Ajker Patrika

আপনার জিজ্ঞাসা

ফরজ গোসলে যেসব বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন

মুফতি শাব্বির আহমদ
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: সঠিক উপায়ে ফরজ গোসল কীভাবে করতে হয়? ফরজ গোসলের সময় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে চাই।

আসলাম মিয়া, ঝিনাইদহ।

উত্তর: আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকেই পছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তাহলে নিজেদের শরীর (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অংশ।’ (সহিহ মুসলিম)। সুতরাং ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানলে আমাদের নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হবে না। ফরজ গোসলের সঠিক পদ্ধতি ও সতর্কতাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ফরজ গোসলের মূল স্তম্ভ তিনটি

গোসলের সময় যদি এই তিনটি কাজের কোনো একটি বাদ পড়ে, তবে গোসল শুদ্ধ হবে না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যাবেন: এক. ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়াসহকারে কুলি করা। দুই. নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। তিন. মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত দেহের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো।

সুন্নাহসম্মত উপায়ে ফরজ গোসল

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গোসলের আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করা সবচেয়ে উত্তম। হাদিসের আলোকে সেই পদ্ধতিটি হলো: প্রথমে হাত ধুয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রস্রাব করা (যাতে বীর্য বা অপবিত্রতা পুরোপুরি বের হয়ে যায়)। এরপর গোপন অঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া। নামাজের অজুর মতো পূর্ণাঙ্গ অজু করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে সবার শেষে পা ধোয়ার কাজটি করা যেতে পারে। এরপর প্রথমে মাথায় তিনবার পানি ঢালা। প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাম অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করা।

ফরজ গোসলে সতর্কতা

অসতর্কতার কারণে অনেক সময় শরীরের কিছু অংশ শুকনো থেকে যায়, ফলে গোসল হয় না। তাই নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন:

শরীরের ভাঁজ ও গহ্বর: নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকগুলোতে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে হাত দিয়ে ঘষে পানি দিতে হবে।

অলংকার ও গয়না: হাতে আংটি, ঘড়ি কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে নাকফুল বা কানের দুল থাকলে সেগুলো নাড়িয়ে ভেতরে পানি পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় ওই জায়গা শুকনা থাকলে গোসল হবে না।

চুল ও দাড়ি: পুরুষদের দাড়ি, গোঁফ এবং মাথার চুলের গোড়ায় যেন পানি পৌঁছায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

নারীদের চুলের বিধান: নারীদের চুল যদি বেণি বা খোঁপা করা থাকে এবং তা না খুলেই যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে বেণি খোলা জরুরি নয়। কিন্তু চুল খোলা থাকলে সম্পূর্ণ চুল ভেজানো ফরজ।

প্রতিবন্ধক দ্রব্য: নখে নেলপলিশ, শরীরে সুপার গ্লু বা রং লেগে থাকলে তা তুলে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এগুলো চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়।

দাঁতের ক্যাপ বা ফিলিং: দাঁতে যদি স্থায়ী ক্যাপ বা স্থায়ীভাবে কিছু লাগানো থাকে যা খোলা ক্ষতিকর, তবে তা খোলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সহজে খোলা যায় এমন কিছু থাকলে খুলে নিচে পানি পৌঁছাতে হবে।

শরীরের একটি চুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থাকে, তবে ফরজ গোসল হবে না। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে পবিত্রতা অর্জন করা মুমিনের দায়িত্ব।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিলুপ্ত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, টাকা তুলতে পারায় স্বস্তি

পিটিয়ে হত্যা করা আইনজীবী নাঈম উবারে গাড়ি চালাতেন—জানালেন সহকর্মীরা

বিএনপির সঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা জামায়াতের, তারেক রহমানকে জানালেন আমির

সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার আরও কমল

নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত