
বাক্সের ভেতরে মা বিড়াল আর তার চারটি ছানা। পরিস্থিতির কারণে আমি আমার দেশে ফিরে যাচ্ছি। অনেকবার কল করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি। দুঃখিত মনেই গেটের সামনে এগুলো রেখে গেলাম।
একটি ছোট সাদা কাগজে হাতে লেখা এই কয়েকটা কথা শুধু এক অসহায় মালিকের বিদায়বার্তা। একবার ভেবে দেখুন তো, এটা কি শুধুই একটি বিদায়বার্তা? কাগজটি আসলে যুদ্ধের মুখে দুবাইয়ের বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ দলিল। অনেক প্রবাসী বিলাসবহুল ও করমুক্ত জীবনের আশায় ‘বিশ্বের নিরাপদতম শহর’ হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ে বসবাস করতেন। তাঁদের এই বিপদের সময় পোষা প্রাণী ফেলে যাওয়ায় ইন্টারনেটে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে দুবাই আজ এক অস্থির নগরী। জীবন বাঁচাতে মানুষ মরিয়া হয়ে শহর ছাড়ছে। কিন্তু এই যাত্রায় তাদের বিশ্বস্ত সঙ্গী পোষা প্রাণীগুলো যাত্রাসঙ্গী হচ্ছে না। এই অবলা প্রাণীগুলোকে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে দুবাইয়ের সড়কে সড়কে।
অসহায় ফেলে যাওয়া প্রাণীগুলো

দুবাইয়ের রাস্তা এখন শুধু মানুষের ভিড়ে ঠাসা নয়; সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মালিকবিহীন শত শত কুকুর আর বিড়াল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট পোষা প্রাণীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি; বিশেষ করে দুবাইয়ে কুকুরের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ পোষা প্রাণীর মালিকের মালিকানায় আছে বিড়াল। প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশিসংখ্যক প্রাণী রেসকিউ করছেন। ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করার পর প্রায় ১৪ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক দেশ ছাড়ার আবেদন করেছেন। কিন্তু বিমানে পোষা প্রাণী পরিবহনের জটিলতা, অতিরিক্ত খরচ এবং তড়িঘড়ি করে পালানোর চাপে অনেকে তাঁদের আদরের বিড়াল বা কুকুরকে রাস্তায় ফেলে যাচ্ছেন। কেউ তাঁদের ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে বেঁধে রেখে যাচ্ছেন, কেউবা মরুভূমিতে ফেলে আসছেন মৃত্যুর মুখে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কান্নার রোল
দুবাইয়ের প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন উপচে পড়া ভিড়ে থমকে গেছে। কে-নাইন ফ্রেন্ডস এবং দ্য বার্কিং লটের মতো সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, তারা প্রতিনিয়ত পরিত্যক্ত প্রাণী খুঁজে পাওয়ার ফোনকল পাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক মালিক তাঁদের সুস্থ পোষা প্রাণীকে মেরে ফেলার জন্য পশু চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন, শুধু স্থানান্তরের খরচ বা আইনি ঝামেলা এড়াতে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানাচ্ছেন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক গ্রুপে প্রতিদিন শত শত এমন ছবি ও পোস্ট আসছে, যেখানে আদরের প্রাণীদের রাস্তায় ফেলে দেওয়ার করুণ চিত্র দেখা যাচ্ছে।

আবেগের পরাজয় যেখানে
দুবাইয়ের আল আইন এলাকায় একটি দরজার সামনে চারটি ছানাসহ এক মা বিড়ালকে ফেলে যাওয়ার ঘটনা নাড়া দিয়ে গেছে বিশ্ববাসীকে। ওমান সীমান্তে প্রবেশের সময় অনেকের পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি মেলেনি। ফলে নিরুপায় হয়ে তাদের মরুভূমিতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ার পওজ’-এর প্রধান লুইস হাস্টি এই ঘটনাকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেছেন, ‘অনেক মানুষের কাছে পোষা প্রাণী শুধু একটি শৌখিন বস্তু, পরিবারের সদস্য নয়। অথচ ইরাক বা ইউক্রেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতেও অনেক মানুষ তাদের প্রাণীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আগলে রাখছেন।’
সীমাবদ্ধতা ও মানবিক আহ্বান
দুবাইয়ে প্রাণী সেবা সংস্থাগুলোর জন্য ফান্ড জোগাড় করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, সেখানে অনলাইন ফান্ডিং নিষিদ্ধ। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। তবে দুবাই মিউনিসিপ্যালটি সম্প্রতি রাস্তার প্রাণীদের খাওয়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত স্মার্ট যন্ত্র চালু করেছে। এহসান স্টেশন নামের এই উদ্যোগে ১২টি যন্ত্র বসানো হবে। এগুলো রাস্তার প্রাণী শনাক্ত করবে, তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সেই অনুযায়ী খাবার দেবে। এই প্রকল্প রাস্তায় ফেলে যাওয়া প্রাণীদের কিছুটা হলেও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের দামামায় মানুষের হাহাকারের মাঝে এই অবলা প্রাণীদের আর্তনাদ চাপা পড়ে যাচ্ছে। যারা একসময় ঘরের কোণে উষ্ণতা ছড়াত, তারা আজ রাজপথের ধুলোয় পরিত্যক্ত। যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা শুধু ঘরবাড়ি বা অর্থনীতি নয়, ধ্বংস করে দিচ্ছে মানুষের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা আর মমতাকেও।
সূত্র: দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য ডেইলি মেইল

ব্রেকআপ হলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মনে হয়, যেন জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, চারপাশের পৃথিবীটাও হঠাৎ করে শূন্য হয়ে উঠেছে। তবে অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে নিজেকে কষ্টে ডুবিয়ে রাখা সমাধান নয়। সেই দুঃখ থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার সাহস জোগাতেই আজকের দিন ‘ব্যর্থ প্রেম ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন
৪ ঘণ্টা আগে
জেনারেশন জেড বা জেন–জিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুরুষ মনে করে, স্ত্রীর স্বামীর কথা মান্য করা উচিত এবং সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব স্বামীরই হওয়া উচিত। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
বাঙালি নারীর আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দময় পোশাকের কথা বললে সালোয়ার-কামিজের নাম আসে সবার আগে। উৎসবের জমকালো আয়োজন হোক কিংবা প্রতিদিনের ব্যবহারে—সালোয়ার-কামিজ সব বয়সের নারীর কাছে সমাদৃত। এখন বাজারে পোশাকের নকশা ও কাপড়ে এত বেশি বৈচিত্র্য যে সঠিকটি বেছে নেওয়া অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
১৪ ঘণ্টা আগে
চোখের সাজ আরও আকর্ষণীয় করতে এবং পাপড়িগুলো ঘন করে তুলতে অনেকে নিয়মিত মাসকারা ব্যবহার করেন। চোখের চারপাশের চামড়া আমাদের শরীরের নরম ও সংবেদনশীল অংশ। তাই মাসকারা তোলার ক্ষেত্রে ঘষাঘষির বদলে ‘সোক অ্যান্ড স্লাইড’ কিংবা ‘ভিজিয়ে আলতো করে তুলে আনা’র মতো কৌশল নেওয়া জরুরি।
১৫ ঘণ্টা আগে