মো. ফজলুল আলম

১৩১২ থেকে ১৩২৭ সাল পর্যন্ত মানসা মুসা মালি শাসন করেন। এই সময়কে মালি সাম্রাজ্যের স্বর্ণকাল বলা হয়। তাঁর পরদাদা সুনজাতা ছিলেন সাম্রাজ্যটির প্রতিষ্ঠাতা। মালিংকে জাতি নিয়ে সুনজাতা একটি জাতিবাদী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তবে তাঁর উত্তরসূরি প্রভাবশালী মানসা মুসা বহুজাতিক ইসলামি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩২৪ সালে তিনি পবিত্র হজব্রত পালন করতে বের হন।
মালি থেকে মক্কায় যেতে মানসা মুসা এক বছরের বেশি সময় নিয়েছিলেন। নাইজার নদী দিয়ে মেমা, ওয়ালাতা, তেঘাজা হয়ে তিনি মধ্য আফ্রিকার অন্যতম বড় বাণিজ্যকেন্দ্র তুয়াতে আসেন। তুয়াত তখন সব ধর্মের মানুষের প্রিয় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। এরপর তিনি মিসরে পৌঁছান। পিরামিডের কাছে তাঁবু গাড়েন। মিসরের সুলতানের জন্য ৫০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার পাঠান। সুলতান তাঁকে প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান।
টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে মুসাকে সর্বকালের সেরা ধনীদের একজন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রায় তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সঙ্গে নিয়েছিলেন। পথে পথে মানুষের মধ্যে তা বিতরণ করেন। মিসরে তিনি এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেন যে সেখানে স্বর্ণের দাম ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। হজের পুরো সফরে তিনি এত বেশি দান করেন যে মক্কা থেকে ফেরার সময় কায়রো পৌঁছে তাঁকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ ধার নিতে হয়েছিল।
ইসলাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলেও মানসা মুসা ধর্মপ্রাণ ছিলেন। পুরো আফ্রিকায় তাঁর ব্যাপক দাপট ছিল। ইবনে বতুতা লিখেছেন, অন্য রাজা-বাদশাহর মতো মুসাও মানুষের সমীহ পেতে লালায়িত থাকতেন। প্রজারা তাঁকে হাঁটু গেড়ে বসে সম্মান জানাত। হজের সফরে কায়রো পৌঁছালে এভাবেই তাঁকে সম্মান জানায় মিসরের লোকজন। এ ছাড়া মুসার প্রাসাদের আরেকটি প্রথা ছিল, প্রজাদের অতি সুন্দরী কন্যা থাকলে তাকে রাজার বিছানায় যেতে হতো। অবশ্য মানসা মুসা পরে এসব ইসলামবিরোধী কাজ থেকে বিরত হন।
মামলুক আমলের বিচারক ইবনে আমির হাজিবের সূত্রে ইবনে বতুতা বলেছেন, মানসা মুসা আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করতেন। তিনি নিজে আদেশ জারি করতেন না, একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে বার্তা পাঠাতেন। লেখালেখির জন্যও তাঁর দরবারে আলাদা কর্মকর্তা ছিলেন।
ইবনে বতুতা আরও বলেন, হজের সফরে মুসা বিশাল বাহিনী নিয়ে গিয়েছিলেন। হাজার হাজার মানুষ, দেহরক্ষী, ঘোড়া ও উটের বিশাল বহর এবং রঙিন সব পতাকা নিয়ে তিনি মক্কায় রওনা করেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর স্ত্রী ইনারি কুনাতে। স্ত্রীর সঙ্গে ছিল ৫০০ দাসদাসীর বিশাল বহর। তবে স্ত্রী ইনারি মানসা মুসাকে ভয় পেতেন এবং সম্মান করতেন।
মানসা মুসার ঐতিহাসিক এই হজযাত্রা মালিতে ইসলামের বিকাশে অবদান রেখেছিল। পুরো আফ্রিকা ও ইউরোপে মালির গৌরব ও মর্যাদা বেড়েছিল। হজ থেকে ফেরার সময় তিনি আন্দালুসের বিখ্যাত এক স্থপতিকে সঙ্গে নিয়ে যান। তাঁর মাধ্যমেই মধ্যযুগে আফ্রিকার স্থাপত্যবিস্ময় টিম্বক্টু শহর গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মহানবী (সা.)কে সম্মান জানিয়ে তাঁর চারজন বংশধরকেও বরকত নেওয়ার জন্য মালি সাম্রাজ্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
ইতিহাসবিদ লেভজিয়ন বলেছেন, মানসা মুসার হজযাত্রার কথা মুসলিম, অমুসলিম, পশ্চিম আফ্রিকা ও মিসরের ঐতিহাসিক দলিলপত্রে লেখা আছে। ইউরোপের ইতিহাসেও মালির সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ও মানসা মুসার কথা পাওয়া যায়। মসজিদ নির্মাণ ও মুসলিম বিশ্বের পণ্ডিতদের মালিতে আমন্ত্রণের জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সূত্র: অ্যাবাউট ইসলাম ডটনেট

১৩১২ থেকে ১৩২৭ সাল পর্যন্ত মানসা মুসা মালি শাসন করেন। এই সময়কে মালি সাম্রাজ্যের স্বর্ণকাল বলা হয়। তাঁর পরদাদা সুনজাতা ছিলেন সাম্রাজ্যটির প্রতিষ্ঠাতা। মালিংকে জাতি নিয়ে সুনজাতা একটি জাতিবাদী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তবে তাঁর উত্তরসূরি প্রভাবশালী মানসা মুসা বহুজাতিক ইসলামি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩২৪ সালে তিনি পবিত্র হজব্রত পালন করতে বের হন।
মালি থেকে মক্কায় যেতে মানসা মুসা এক বছরের বেশি সময় নিয়েছিলেন। নাইজার নদী দিয়ে মেমা, ওয়ালাতা, তেঘাজা হয়ে তিনি মধ্য আফ্রিকার অন্যতম বড় বাণিজ্যকেন্দ্র তুয়াতে আসেন। তুয়াত তখন সব ধর্মের মানুষের প্রিয় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। এরপর তিনি মিসরে পৌঁছান। পিরামিডের কাছে তাঁবু গাড়েন। মিসরের সুলতানের জন্য ৫০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার পাঠান। সুলতান তাঁকে প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান।
টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে মুসাকে সর্বকালের সেরা ধনীদের একজন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রায় তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সঙ্গে নিয়েছিলেন। পথে পথে মানুষের মধ্যে তা বিতরণ করেন। মিসরে তিনি এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেন যে সেখানে স্বর্ণের দাম ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। হজের পুরো সফরে তিনি এত বেশি দান করেন যে মক্কা থেকে ফেরার সময় কায়রো পৌঁছে তাঁকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ ধার নিতে হয়েছিল।
ইসলাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলেও মানসা মুসা ধর্মপ্রাণ ছিলেন। পুরো আফ্রিকায় তাঁর ব্যাপক দাপট ছিল। ইবনে বতুতা লিখেছেন, অন্য রাজা-বাদশাহর মতো মুসাও মানুষের সমীহ পেতে লালায়িত থাকতেন। প্রজারা তাঁকে হাঁটু গেড়ে বসে সম্মান জানাত। হজের সফরে কায়রো পৌঁছালে এভাবেই তাঁকে সম্মান জানায় মিসরের লোকজন। এ ছাড়া মুসার প্রাসাদের আরেকটি প্রথা ছিল, প্রজাদের অতি সুন্দরী কন্যা থাকলে তাকে রাজার বিছানায় যেতে হতো। অবশ্য মানসা মুসা পরে এসব ইসলামবিরোধী কাজ থেকে বিরত হন।
মামলুক আমলের বিচারক ইবনে আমির হাজিবের সূত্রে ইবনে বতুতা বলেছেন, মানসা মুসা আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করতেন। তিনি নিজে আদেশ জারি করতেন না, একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে বার্তা পাঠাতেন। লেখালেখির জন্যও তাঁর দরবারে আলাদা কর্মকর্তা ছিলেন।
ইবনে বতুতা আরও বলেন, হজের সফরে মুসা বিশাল বাহিনী নিয়ে গিয়েছিলেন। হাজার হাজার মানুষ, দেহরক্ষী, ঘোড়া ও উটের বিশাল বহর এবং রঙিন সব পতাকা নিয়ে তিনি মক্কায় রওনা করেছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর স্ত্রী ইনারি কুনাতে। স্ত্রীর সঙ্গে ছিল ৫০০ দাসদাসীর বিশাল বহর। তবে স্ত্রী ইনারি মানসা মুসাকে ভয় পেতেন এবং সম্মান করতেন।
মানসা মুসার ঐতিহাসিক এই হজযাত্রা মালিতে ইসলামের বিকাশে অবদান রেখেছিল। পুরো আফ্রিকা ও ইউরোপে মালির গৌরব ও মর্যাদা বেড়েছিল। হজ থেকে ফেরার সময় তিনি আন্দালুসের বিখ্যাত এক স্থপতিকে সঙ্গে নিয়ে যান। তাঁর মাধ্যমেই মধ্যযুগে আফ্রিকার স্থাপত্যবিস্ময় টিম্বক্টু শহর গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মহানবী (সা.)কে সম্মান জানিয়ে তাঁর চারজন বংশধরকেও বরকত নেওয়ার জন্য মালি সাম্রাজ্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
ইতিহাসবিদ লেভজিয়ন বলেছেন, মানসা মুসার হজযাত্রার কথা মুসলিম, অমুসলিম, পশ্চিম আফ্রিকা ও মিসরের ঐতিহাসিক দলিলপত্রে লেখা আছে। ইউরোপের ইতিহাসেও মালির সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ও মানসা মুসার কথা পাওয়া যায়। মসজিদ নির্মাণ ও মুসলিম বিশ্বের পণ্ডিতদের মালিতে আমন্ত্রণের জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সূত্র: অ্যাবাউট ইসলাম ডটনেট

বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা শত্রুর হাত থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো—‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’। দোয়াটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতার অনন্য ঘোষণা। অসুস্থতা, উদ্বেগ কিংবা কোনো বড় ক্ষতির আশঙ্কার সময় এই আমল মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।
১৬ মিনিট আগে
সুরা ওয়াকিয়া পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৫৬তম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুরা। এই সুরায় কিয়ামতের ভয়াবহ বাস্তবতা, মানুষের বিভিন্ন শ্রেণি ও তাদের পরকালীন পরিণতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই সুরা পাঠের জাগতিক অনেক উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও রিজিকে বরকতের জন্য...
২ ঘণ্টা আগে
কালিমা শাহাদাত হলো ইসলামের ৫টি স্তম্ভের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কালিমা অর্থ বাণী বা বাক্য এবং শাহাদাত অর্থ সাক্ষ্য প্রদান করা। অর্থাৎ কালিমা শাহাদাতের অর্থ হলো সাক্ষ্য প্রদানের বাণী। এই কালিমা ইমানের মূল বাণী। এর মাধ্যমেই মুমিন তার বিশ্বাসের ঘোষণা প্রদান করে।
৬ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৩ ঘণ্টা আগে