রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়তপ্রাপ্তির শুরু থেকে ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ়করণ ও মুসলিম উম্মাহর জাগরণে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, সম্পদ ব্যয় করেছেন, হিজরত করেছেন, এমনকি নিজের জীবনও বিলিয়ে দিয়েছেন। এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
আম্মাজান হজরত খাদিজা (রা.)। তিনিই প্রথম মানুষ, যিনি নবী (সা.)-এর প্রতি ইমান এনেছিলেন। তিনি নবীজির পাশে ছিলেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন এবং স্থির রেখেছেন। ইতিহাস আজও স্মরণ করে সেই মুহূর্ত; নবী (সা.) প্রথমবার হেরা গুহায় ওহি লাভ করে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে এসে বলেছিলেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও!’
তখন খাদিজা (রা.) কোমল হৃদয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুর্বলকে সাহায্য করেন, মেহমানকে আপ্যায়ন করেন এবং সৎকর্মে সহযোগিতা করেন।’ (সহিহ বুখারি)
তাই তো আম্মাজান খাদিজা (রা.)-এর কথা স্মরণ করে নবী করিম (সা.) বলতেন, ‘যে সময় লোকেরা আমার সঙ্গে কুফরি করল, সেই সময়ে তিনি আমার প্রতি নিটোল বিশ্বাস স্থাপন করলেন। যে সময় লোকেরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, সে সময় তিনি আমাকে দান করলেন। আর লোকেরা যখন আমাকে বঞ্চিত করল, তখন তিনি আমাকে তাঁর সম্পদে অংশীদার করলেন। আল্লাহ আমাকে তাঁর গর্ভে সন্তানাদি প্রদান করলেন, অন্য কোনো স্ত্রীর গর্ভে সন্তান দেননি।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৬/১১৮)
তেমনিভাবে মহান সাহাবিয়া সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.)। তিনি ছিলেন হজরত ইয়াসির (রা.)-এর স্ত্রী এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-এর মা। তিনি মক্কায় প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাতজনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন দুর্বল বৃদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম ত্যাগের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। শত নির্যাতনের মধ্যেও তিনি ধৈর্য ধারণ করেন, অবিচল থাকেন এবং আল্লাহর পথে দৃঢ় থাকেন। ফলে আবু জাহেল তাঁর লজ্জাস্থানে বর্শা দিয়ে আঘাত করে এবং তিনিই ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ।
হাবশায় হিজরতে মুসলিম নারীদের ভূমিকা ছিল। প্রথম হিজরতে চার নারী তাঁদের স্বামীদের সঙ্গে হিজরত করেন এবং দ্বিতীয় হিজরতে ১৮ নারী ছিলেন। পুরুষদের পাশাপাশি ইসলাম প্রচারে তাঁদের সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা হিজরতের কষ্ট, মাতৃভূমি, পরিবার ও প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ সহ্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাবশাতেই মারা গিয়েছেন, কেউ ফেরার পথে মৃত্যুবরণ করেছেন।
নারীরা আকাবার দ্বিতীয় বাইআতেও অংশ নেন এবং মদিনায় হিজরত করেন। আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করেন, ‘হে নবী, যখন মুমিন নারীরা তোমার কাছে বাইআত করতে আসে এই শর্তে—তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আর এমন কোনো মিথ্যা অপবাদ রটাবে না; যা তারা নিজ হাতে ও পায়ের সামনে থেকে বানিয়ে এনেছে এবং কোনো সৎকর্মে তোমার অবাধ্য হবে না, তখন তুমি তাদের বাইআত গ্রহণ করো। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা মুমতাহিনা: ১২)
মুসলিম নারীরা জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নবী (সা.)-এর মজলিশেও উপস্থিত হতেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত নবী করিম (সা.)-কে নারীরা বললেন, ‘পুরুষেরা আপনার কাছ থেকে আমাদের চেয়ে বেশি সুযোগ পাচ্ছে, তাই আপনি আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করুন।’ তখন তিনি তাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দেন। সেদিন তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের নসিহত করেন। তিনি তাদের যা বলেন তার মধ্যে ছিল, ‘তোমাদের মধ্যে যার তিনটি সন্তান মারা যাবে আর সে ধৈর্যধারণ করবে এবং নেকির আশা রাখবে, নিশ্চয় সে জান্নাতে যাবে।’ এ সময় এক নারী বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, যদি দুজন মারা যায়?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দুজন মারা গেলেও সে জান্নাতে যাবে।’ (সহিহ বুখারি)
আম্মাজান আয়েশা (রা.) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানে সবচেয়ে অগ্রগামী। তিনি এই ক্ষেত্রে এক মহান মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন। অনেক সাহাবির চেয়েও তাঁর জ্ঞান ছিল বেশি। তাই তাঁরা তাঁর কাছে ইসলামি জ্ঞান অর্জনের জন্য যেতেন এবং তাঁর কাছ থেকে ফতোয়া চাইতেন। বড় বড় সাহাবির সান্নিধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.)। তাঁর অভিমত হলো, ‘আয়েশা (রা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বড় বড় সাহাবিরা তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আসতেন।’ (তাবাকাতুল কুবরা লি-ইবনে সাদ)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক সাহাবির শিষ্যত্ব লাভের গৌরব অর্জন করেছিলেন আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.)। তিনি বলেন, ‘আয়েশা (রা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফকিহ (আইনজ্ঞ), সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সাধারণ বিষয়ে তাঁর মতামত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ছিল।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম)
এ ছাড়া মুসলিম নারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রখ্যাত আলেম ও দিগ্বিজয়ী সেনাপতি তৈরিতে, যাঁরা ইসলামের আলো দিয়ে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত জয় করেছিলেন। পাশাপাশি নারীরা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল এবং এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার কাজে অবদান রেখেছেন। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রেও তাঁদের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

পবিত্র মক্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে সৌদি আরব। ‘রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটসের’ (RCMC) সিইও ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আল-রশিদ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা নিশ্চিত করেছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
আমাদের চারপাশের দেয়ালে কান পাতলে একটা দীর্ঘশ্বাস খুব বেশি শোনা যায়—‘এত চেষ্টা করি, এত টাকা আয় করি, তবু অভাব মেটে না, শান্তি আসে না!’ এই আক্ষেপ শুধু নিম্নবিত্তের নয়, বরং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক দ্বীনদার মানুষেরও। আমরা আসলে ভুলে গেছি—রিজিক কেবল পকেটের টাকা নয়; রিজিক হলো মনের স্থিরতা।
৭ ঘণ্টা আগে
নামাজ শেষে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম ফেরানো ওয়াজিব। এটি নামাজের সর্বশেষ রোকন, যা ইবাদতটি সম্পন্ন করে। তবে সালাম ফেরানোর সময় শব্দ উচ্চারণ এবং মাথা ঘোরানোর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে অনেক মুসল্লি সংশয়ে থাকেন। সুন্নাহ অনুযায়ী সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে