যুদ্ধ শেষ। আল্লাহর রহমতে বিজয়ের মালা মুসলমানদের গলায়। সবার মনে তখন স্বস্তি। নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?’
সাহাবিরা একে একে বললেন, ‘হ্যাঁ, অমুক, অমুক শহীদ হয়েছেন।’
নবীজি (সা.) আবারও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি আর কাউকে হারিয়েছ?’
সাহাবিরা নিশ্চিত হয়ে বললেন, ‘না, ইয়া রাসুলাল্লাহ।’
কিন্তু নবীজি (সা.)-এর পবিত্র হৃদয়ে এক শূন্যতা অনুভব করলেন। তিনি বললেন, ‘আমি তো জুলাইবিবকে হারিয়েছি। তোমরা তাকে খুঁজে বের করো।’
সাহাবিরা অবাক হয়ে গেলেন। জুলাইবিব ছিলেন একজন সাধারণ সাহাবি, যিনি দেখতে তেমন সুন্দর ছিলেন না এবং সমাজে তাঁর তেমন কোনো পরিচিতিও ছিল না। কিন্তু নবীজি (সা.) তাঁকে খুঁজছেন!
সাহাবিরা যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদদের মাঝে জুলাইবিবকে খুঁজতে গেলেন। একসময় তাঁরা দেখতে পেলেন, সাতজন শত্রুর লাশের পাশে পড়ে আছে জুলাইবিবের নিথর দেহ। নবীজি (সা.) সেখানে এলেন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, ‘সে সাতজনকে হত্যা করেছে, তারপর শত্রুরা তাকে শহীদ করেছে। সে আমার, আর আমি তাঁর। সে আমার, আর আমি তাঁর।’
এরপর নবীজি (সা.) নিজের দুই হাতে জুলাইবিবের দেহ তুলে নিলেন। নবীজি (সা.) ছাড়া আর কেউ তাঁকে বহন করেনি। যখন তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হলো, নবীজি (সা.) নিজ হাতে তাঁকে কবরে রাখলেন। সাহাবিরা বুঝতে পারলেন, আল্লাহর কাছে মর্যাদা কোনো বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে অন্তরের ইমান আর ভালোবাসার ওপর।
তথ্যসূত্র: সহিহ্ মুসলিম: ৬১৩৪

নফল ইবাদত বান্দার আমলনামার সৌন্দর্য। নফল ইবাদতের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আল্লাহ তাআলার অনেক কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়া যায় অনেক সহজে। মুমিন যখন ফরজ ও সুন্নতে মুআক্কাদা পালন শেষে নফল ইবাদতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে—প্রতিটি রুকু-সেজদা এবং তাসবিহের বিনিময়ে তার মর্যাদা বাড়তে থাকে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইবাদত ও আমলকে গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান ও বহুল চর্চিত পরিভাষা হলো ‘ফরজ’ ও ‘নফল’। ফরজ, ওয়াজিব কিংবা সুন্নতের মতো পরিভাষাগুলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়ে যাননি।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
১ দিন আগে