
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্টটি একই বক্তব্য ও ডিজাইনের ফটোকার্ডে একাধিক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘Sports By Arif’ নামের একটি পেজ থেকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে একটি পোস্ট করা হয়। ১ মার্চ সকাল ১১টা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় ১৯ হাজার রিয়েকশন, ৯৬৩ শেয়ার এবং ১ হাজার ১০০–এর বেশি কমেন্ট রয়েছে।
কমেন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী বক্তব্য সমর্থন জানিয়ে কমেন্ট করেছেন। রুহুল আমিন নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘একদম ঠিক।’ জি এম আক্তার নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘অচিরেই ইনশাআল্লাহ।’

অন্যদিকে, ‘মোহাম্মদের হাসির মায়া’ নামের একটি পেজ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে একই দাবিতে আরেকটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ববি হাজ্জাজের শেষ পরিণতি টাকলা মুরাদের মতো হবে—সাদিক কায়েম। আপনাদের মতামত জানাতে পারেন?’ এই পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ দাবিটিকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ বিরোধিতা করেছেন। মঈন উদ্দিন নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘তুই তোরটা ভাব। কিছুদিন পর হাদি হত্যা মামলার ইনভেস্টিগেশন হবে, তখন তোমার কান্দন দুনিয়া দেখবে।’ মির্জা বাহাদুর নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘ঢাবির কান্তালগ্ন চলছে।’
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভাইরাল ফটোকার্ডগুলো যাচাই করে দেখা যায়, অধিকাংশ ফটোকার্ডে কোনো গণমাধ্যমের লোগো, প্রকাশের তারিখ বা তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই।
জাতীয় দৈনিক ও নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সাদিক কায়েমের বক্তব্য হিসেবে এমন কোনো মন্তব্য প্রকাশের তথ্যও মেলেনি।
আরও অনুসন্ধানে ‘Our Desh’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে এবং একই দিনে ‘Prabasi.Ksa’ নামের আরেকটি পেজে সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে অনুরূপ বক্তব্যসহ পোস্ট পাওয়া যায়। তবে সেসব পোস্টে সাদিক কায়েমের নাম উল্লেখ নেই। সেগুলোতেও কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই।

‘Our Desh’ পেজের ফটোকার্ডে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান এবং বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ছবি ব্যবহার করা হলেও সেখানে সাদিক কায়েমের ছবি বা নাম নেই।
অন্যদিকে ‘Prabasi.Ksa’ পেজের পোস্টে বলা হয়, ‘এই ববি হাজ্জাজের পরিণতি টাকলা মুরাদের মতো হবে ও হতে যাচ্ছে—একটু অপেক্ষা করেন।’ কিন্তু এখানেও কোনো তথ্যসূত্র নেই।
বিষয়টি নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে ‘ভিপি আবু সাদিক কাইয়ুম সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও একই ধরনের পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানেও ফটোকার্ডে সাদিক কায়েমের নাম বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই।
এ ছাড়া সাদিক কায়েমের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পক্ষ থেকেও এমন দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
ভাইরাল ফটোকার্ডে উল্লেখিত মন্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র, গণমাধ্যম প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই। বিভিন্ন পেজে প্রচারিত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সাদিক কায়েমের নাম যোগ করা হয়েছে, যা আগের পোস্টগুলোতে ছিল না। সুতরাং, সাদিক কায়েমের নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি বানোয়াট।

‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
২ দিন আগে
চাঁদাবাজি করতে গিয়ে যুবদল নেতা কট খেয়ে পুলিশ সদস্যদের ‘আব্বা আব্বা’ ডাক—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ দিন আগে
গায়ে ধাক্কা লাগায় বিএনপি নেতার মারধরের শিকার বৃদ্ধ—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত ১৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে।
৫ দিন আগে