Ajker Patrika

রাজধানীর চার স্থানে ছড়ানো লাশের টুকরা, খুনি থাকতেন একই ফ্ল্যাটে: পুলিশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬: ০৮
রাজধানীর চার স্থানে ছড়ানো লাশের টুকরা, খুনি থাকতেন একই ফ্ল্যাটে: পুলিশ
রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (মতিঝিল বিভাগ) হারুন-অর-রশীদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় কাটা হাত, পা, মাথা ও পরিত্যক্ত ড্রামে ধড়ের অংশবিশেষ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহ নামের ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর সাত টুকরা করেন শাহীন। তাঁরা একই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

আজ রোববার দুপুর ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (মতিঝিল বিভাগ) হারুন-অর-রশীদ এই তথ্য জানান।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিংয়ে এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।’

ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফেলে দেওয়া হয়।’

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি জানান, তাঁরা রাজধানীর জসীমউদ্‌দীন রোডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার আগে রাতে বাসায় ফিরলে শাহীনকে সিগারেট আনতে পাঠান ওবায়দুল্লাহ। সিগারেট আনার পর আবার তাঁকে নানরুটি এবং কাবাব আনার জন্য পাঠান। সেই খাবার ওবায়দুল্লাহ একাই খান। ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ ফোনে জোরে কথা বলছিলেন। শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই বিরক্ত হচ্ছিলেন। ওবায়দুল্লাহকে আস্তে কথা বলার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর ওবায়দুল্লাহ বাথরুমে গিয়ে কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন পেছন থেকে ঘাড়ে এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন।

ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের গেটের পাশে একটি পা, আর কমলাপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় মাথা পাওয়া যায়। মতিঝিলে ময়লাবোঝাই কনটেইনারের ড্রামে ছিল ধড়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানান, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে তিনি ফেলেছেন। হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘সেখানে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। একটি অংশ ইতিমধ্যে পেয়েছি, আরেকটা অংশের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শাহীনই হত্যা করেছেন, সেটি কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল—এমন প্রশ্নে ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি। এ ছাড়া তিনি নিজেও এই ঘটনার সম্পৃক্ততা শিকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।’

শুধু ওই রাতের ঝগড়া থেকেই হত্যাকাণ্ড কি না জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘শাহীন জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে ওবায়দুল্লাহ অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এই বিষয়টি নিতে পারতেন না শাহীন। অনেক সময় রাতে ওবায়দুল্লাহ শাহীনের ঘরে চলে আসেন, তখন তাঁকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দিতেন।’

ডিসি বলেন, ‘হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিকভাবেই চাকরি করতেন। সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতেন। শাহীনকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আমরা আটক করি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

উল্লেখ্য, বিচ্ছিন্ন হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পুলিশ ওবায়দুল্লাহর (৩০) পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল হামিদ। বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার তাতারকান্দি গ্রামে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজ দপ্তরেই মারা যান খামেনি, কখন মৃত্যু হয়—জানাল ইরান

খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী

‘অমুসলিম’ শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে রাবি প্রশাসনের ‘গণ-ইফতার’

রাজধানীর চার স্থানে ছড়ানো লাশের টুকরা, খুনি থাকতেন একই ফ্ল্যাটে: পুলিশ

কলকাতায় টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি জোয়াহেরুলের মৃত্যু, লাশ দেশে আসতে পারে আজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত