আরওয়া তাসনিম

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ দুজজের আকচাকোচা জেলায় এমন দুটি মসজিদ রয়েছে, যা কালের বিবর্তনে টিকে থাকা অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিস্ময়কর।
আধুনিক প্রকৌশল ও উচ্চ প্রযুক্তির এই যুগে, প্রচলিত কোনো ফাউন্ডেশন বা একটিও পেরেক ব্যবহার না করে তৈরি হওয়া ভবন দুটির বিবরণ শুনতে তাসের ঘরের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এই মসজিদ দুটি শতাব্দীর পর শতাব্দী সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিস্মিত করে চলেছে পর্যটকদের। আকচাকোচার অরহান গাজি এবং জুমা মসজিদ স্থানীয় সংস্কৃতির দুটি অনন্য প্রতীক।
শতাব্দী-প্রাচীন এই ভবনগুলো কোনো পেরেক ছাড়াই একটি ঐতিহাসিক কৌশলের মাধ্যমে জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই নির্মাণশৈলী চান্দি পদ্ধতি নামে পরিচিত। এটি মূলত কাঠের গুঁড়ি ও তক্তা ব্যবহারের একটি ঐতিহ্যবাহী তুর্কি কার্পেন্ট্রি বা কাঠমিস্ত্রি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কাঠের খাঁজগুলো একটির ভেতর অন্যটি এমনভাবে আটকে দেওয়া হয় যাতে কোনো পেরেক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া এই ভবনগুলোতে সিমেন্ট দিয়ে জমানো কোনো প্রচলিত ভিত্তি নেই; বরং বড় বড় পাথরের স্তূপের ওপর এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যার উচ্চতা প্রায় এক মিটার।
এই কৌশল উত্তর আনাতোলিয়া অঞ্চলে এবং বিশেষ করে বনাঞ্চলীয় গ্রাম বা মালভূমি এলাকায় মাটির ঘর তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০ সালের পর সিমেন্টের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসলেও, সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সম্প্রতি এটি আবার জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে।
অনেকে মনে করতে পারেন যে এই কৌশলে তৈরি ভবন ভূমিকম্প বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু অতীতকালের সেই মেধাবী কারিগরদের অসাধারণ কারুকার্য ও প্রকৌশলবিদ্যার কল্যাণে এই মসজিদগুলো সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
এই দুই মসজিদের মধ্যে পুরোনোটি হলো অরহান গাজি মসজিদ, যা চায়াঘজি গ্রামে অবস্থিত। ১৩২৩ সালে নির্মিত এই মসজিদ শিগগির তার ৭০০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজির পুত্র অরহান গাজির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, অরহান গাজি ১৩২৩ সালে এই অঞ্চল সফর করেছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই এই মসজিদ নির্মিত হয়। এটি স্থানীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যবাহী তুর্কি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
অন্যদিকে, হেমশিন জুমা মসজিদটি তুলনামূলকভাবে নতুন, যার বয়স প্রায় ২০০ বছর। ১৮৩৪ সালে তৎকালীন উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এটি নির্মাণের আদেশ দেন। এটিও একই চান্দি পদ্ধতিতে তৈরি। এই মসজিদের প্রথম তলা পাথরের কারুকাজে নির্মিত এবং দ্বিতীয় তলা চান্দি পদ্ধতিতে কাঠের তৈরি, অর্থাৎ এখানে দুই ধরনের নির্মাণশৈলীর সমন্বয় ঘটেছে। স্থানীয় সংস্কৃতির ধারক হিসেবে এই মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম।
সূত্র: ডেইলি সাবা

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ দুজজের আকচাকোচা জেলায় এমন দুটি মসজিদ রয়েছে, যা কালের বিবর্তনে টিকে থাকা অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিস্ময়কর।
আধুনিক প্রকৌশল ও উচ্চ প্রযুক্তির এই যুগে, প্রচলিত কোনো ফাউন্ডেশন বা একটিও পেরেক ব্যবহার না করে তৈরি হওয়া ভবন দুটির বিবরণ শুনতে তাসের ঘরের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এই মসজিদ দুটি শতাব্দীর পর শতাব্দী সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিস্মিত করে চলেছে পর্যটকদের। আকচাকোচার অরহান গাজি এবং জুমা মসজিদ স্থানীয় সংস্কৃতির দুটি অনন্য প্রতীক।
শতাব্দী-প্রাচীন এই ভবনগুলো কোনো পেরেক ছাড়াই একটি ঐতিহাসিক কৌশলের মাধ্যমে জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই নির্মাণশৈলী চান্দি পদ্ধতি নামে পরিচিত। এটি মূলত কাঠের গুঁড়ি ও তক্তা ব্যবহারের একটি ঐতিহ্যবাহী তুর্কি কার্পেন্ট্রি বা কাঠমিস্ত্রি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কাঠের খাঁজগুলো একটির ভেতর অন্যটি এমনভাবে আটকে দেওয়া হয় যাতে কোনো পেরেক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া এই ভবনগুলোতে সিমেন্ট দিয়ে জমানো কোনো প্রচলিত ভিত্তি নেই; বরং বড় বড় পাথরের স্তূপের ওপর এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যার উচ্চতা প্রায় এক মিটার।
এই কৌশল উত্তর আনাতোলিয়া অঞ্চলে এবং বিশেষ করে বনাঞ্চলীয় গ্রাম বা মালভূমি এলাকায় মাটির ঘর তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০ সালের পর সিমেন্টের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসলেও, সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সম্প্রতি এটি আবার জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে।
অনেকে মনে করতে পারেন যে এই কৌশলে তৈরি ভবন ভূমিকম্প বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু অতীতকালের সেই মেধাবী কারিগরদের অসাধারণ কারুকার্য ও প্রকৌশলবিদ্যার কল্যাণে এই মসজিদগুলো সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
এই দুই মসজিদের মধ্যে পুরোনোটি হলো অরহান গাজি মসজিদ, যা চায়াঘজি গ্রামে অবস্থিত। ১৩২৩ সালে নির্মিত এই মসজিদ শিগগির তার ৭০০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজির পুত্র অরহান গাজির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, অরহান গাজি ১৩২৩ সালে এই অঞ্চল সফর করেছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই এই মসজিদ নির্মিত হয়। এটি স্থানীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যবাহী তুর্কি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
অন্যদিকে, হেমশিন জুমা মসজিদটি তুলনামূলকভাবে নতুন, যার বয়স প্রায় ২০০ বছর। ১৮৩৪ সালে তৎকালীন উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এটি নির্মাণের আদেশ দেন। এটিও একই চান্দি পদ্ধতিতে তৈরি। এই মসজিদের প্রথম তলা পাথরের কারুকাজে নির্মিত এবং দ্বিতীয় তলা চান্দি পদ্ধতিতে কাঠের তৈরি, অর্থাৎ এখানে দুই ধরনের নির্মাণশৈলীর সমন্বয় ঘটেছে। স্থানীয় সংস্কৃতির ধারক হিসেবে এই মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম।
সূত্র: ডেইলি সাবা

জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এই দিনটিকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নবী করিম (সা.)। জুমার দিন কেবল একটি নামাজ আদায়ের মাধ্যম নয়; বরং এদিনের প্রতিটি মুহূর্তেই রহমত, বরকত ও মাগফিরাত বর্ষিত হয়।
৮ মিনিট আগে
একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিচয় তার সংবিধানে নয়, বরং সেই সংবিধানের ন্যায়সংগত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়—বিপুল সম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা শক্তিশালী সামরিক বাহিনী কোনো রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে পারে না, যদি সেখানে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার অনুপস্থিত থাকে।
৮ মিনিট আগে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়তপ্রাপ্তির শুরু থেকে ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ়করণ ও মুসলিম উম্মাহর জাগরণে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, সম্পদ ব্যয় করেছেন, হিজরত করেছেন, এমনকি নিজের জীবনও বিলিয়ে দিয়েছেন। এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকেই পছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তাহলে নিজেদের শরীর (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’
২ ঘণ্টা আগে