ঘুম মহান আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত, যা মানুষের শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য ঘুমকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। আর রাতকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা: ৯-১০)
মুমিনের প্রতিটি কাজ যদি সুন্নত মোতাবেক হয়, তবে সাধারণ কাজগুলোও ইবাদতে পরিণত হয়। ঘুম থেকে ওঠার পর নবীজি (সা.) যে দোয়াগুলো পড়তেন এবং যে আমলগুলো করতেন, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আরবি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহ্ইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর পুনরায় জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই সবার পুনরুত্থান। (সহিহ্ বুখারি: ৬৩২৪)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ভোরে উপনীত হয়ে এই দোয়াটি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন—
আরবি:
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহ্ইয়া ওয়া বিকা নামুতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার আদেশেই আমরা প্রভাতে উপনীত হই এবং তোমার আদেশেই আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই; তোমার আদেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার আদেশেই আমরা মৃত্যুবরণ করি। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৮)
হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, রাতে ঘুম থেকে জেগে যদি কেউ নিচের জিকিরটি পাঠ করে দোয়া করে, তবে তা কবুল হয় এবং অজু করে নামাজ পড়লে সেই নামাজও কবুল হয়।
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
এরপর সে বলবে—‘আল্লাহুম্মাগফিরলি’ (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন)।
ঘুম থেকে ওঠার পর নিচের আমলগুলো করা উত্তম:
ঘুম থেকে ওঠার পর এই দোয়া ও আমলগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দিনটি আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
৫ ঘণ্টা আগে
বিয়ে সামাজিক বন্ধন, অনন্য ইবাদত। বিয়ের আকদ বা মূল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বিয়ের খুতবা পাঠ করা। বর ও কনের ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) ঠিক আগে আল্লাহর প্রশংসা ও কোরআনের আয়াত-সংবলিত এই খুতবা পাঠের মাধ্যমে একটি নতুন জীবনের বরকতময় সূচনা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো আসহাবুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর ঘটনা। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের দাম্ভিক শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান চালায়। মানুষের তৈরি বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কুদরতি শক্তির সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও মুমিনদের...
১০ ঘণ্টা আগে
নামাজ মুমিনের মিরাজ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন ও আমলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এর মধ্যে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দরুদে ইবরাহিম নামে পরিচিত। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম...
১৬ ঘণ্টা আগে