
ঈদ মানেই শিকড়ের টানে বাড়ি ফেরা। সারা বছর কর্মব্যস্ততায় যাঁদের সঙ্গে দেখা হয় না, এই উৎসবে তাঁদের সবার মিলনমেলা বসে। আত্মীয়স্বজন আর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও হাসাহাসিতে সময়টা যেন পলকেই কেটে যায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সবাই একসঙ্গে বসেও আমরা মগ্ন থাকি নিজের স্মার্টফোনে। অথচ এই সময়টা হতে পারে আমাদের শৈশব ফিরে পাওয়ার এবং আপনজনদের সঙ্গে সত্যিকারের কিছু স্মৃতি তৈরির সুযোগ। ক্যারম বোর্ড কিংবা লুডুর ভাঁজে লুকিয়ে থাকে শৈশবের স্মৃতি। আপনার এবারের ঈদের আড্ডা আরও প্রাণবন্ত করতে এবং প্রযুক্তির আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতে মেতে উঠতে পারেন পুরোনো সব দেশি-বিদেশি ইনডোর গেমে। এই খেলাগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে সেই দিনগুলোতে, যখন আনন্দ ছিল সহজ ও অকৃত্রিম।
জনপ্রিয় কিছু খেলা
চোর-ডাকাত-বাবু-পুলিশ: কাগজের চারটি চিরকুটে চোর, ডাকাত, বাবু ও পুলিশ লিখে এই খেলা হয়। বাবু নিরাপদ, পুলিশকে খুঁজে বের করতে হবে কে চোর আর কে ডাকাত। সঠিক উত্তর দিতে পারলে পুলিশ বিজয়ী। নয়তো পয়েন্ট যাবে চোর আর ডাকাতের কাছে। শৈশবের এই খেলা আড্ডায় বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে আসে।
ডাম্ব শ্যারাড: এটি আড্ডার জনপ্রিয় খেলা। মুখ দিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ না করে শুধু অঙ্গভঙ্গি বা শারীরিক ভাষার মাধ্যমে একটি সিনেমার নাম, বই বা বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির নাম বুঝিয়ে দিতে হবে আপনার দলকে। এটি যেমন মজার, তেমনি বুদ্ধিরও পরীক্ষা।
নাম, দেশ, ফুল, ফল: একটি খাতা ও কলম থাকলেই এই বুদ্ধির খেলা শুরু করা যায়। খাতাকে চারটি ভাগ করুন—নাম, দেশ, ফুল ও ফল। এরপর লটারিতে পড়া যেকোনো একটি অক্ষর দিয়ে দ্রুত ঘরগুলো পূরণ করতে হবে। ছোট-বড় সবাই মিলে এই খেলায় আনন্দ পাওয়া যায়। যেকোনো এক ক্যাটাগরিতে লেখা নামগুলো যাদের মিলে যাবে, তাদের নম্বর কমে যাবে— এটিই এই খেলার নিয়ম।
মিউজিক্যাল চেয়ার ও বালিশ বদল: পুরো পরিবার গোল হয়ে বসে মিউজিক চলার সঙ্গে সঙ্গে বালিশ বদল করবে। গান থামলে যার হাতে বালিশ থাকবে, তাকে কোনো গান গাইতে হবে বা মজার কোনো কাজ করে দেখাতে হবে। এতে আড্ডা অনেক বেশি আনন্দময় হয়।
শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় ও মজাদার খেলা
ট্রেজার হান্ট: বাড়ির বিভিন্ন কোনায় চকলেট বা ছোট উপহার লুকিয়ে রাখুন। ছোটদের জন্য কিছু ক্লু বা ইঙ্গিত দিন, যাতে তারা সেগুলো খুঁজে পায়। এটি তাদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। ঈদের সময় বাড়ি ভরে যায় কচিকাঁচায়। এই খেলার মধ্যে ব্যস্ত রাখলে তাদেরও সময় কাটে, বড়রাও নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
চায়নিজ হুইস্পার: সবাই গোল হয়ে বসুন। একজন পাশের জনের কানে খুব নিচু স্বরে একটি লম্বা বাক্য বলবেন। সেই বাক্য ক্রমান্বয়ে সবার কান হয়ে শেষ ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে। একদম শেষে বাক্যটি কী দাঁড়াল, তা শুনতে গিয়ে হাসির রোল পড়ে যায়।
শব্দজব্দ: শিশুদের শব্দভান্ডার বাড়াতে এটি দারুণ। ডিকশনারি থেকে একটি কঠিন শব্দ বেছে নিয়ে অন্যদের সেটির অর্থ লিখতে বলুন। যার সংজ্ঞা আসল অর্থের কাছাকাছি হবে, সে-ই জয়ী।
সবাই মিলে খেলুন
ইনডোর বোলিং: প্লাস্টিকের খালি বোতল বা ক্যান সাজিয়ে বল দিয়ে সেগুলো ফেলার চেষ্টা করুন। বাড়ির বারান্দা বা ছাদে সহজে এটি খেলা যায়।
ভারসাম্য রক্ষা: ঘরের মেঝেতে মাস্কিং টেপ দিয়ে একটি সোজা লাইন টানুন। শিশুদের বলুন সেই লাইনের ওপর দিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে হাঁটতে।
বিন্দু যোগ: একটি কাগজে অনেকগুলো বিন্দু দিন। এক এক করে দাগ টেনে বক্স তৈরি করতে হবে। যার বক্স সবচেয়ে বেশি হবে, সে জিতবে।
স্মার্টফোন আমাদের একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এবারের ঈদে মোবাইল ফোনকে পাশে রেখে প্রিয় মানুষদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন, তাদের সঙ্গে হাসুন আর শৈশবের এই খেলাগুলোয় মেতে উঠুন। এই স্মৃতিগুলো বছরের বাকি দিনগুলোতে আপনার মনে প্রশান্তি জোগাবে। মনে রাখবেন, পরিবারের সঙ্গে কাটানো গুণগত সময়টাই এই ঈদের সেরা উপহার।

২০২২ সালে ইউনেসকো ফরাসি বাগেটকে ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই বাগেটই ফ্রান্সের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফরাসি ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, তবে কি ফরাসি টেবিল থেকে বাগেট অদৃশ্য হয়ে যাবে? বাইরে মুচমুচে আর ভেতরে মাখনের মতো নরম...
৮ ঘণ্টা আগে
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলসের ছোট্ট সেই গ্রামের নাম মাওলিননং। মাত্র ৬০০ মানুষের বসতি এই গ্রামে। সুন্দর ফুলের সারি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখতে প্রতি শনিবারেও প্রায় এক হাজার পর্যটকের ভিড় জমে এখানে। গ্রামটি এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এই বিপুল...
১১ ঘণ্টা আগে
উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় কেবিনের লাইট বা ভেতরের আলো কমিয়ে দেওয়া কোনো নান্দনিক বা সাজসজ্জার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমান নিরাপত্তার কৌশল। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা উড্ডয়ন ও অবতরণের এই সময়কে বিমানের সবচেয়ে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্রিটিক্যাল ফেজ’ বলে মনে করেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
‘দ্য জাপানিজ ওয়াইফ’ সিনেমাটি দেখার পর, ২০১১ বা ২০১২ সালের দিকে জাপানের প্রতি আমার আগ্রহ জাগে। চলচ্চিত্রটিতে দেখানো জাপানের মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা; বিশেষ করে মিয়াগি নামের জাপানি মেয়েটির ব্যক্তিত্ব ও ঋজু আবেগ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনই মনে হয়েছিল, সুযোগ পেলে একদিন দেশটি কাছ থেকে দেখব।
১৫ ঘণ্টা আগে