Ajker Patrika

অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষেরা নিজেদের ভালো রাখবেন যেভাবে

ফিচার ডেস্ক
অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষেরা নিজেদের ভালো রাখবেন যেভাবে
অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষের কাছে অপরিচিত মানুষও অনায়াসেই তাঁদের জীবনের গল্প বলে ফেলেন। ছবি: পেক্সেলস

মানুষের আবেগ প্রকাশের ধরন ভিন্ন। তেমনি অন্যের দুঃখ বা কষ্টের সময় সহমর্মিতা দেখানোর পদ্ধতিও সবার জন্য এক নয়। কেউ কষ্টে থাকলে উচ্চ স্বরে কান্না বা রাগ প্রকাশ করেন, আবার কেউ একদম নিস্তব্ধ হয়ে যান। অন্যের কষ্ট দেখে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়া একজন অন্তর্মুখী মানুষের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে। আবার অনেকে সহানুভূতি গ্রহণ করতেও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁরা মনে করেন, এতে তাঁদের মানসিকভাবে নিচু বা দুর্বল দেখানো হচ্ছে। তবে আমাদের মাঝে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা অন্যদের আবেগ খুব গভীরভাবে অনুভব করেন। এদের বলা হয় ‘এম্প্যাথ’ বা অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। সহজ কথায়, এম্প্যাথরা হলেন একধরনের ইমোশনাল স্পঞ্জ, যাঁরা চারপাশের আনন্দ বা চাপ শুষে নেন। এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি একজন সংবেদনশীল মানুষ?

আবেগময় সংবেদনশীলতা ও এর প্রভাব

এম্প্যাথদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁরা অন্যের অনুভূতিকে কেবল বোঝেন না; বরং অন্যের অভিজ্ঞতাগুলো নিজের অভিজ্ঞতার মতো অনুভব করেন। কেউ মুখে ‘ভালো আছি’ বললেও তাঁর মনের ভেতরের প্রকৃত অস্থিরতা এরা সহজেই ধরে ফেলতে পারেন। অনেক সময় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন এম্প্যাথ হুট করে বিষণ্নতা বা শারীরিক অস্বস্তি (যেমন বুক ভার হয়ে যাওয়া) বোধ করতে পারেন। এটা আসলে তাঁর আশপাশে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তির আবেগ। ঝগড়া বা অশান্তি এদের দ্রুত বিপর্যস্ত করে ফেলে। এমনকি সিনেমা বা পর্দায় দেখা সহিংসতাও এদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা বা চাপের সৃষ্টি করতে পারে। সহমর্মিতা একটি ভালো গুণ হলেও নিজের আবেগ ও শক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একজন এম্প্যাথ হন, তবে নিজের জন্য সুস্থ মানসিক সীমানা তৈরি করা এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি, যাতে আপনি মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।

প্রকৃতি ও নির্জনতার সঙ্গে মিতালি

এম্প্যাথদের জন্য প্রকৃতি হলো শক্তি সঞ্চয়ের জায়গা। বনের নিস্তব্ধতা বা সমুদ্রের গর্জন তাঁদের স্নায়ু শান্ত করে এবং চারপাশের কোলাহল থেকে মুক্তি দেয়। নিজেকে পুনরায় সতেজ করতে তাঁদের নিয়মিত একা থাকার প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বা স্পর্শ এম্প্যাথদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। সম্পর্কে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলার ভয় তাঁদের তাড়া করে বেড়ায়। জনবহুল জায়গায় অনেক মানুষের বিচিত্র আবেগ ও শক্তি একত্রে কাজ করে। আর এই বিষয়টিই একজন এম্প্যাথের স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের মানুষ একা থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শুধু আবেগ নয়, শব্দ, গন্ধ বা কোনো শারীরিক স্পর্শের প্রতিও এরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হন। তীব্র গন্ধ বা উচ্চ শব্দ এদের দ্রুত বিচলিত করতে পারে।

গভীর অন্তর্দৃষ্টি

এম্প্যাথদের ইনটুইশন বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুব প্রখর হয়। কেউ মিথ্যা বলছেন কি না বা কোন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, তা তাঁরা প্রায়ই আগে থেকে অনুভব করতে পারেন। এম্প্যাথরা পেশাদার থেরাপিস্ট হিসেবে চমৎকার কাজ করতে পারেন। কারণ অন্যের আবেগ বুঝতে এবং ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা তাঁদের প্রাকৃতিক। এম্প্যাথ মানুষেরা এই ক্ষমতার মাধ্যমে কাউকে সাহায্য করতে পারলে নিজেকে সার্থক মনে করেন।

এম্প্যাথরা পেশাদার থেরাপিস্ট হিসেবে চমৎকার কাজ করেন। তাঁরা অন্যের আবেগ বুঝতে পারেন এবং ব্যাখ্যা করার ক্ষমতার মাধ্যমে তা নিরাময় করতে সাহায্য করেন। ছবি: পেক্সেলস
এম্প্যাথরা পেশাদার থেরাপিস্ট হিসেবে চমৎকার কাজ করেন। তাঁরা অন্যের আবেগ বুঝতে পারেন এবং ব্যাখ্যা করার ক্ষমতার মাধ্যমে তা নিরাময় করতে সাহায্য করেন। ছবি: পেক্সেলস

সীমানা নির্ধারণ করতে না পারা

দ্বন্দ্ব বা ঝগড়া এম্প্যাথদের দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। অন্যের নেতিবাচক আবেগ তাঁদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। তাই তাঁরা সুকৌশলে অশান্তি এড়িয়ে শান্তিতে থাকতে চান। কিন্তু বন্ধু বা পরিবারের মানুষজন প্রায়ই তাঁদের সমস্যার কথা বলতে তাঁর কাছে ছুটে আসেন। অপরিচিত মানুষও অনায়াসেই তাঁর কাছে তাঁদের জীবনের গল্প বলে ফেলেন। কারণ তাঁরা এ ধরনের মানুষের কাছে নিরাপদ বোধ করেন। এ ধরনের মানুষগুলো অন্যকে সাহায্য করার প্রবল ইচ্ছা থাকায় এম্প্যাথরা অনেক সময় ‘না’ বলতে পারেন না। এতে তাঁরা অন্যের সমস্যার বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেন। আর এটাই দীর্ঘ মেয়াদে তাঁদের মানসিক অবসাদ বা ‘বার্ন আউট’-এর দিকে ঠেলে দেয়।

এম্প্যাথরা যেভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন

এম্প্যাথ হওয়া কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বিশেষ ক্ষমতা। তবে নিজের শক্তি ও আবেগ সম্পর্কে সচেতন না হলে এই গুণটিই জীবনের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিজে সুস্থ থাকতে যা করবেন—

প্রিয়জনদের সঙ্গে নিজের মানসিক সীমানা নিয়ে স্পষ্ট কথা বলা এবং প্রয়োজনের সময় দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

কোন আবেগটি নিজের আর কোনটি অন্যের থেকে আসা, তা চিহ্নিত করতে শিখতে হবে।

নিয়মিত ধ্যান বা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর মাধ্যমে স্নায়ুকে বিশ্রাম দিতে হবে।

নেতিবাচক মানুষ বা পরিবেশ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।

সূত্র: হেলথ লাইন, মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত