরিপ অনুযায়ী, জেন-জি প্রজন্ম জেন-এক্সের তুলনায় ১৩৩ শতাংশ বেশি নিয়মিত অর্ডারভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে।

ছবি: ফ্রিপিক
ছবি: ফ্রিপিক

মানসিক স্বস্তির খোঁজ

নিজেকে পুরস্কৃত করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক স্বস্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মহামারি এবং পরিবেশগত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া জেন-জি প্রজন্মের কাছে ছোট ছোট আনন্দ জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছে। ইনটুইট ক্রেডিট কার্মার এক গবেষণায় দেখা গেছে, জেন-জি প্রজন্মের অর্ধেকের বেশি তরুণ ব্যক্তিগত শখ ও আনন্দের খরচকে অন্যান্য আর্থিক লক্ষ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই প্রবণতা নেতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভারতের মনোবৈজ্ঞানিক পরামর্শক শ্রেয়া কৌলের মতে, যদি তরুণেরা চাপ সামলাতে শুধু বস্তুগত পুরস্কারের ওপর নির্ভর করে, তবে তারা প্রকৃত আবেগ থেকে দূরে সরে আসবে। ধীরে ধীরে এসবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তাঁর ভাষায়, সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক ঘাটতি তৈরি করলে সেটিই নতুন মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সমাধানের পথ: নিয়ন্ত্রিত ব্যয়

ব্যাংক অব আমেরিকার খুচরা ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান হলি ও’নিল বলেন, পরিমাণমতো খরচ আপনার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেবে না। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন খরচ হয় তাৎক্ষণিক ও অপরিকল্পিতভাবে। ছোট ছোট খরচ যোগ হতে হতে বছরে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়; যা আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমার সন্তানেরা কী করেন, ১৬ বছর কেমন কেটেছে

ছেড়ে দিলে কী আর করার: মোস্তাফিজ

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র

মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় শাহরুখ খানের ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্বভারতীয় ইমাম সংগঠনের সভাপতি

মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করল ভেনেজুয়েলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত