
মানুষের জীবনের পথে হাঁটা সব সময় একরকম হয় না। আলো আর ছায়ার মতো সুখ আর দুঃখ, সংশয় আর আত্মবিশ্বাস হাত ধরাধরি করে চলে। কখনো কোনো এক হঠাৎ আড্ডায়, বাসে কিংবা অপরিচিত মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতরটা অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কোনো একটি খামতি দেখে কিংবা অতীতের কারও বিষাক্ত মন্তব্যের কথা ভেবে মন ভেঙে যায়। মানুষ তখন ভাবতে থাকে, ‘আমাকে দিয়ে বুঝি কিছু হবে না।’ নিজের প্রতি এই যে এক অনাস্থা বা কম আত্মবিশ্বাস, তা মানুষকে ভেতরে ভেতরে একাকী ও নিঃসঙ্গ করে তোলে। তবে এই বিষাদময় অনুভূতির অন্ধকার স্থায়ী নয়। নিজের আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে নিজেকে এক নতুন আলোয় চেনার পথ আমাদের নিজেদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে। নিজের আত্মমর্যাদাবোধ ফিরিয়ে এনে জীবনের আলোয় নিজেকে নতুন করে চেনার পথগুলো খুঁজে নিতে হবে নিজেকেই।
- ভুলকে সহজভাবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ মানুষমাত্রই ভুল করে। ভুলের জন্য নিজেকে অপরাধী না ভেবে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই মূল কথা।
- নিজের পছন্দ-অপছন্দ, ভয় এবং সীমাবদ্ধতাগুলোকে জানুন। নিজের প্রতি এই স্পষ্ট ধারণা মনকে শক্ত করে।
- অন্য কারো মতো হওয়ার বা কাউকে সন্তুষ্ট করার কৃত্রিম চেষ্টা ছাড়ুন। আপনি যেমন, সেটাই আপনার সবচেয়ে বড় সত্য।
ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি মনকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ভেতরে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস জোগায়। কারো সঙ্গে কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলার চেষ্টা করুন। কথোপকথনের সময় অন্য কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে নিজের ভেতরের সাহসের প্রকাশ ঘটে। কথা বলার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ান। শরীরের ভঙ্গি বা পোজ সোজা ও সঠিক রাখলে শুধু পিঠের স্বাস্থ্য ভালো থাকে না, নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তিও তৈরি হয়। খুব দ্রুত কথা না বলে ধীরে ও শান্তভাবে কথা বলুন। এতে আপনার কথার গুরুত্ব ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়।

অহেতুক ‘দুঃখিত’ শব্দটি ব্যবহার করবেন না। প্রতিটি কথায় অপ্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। সত্যিকারের ভুল না হলে ক্ষমা চাওয়া বন্ধ করলে নিজের প্রতি আস্থা বাড়ে। আয়নার সামনে অতিরিক্ত সময় না কাটিয়ে শুধু চেহারা একটু গুছিয়ে নেওয়ার কাজে এটি ব্যবহার করুন। আয়নায় নিখুঁত সৌন্দর্য না খুঁজে নিজের সুন্দর দিকগুলোকে ভালোবাসুন। আমরা ভুলগুলো মনে রাখি কিন্তু ভালো কাজ ভুলে যাই। আপনার ছোট ছোট অর্জন ও ভালো কাজগুলো খাতায় লিখে রাখুন। একবারে বড় কিছু না করে ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করুন এবং তা পূরণ করুন। প্রতিটা ছোট সাফল্য মনের ভয় কাটিয়ে দেয়।
নতুন ভাষা, রান্না কিংবা বাদ্যযন্ত্রের মতো নতুন কোনো দক্ষতা শেখা জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিজের পছন্দের কাজ ও ব্যায়াম করতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কিছুটা সময় নিজের প্রিয় কাজের জন্য রাখুন। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কসরত ও সুষম খাবার শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। সপ্তাহে অন্তত কয়েকদিন কিছুটা সময় ধ্যানে মগ্ন হলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে ও মানসিক চাপ দূর হয়। পার্লার বা সেলুনে গিয়ে নিজের পরিচর্চা করা বা রূপচর্চা করাও মনকে নতুন উদ্দীপনা দেয়।
মানুষকে সাহায্য করা: কোনো কিছুর আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে সাহায্য করা বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হওয়া বুকের ভেতর এক অপূর্ব সুখ ও আত্মতৃপ্তি এনে দেয়।
নেতিবাচক মানুষ বর্জন: জীবনের বিষাক্ত ও হতাশাবাদী মানুষদের সঙ্গ একেবারে এড়িয়ে চলুন। সব সময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক মানুষদের সান্নিধ্যে থাকুন।
মন খুলে কথা বলা ও পেশাদার সাহায্য: মনের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। আর নিজের চেষ্টা যথেষ্ট না মনে হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন, কারণ সুস্থ মনের জন্য থেরাপি নেওয়া এক সাহসী পদক্ষেপ।
আলো-ছায়ার এই জীবনে দুঃখ আর সংশয় থাকবেই। তবে নিজের ভিতকে ভালোবেসে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো মেনে চললেই খুঁজে পাওয়া যাবে নিজের এক অনন্য, সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী রূপকে।
সূত্র: মিডিয়াম, স্টার্স ইনসাইডার

প্রেমের সম্পর্কে আসা মানেই যেন সম্পর্কের রং চেনার এক নিরন্তর খেলা। সম্পর্কের নীল আকাশে যেমন কখনো কখনো লাল সতর্কবার্তা থমকে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ভেসে ওঠে হলুদ সংকেত বা ‘ইয়েলো ফ্ল্যাগ’। ট্রাফিক লাইটের হলুদ আলো মানেই গাড়ি থামিয়ে একটু থামা, দেখা এবং ভাবা। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইয়েলো
১২ মিনিট আগে
বাড়ি কিংবা চেনা পরিবেশের বাইরে যেতে না চাওয়া বা মানুষের সঙ্গে না মেশার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বাড়িতে মেহমান এলে বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা ঘরে লুকিয়ে থাকে কিংবা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার বাহানা করে সামনে আসতে চায় না। এমন ঘরকুনো স্বভাব দেখলে পরিবারের বড়রা প্রায়ই মন খারাপ করেন কিংবা
৩ ঘণ্টা আগে
কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের কন্যা হিসেবে শুধু নয়, সারা টেন্ডুলকার প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতির কারণে। ব্যক্তিগত জীবনের ঝলকের মাধ্যমে তিনি ইন্টারনেটের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর সম্পর্ক এবং ভব
৫ ঘণ্টা আগে
দিনের শেষে ক্লান্তির চাদর গায়ে জড়িয়ে পুরো পরিবার ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়। তখনো আলো জ্বলে গৃহিণী বা কর্মজীবী নারীর নিভৃত কক্ষে। শ্রান্ত শরীরে শান্ত হাতে তিনি গুছিয়ে রাখেন নিশিরাতের রান্নাঘর। মনে মনে এঁকে নেন আগামীকালের সূর্যোদয়ের ব্যস্ততম ক্যালেন্ডার। কিংবা আধবোজা চোখে জলপট্টি ছোঁয়ান জ্বরে তপ্ত....
৮ ঘণ্টা আগে