Ajker Patrika

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান (রহ.)

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী
দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান (রহ.)
শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-আন্দোলন ও ইসলামি শিক্ষা প্রসারের ইতিহাসে শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাসের প্রথম ছাত্র এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

শায়খুল হিন্দ ১৮৫১ সালে ভারতের বেরেলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশধারা ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তাঁর পিতা মাওলানা জুলফিকার আলী উসমানি ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম, সুলেখক ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব।

শিক্ষাজীবন: দেওবন্দের প্রথম সূর্যসন্তান

শায়খুল হিন্দের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় স্থানীয় মক্তবে। তিনি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্র।

  • ওস্তাদগণ: তিনি মাওলানা মাহমুদ দেওবন্দি ও মাওলানা কাসেম নানুতবি (রহ.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ আলেমদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
  • হাদিস শাস্ত্র: মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি ও শাহ আবদুল গনি (রহ.)-এর কাছ থেকে তিনি হাদিসের উচ্চতর সনদ লাভ করেন। ১৮৭২ সালে তিনি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

কর্মজীবন ও শিক্ষকতা

শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দেই শিক্ষকতা শুরু করেন। তাঁর পাণ্ডিত্য ও পাঠদান পদ্ধতির কারণে তিনি দ্রুতই ‘শায়খুল হাদিস’-এর মর্যাদা লাভ করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি দেওবন্দে শিক্ষকতা করেন। তাঁর হাতে তৈরি হওয়া বিশ্ববিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মাওলানা আশরাফ আলি থানভি (রহ.)
  • মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)
  • মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানি (রহ.)
  • মাওলানা শাব্বির আহমাদ উসমানি (রহ.)

স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও রেশমি রুমাল আন্দোলন

শায়খুল হিন্দ কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী এক বিপ্লবী নেতা। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা গড়ে উঠেছিল শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভির দর্শনের ওপর ভিত্তি করে।

  • প্যান ইসলামিক জোট: ব্রিটিশদের তাড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর একটি জোট গঠনের চেষ্টা করেন।
  • রেশমি রুমাল আন্দোলন: ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি তাঁর শিষ্য মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধি ও মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানির মাধ্যমে ঐতিহাসিক ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’ সুসংগঠিত করেন।

মাল্টা দ্বীপে কারাবরণ ও নির্বাসন

ব্রিটিশ সরকার তাঁর বৈপ্লবিক কার্যক্রম জানতে পেরে ১৯১৬ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে ভূমধ্যসাগরের মাল্টা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর তিনি অমানবিক পরিবেশে কারাবাস করেন। বন্দী অবস্থায় তিনি পবিত্র কোরআনের তাফসির ও অনুবাদ নিয়ে কাজ করেন। ১৯২০ সালে তিনি মুক্তি পেয়ে ভারতে ফিরে আসেন।

ইন্তেকাল ও উত্তরাধিকার

কারাগারের অমানুষিক নির্যাতন তাঁর শরীরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১৯২০ সালের ৩০ নভেম্বর এই মহান জ্ঞানতাপস ও বীর মুজাহিদ ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবন আজও স্বাধীনতাপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ নেতাদের জামিন হলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির চিঠি

গভর্নর আহসান মনসুর বেরিয়ে যাওয়ার পর বের করে দেওয়া হলো তাঁর উপদেষ্টাকেও

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের পরিচয় ও যোগ্যতা

উদ্যোক্তা থেকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

আহসান মনসুরের নিয়োগ বাতিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত