Ajker Patrika

সংশয় পেছনে ফেলে নিজেকে চিনুন, জানুন আত্মবিশ্বাস ফেরাবেন যেভাবে

ফিচার ডেস্ক
সংশয় পেছনে ফেলে নিজেকে চিনুন, জানুন আত্মবিশ্বাস ফেরাবেন যেভাবে
নিজের আত্মমর্যাদাবোধ ফিরিয়ে এনে জীবনের আলোয় নিজেকে নতুন করে চেনার পথগুলো খুঁজে নিতে হবে নিজেকেই। ছবি: পেক্সেলস

মানুষের জীবনের পথে হাঁটা সব সময় একরকম হয় না। আলো আর ছায়ার মতো সুখ আর দুঃখ, সংশয় আর আত্মবিশ্বাস হাত ধরাধরি করে চলে। কখনো কোনো এক হঠাৎ আড্ডায়, বাসে কিংবা অপরিচিত মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতরটা অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কোনো একটি খামতি দেখে কিংবা অতীতের কারও বিষাক্ত মন্তব্যের কথা ভেবে মন ভেঙে যায়। মানুষ তখন ভাবতে থাকে, ‘আমাকে দিয়ে বুঝি কিছু হবে না।’ নিজের প্রতি এই যে এক অনাস্থা বা কম আত্মবিশ্বাস, তা মানুষকে ভেতরে ভেতরে একাকী ও নিঃসঙ্গ করে তোলে। তবে এই বিষাদময় অনুভূতির অন্ধকার স্থায়ী নয়। নিজের আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে নিজেকে এক নতুন আলোয় চেনার পথ আমাদের নিজেদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে। নিজের আত্মমর্যাদাবোধ ফিরিয়ে এনে জীবনের আলোয় নিজেকে নতুন করে চেনার পথগুলো খুঁজে নিতে হবে নিজেকেই।

সংশয় ও ভুলকে মেনে নেওয়া

- ভুলকে সহজভাবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ মানুষমাত্রই ভুল করে। ভুলের জন্য নিজেকে অপরাধী না ভেবে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই মূল কথা।

- নিজের পছন্দ-অপছন্দ, ভয় এবং সীমাবদ্ধতাগুলোকে জানুন। নিজের প্রতি এই স্পষ্ট ধারণা মনকে শক্ত করে।

- অন্য কারো মতো হওয়ার বা কাউকে সন্তুষ্ট করার কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়ুন। আপনি যেমন, সেটাই আপনার সবচেয়ে বড় সত্য।

অবয়ব ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তর

ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি মনকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ভেতরে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস জোগায়। কারো সঙ্গে কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলার চেষ্টা করুন। কথোপকথনের সময় অন্য কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ভেতরের সাহসের প্রকাশ ঘটে। কথা বলার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ান। শরীরের ভঙ্গি বা পোজ সোজা ও সঠিক রাখলে শুধু পিঠের স্বাস্থ্য ভালো থাকে না, নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তিও তৈরি হয়। খুব দ্রুত কথা না বলে ধীরে ও শান্তভাবে কথা বলুন। এতে আপনার কথার গুরুত্ব ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়।

কথোপকথনের সময় অন্য কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ভেতরের সাহসের প্রকাশ ঘটে। কথা বলার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ান। ছবি: পেক্সেলস
কথোপকথনের সময় অন্য কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ভেতরের সাহসের প্রকাশ ঘটে। কথা বলার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ান। ছবি: পেক্সেলস

দৈনন্দিন অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন

অহেতুক ‘দুঃখিত’ শব্দটি ব্যবহার করবেন না। প্রতিটি কথায় অপ্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। সত্যিকারের ভুল না হলে ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করলে নিজের প্রতি আস্থা বাড়ে। আয়নার সামনে অতিরিক্ত সময় না কাটিয়ে শুধু চেহারা একটু গুছিয়ে নেওয়ার কাজে এটি ব্যবহার করুন। আয়নায় নিখুঁত সৌন্দর্য না খুঁজে নিজের সুন্দর দিকগুলোকে ভালোবাসুন। আমরা ভুলগুলো মনে রাখি কিন্তু ভালো কাজ ভুলে যাই। আপনার ছোট ছোট অর্জন ও ভালো কাজগুলো খাতায় লিখে রাখুন। একবারে বড় কিছু না করে ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করুন এবং তা পূরণ করুন। প্রতিটা ছোট সাফল্য মনের ভয় কাটিয়ে দেয়।

মন ও শরীরের যত্ন

নতুন ভাষা, রান্না কিংবা বাদ্যযন্ত্রের মতো নতুন কোনো দক্ষতা শেখা জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিজের পছন্দের কাজ ও ব্যায়াম করতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কিছুটা সময় নিজের প্রিয় কাজের জন্য রাখুন। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কসরত ও সুষম খাবার শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। সপ্তাহে অন্তত কয়েকদিন কিছুটা সময় ধ্যানে মগ্ন হলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে ও মানসিক চাপ দূর হয়। পার্লার বা সেলুনে গিয়ে নিজের পরিচর্চা করা বা রূপচর্চা করাও মনকে নতুন উদ্দীপনা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ ও সাহায্য

মানুষকে সাহায্য করা: কোনো কিছুর আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে সাহায্য করা বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হওয়া বুকের ভেতর এক অপূর্ব সুখ ও আত্মতৃপ্তি এনে দেয়।

নেতিবাচক মানুষ বর্জন: জীবনের বিষাক্ত ও হতাশাবাদী মানুষদের সঙ্গ একেবারে এড়িয়ে চলুন। সব সময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক মানুষদের সান্নিধ্যে থাকুন।

মন খুলে কথা বলা ও পেশাদার সাহায্য: মনের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। আর নিজের চেষ্টা যথেষ্ট না মনে হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন, কারণ সুস্থ মনের জন্য থেরাপি নেওয়া এক সাহসী পদক্ষেপ।

আলো-ছায়ার এই জীবনে দুঃখ আর সংশয় থাকবেই। তবে নিজের ভিতকে ভালোবেসে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো মেনে চললেই খুঁজে পাওয়া যাবে নিজের এক অনন্য, সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী রূপকে।

সূত্র: মিডিয়াম, স্টার্স ইনসাইডার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত