
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও অকালবার্ধক্য কারও জন্যই আনন্দের নয়। সঠিক জীবনযাত্রা এবং সচেতনতার মাধ্যমে আপনি দীর্ঘ সময় যৌবন ধরে রাখতে পারেন। যদি আপনার বার্ধক্যের লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় বা খুব দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অকালবার্ধক্যের প্রধান লক্ষণ
আপনার শরীর বয়সের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণের দিকে নজর দিন।
ত্বকের পরিবর্তন
ত্বক হলো বার্ধক্যের প্রথম আয়না। যদি ৩০ বছরের আগে চোখেমুখে বলিরেখা, বয়সের ছাপ বা দাগ, ত্বক ঝুলে যাওয়া এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা ও কোলাজেন হারাচ্ছে। এ ছাড়া বুক বা ঘাড়ের আশপাশে ত্বকের রং পরিবর্তন হওয়াও একটি বড় লক্ষণ।
চুল পড়া ও পেকে যাওয়া
৩০ বছর বয়সের আগে দ্রুত চুলের রং সাদা বা ধূসর হয়ে যাওয়া অকালবার্ধক্যের লক্ষণ। এটি মূলত চুলে মেলানিন পিগমেন্টের অভাব থেকে হয়। এ ছাড়া অকালে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক চুল পড়াও এর অন্তর্ভুক্ত।
চেহারার পরিবর্তন
চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং গাল বসে যাওয়া বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি।
শারীরিক অবসাদ ও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা এবং হাড়ের জয়েন্টে অনড় ভাব বা ব্যথা হওয়া নির্দেশ করে, আপনার শরীরের ভেতরকার জৈবিক শক্তি কমে যাচ্ছে। অল্প বয়সে আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয় শুরু হওয়া অকালবার্ধক্যের সংকেত।
মাংসপেশি ও ওজনের পরিবর্তন
বয়সের সঙ্গে পেশির শক্তি কমে আসা স্বাভাবিক। তবে ২০ বা ৩০ এর কোঠায় যদি পেশির শক্তি কমে যায় এবং পেটের চারপাশে মেদ জমতে শুরু করে, তবে তা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ।
দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির সমস্যা
স্বাভাবিকভাবে মানুষের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করে ৫০ বা ৬০ বছরের পর। তবে এর অনেক আগে যদি চোখে ছানি আর্থ্রাইটিস, কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হওয়া বা কানে কম শোনার সমস্যা শুরু হয়, তবে তা অকালবার্ধক্যেরই একটি রূপ।
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে সামান্য কেটে যাওয়া বা আঘাত শুকাতে অনেক সময় লাগে। এটি বয়স্ক শরীরের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য, যা অকালে দেখা দিতে পারে।
ভুলে যাওয়া ও মেজাজের পরিবর্তন
ঘন ঘন ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হওয়া মানসিক ও মস্তিষ্কের বার্ধক্যের লক্ষণ।
অকালবার্ধক্যের কারণ
অকালবার্ধক্যের বেশির ভাগ কারণই আমাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত।
সূর্যের আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি: দৃশ্যমান বার্ধক্যের ৯০ শতাংশ কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এটি ত্বকের কোষ নষ্ট করে এবং দ্রুত বলিরেখা তৈরি করে। এ ছাড়া মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্লু-লাইটও কোলাজেনের ক্ষতি করে।
ধূমপান ও অ্যালকোহল: ধূমপানের নিকোটিন কোলাজেন ভেঙে ফেলে ত্বক কুঁচকে দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীর পানিশূন্য করে ত্বকের ক্ষতি করে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি বা রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে।
ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপ: দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুম এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের কোষগুলোকে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়।
বিরল রোগ: কিছু ক্ষেত্রে ব্লুম সিনড্রোম, ওয়ার্নার সিনড্রোম বা প্রোজেরিয়ার মতো বংশগত ব্যাধিও এর কারণ হতে পারে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়
অকালবার্ধক্য থামানো এবং শরীর পুনরুজ্জীবিত করতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিং, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, মাই হেলথপিডিয়া

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
৪১ মিনিট আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
৭ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
৯ ঘণ্টা আগে
শসা ফল হলেও সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। রমজান মাসে যখন দীর্ঘ সময় পানাহারে বিরত থাকতে হয়, তখন শসা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এতে পানির পরিমাণ এবং এর খাস্তা ভাব ফলের চেয়ে বেশি কার্যকরী...
১১ ঘণ্টা আগে