Ajker Patrika

বিছানায় নামাজ আদায়ের সময় যে সতর্কতা জরুরি

ইসলাম ডেস্ক 
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৩৮
বিছানায় নামাজ আদায়ের সময় যে সতর্কতা জরুরি
ঘরে নামাজ আদায় করছেন এক মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা: ৪৩)। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে প্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে, যা এই ইবাদতের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

একাকী নামাজ আদায়ের চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াবের।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৫)। কোনো ওজর বা অপারগতা ছাড়া জামাত বর্জন করা বড় গুনাহের কাজ। তবে কোনো কারণে জামাত ছুটে গেলে বা অসুস্থতা ও বিশেষ প্রয়োজনে ঘরে নামাজ আদায় করতে হয়। এ ছাড়া নারীদের জন্য ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঘরের বিছানা, তোশক বা গদির ওপর নামাজ আদায় করলে তা আদায় হবে কি না?

ইসলামি শরিয়তের আলোকে, নামাজের অন্যতম ফরজ শর্ত হলো ‘নামাজের জায়গা পবিত্র হওয়া’। অতএব, বিছানা, তোশক, জাজিম বা চাদর যদি সম্পূর্ণ পবিত্র (নাপাকিমুক্ত) হয়, তবে সেখানে নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই। কম্বল, তোশক, গদি বা নরম বিছানায় নামাজ আদায় করা নিষেধ নয়, তবে সিজদা করার সময় একটি বিশেষ নিয়ম লক্ষ রাখতে হবে। সিজদার সময় কপাল ও নাক জমিন বা বিছানার সঙ্গে ভালোভাবে চেপে বসতে হবে, যেন ভেতরের শক্ত ভাব অনুভব করা যায়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি সিজদা করবে, তখন কপাল ভালোভাবে জমিনের সঙ্গে লাগাবে, যাতে করে জমিনের কাঠিন্য অনুভব হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৬০৪)

খাটে বা বিছানায় যাঁরা নামাজ আদায় করেন, বিছানার ওপর একটি শক্ত জায়নামাজ বা চাদর বিছিয়ে নেওয়া ভালো। আর সিজদার সময় কপাল ও নাক যেন শক্তভাবে চেপে বসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো সমস্যা না থাকলে বিছানার চেয়ে সমতল ও শক্ত মেঝেতে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করাই সর্বোত্তম ও নিরাপদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত