
বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন উৎপাদনের হার কমে যায় এবং মৃত কোষের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই ত্বক ভেতর থেকে সজীব করতে প্রয়োজন সঠিক জীবনযাপন ও পরিচর্যা।
ত্বক রুক্ষ হওয়ার কারণ
সাধারণত ৪০ বছর পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে আসে। কোষের পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় ত্বকের ওপর মৃত কোষের স্তর জমে। এ সময় বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহার করলেও তা ত্বকের গভীরে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করে। এই রুক্ষতা দূর করতে দরকার কোষের গভীর থেকে পুষ্টি ও নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন।
দরকার খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন
ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে কোলাজেন। এটি বাড়াতে শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হবে না, নজর দিতে হবে খাবারেও। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল; যেমন লেবু, কমলা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি, ডিমের সাদা অংশ এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন। এ ছাড়া ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার; যেমন বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ সময় প্রক্রিয়াজাত চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ, চিনি ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে দেয়।
ঘরোয়া উপায়ে পরিচর্যা
ঘরোয়া ফেসপ্যাক আপনার ত্বকের খসখসে ও রুক্ষ ভাব দূর করবে।
গাজর ও বেসনের প্যাক
গাজরের পেস্ট, দুধ ও দুই চামচ বেসন মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মুখে ও গলায় ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। গাজরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করে এবং কোষ সজীব করে। এটি শুষ্ক, তৈলাক্ত ও মিশ্র—সব ধরনের ত্বকে উপযোগী।
মধু ও দারুচিনি
মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে। ১ চামচ দারুচিনি গুঁড়ার সঙ্গে ৩ চামচ মধু মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যবহার করুন। এটি অতিরিক্ত খসখসে ভাব দূর করে ত্বক নরম করবে।
কলা ও টক দই
অর্ধেকটা পাকা কলা, ১ চামচ টক দই ও সামান্য হলুদগুঁড়ার মিশ্রণ ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। কলার পটাশিয়াম ও দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে।
সানস্ক্রিন ও হাইড্রেশন
চল্লিশের পর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে বেশি মাত্রায়। তাই ঘরের বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এটি শুধু রোদে পোড়া নয়, বরং পিগমেন্টেশন ও অকালবার্ধক্য রোধ করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের উজ্জ্বলতায়।
রাতে ত্বকের বিশেষ যত্ন ও জীবনযাত্রার নিয়ম
রাতে ঘুমের সময় ত্বক নিজের মেরামত বা রিপেয়ারের কাজ চালায়। তাই ঘুমানোর আগে ভালো মানের নাইট ক্রিম বা সেরাম ব্যবহার করুন, যাতে হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা রেটিনল আছে। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা বর্জন করুন। কারণ, এগুলো ত্বক ভেতর থেকে পানিশূন্য করে ফেলে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপমুক্ত জীবনও ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে অপরিহার্য। রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম আপনার ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিচর্যা আর সচেতনতাই পারে চল্লিশের পর আপনার ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে।
সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
৩ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
৮ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১০ ঘণ্টা আগে
শসা ফল হলেও সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। রমজান মাসে যখন দীর্ঘ সময় পানাহারে বিরত থাকতে হয়, তখন শসা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এতে পানির পরিমাণ এবং এর খাস্তা ভাব ফলের চেয়ে বেশি কার্যকরী...
১২ ঘণ্টা আগে