Ajker Patrika

যুদ্ধে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকে, ফের হামলার কথাও ভাবছি: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুদ্ধে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকে, ফের হামলার কথাও ভাবছি: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরানকে যুদ্ধে, হামলায় ও বিক্ষোভ দমনে হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট না করে তিনি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘বিশাল মাত্রার সামরিক অভিযান’ চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে এবং সেই বিষয়ে তিনি এখনো ভাবছেন। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হলে ওয়াশিংটনও তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একইভাবে আমিও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি—তারা যেসব মানুষকে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা এবং বিভিন্ন সংঘাতের মাধ্যমে হত্যা ও গুরুতরভাবে আহত করেছে, তাদের জন্য।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সব আলোচনায় এই দাবি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ইরান যে শত শত হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করছেন, তাদের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার দাবিও থাকবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউএসএস কোল-এ নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারকেও ইরানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। ২০০০ সালের ১২ অক্টোবর ইয়েমেনের উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওই জাহাজে আত্মঘাতী হামলায় ১৭ জন মার্কিন নাবিক নিহত হন। তবে ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়েছিল, ইরানকে নয়।

এর আগে ইরান বলেছিল, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক হুমকি বন্ধ করা। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতো। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে এবং মূল্যস্ফীতিতেও।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্যের পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। হরমুজ নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে প্রথম দিকের আশাবাদ ইরানের শর্তের কথা প্রকাশের পর কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় ১৭টা ২০ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে লেনদেন করছিল। নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের নিকটতম মেয়াদের গ্যাসের দামও ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

ট্রাম্প বলে আসছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং আঞ্চলিক হুমকি সৃষ্টির সামর্থ্য দুর্বল করা। তবে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধটি শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করে। তেহরান এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। অবশ্য ততদিনে যুদ্ধবিরতিটি কার্যত ভেঙে পড়েছিল।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ দফার আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে তিনি এই আলোচনাকে ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘বিশাল মাত্রার সামরিক উত্তেজনা’ বা বড় ধরনের সামরিক অভিযান এখনো আলোচনায় রয়েছে কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই সক্ষমতা অবশ্যই রয়েছে, যদি আমরা সেটা করতে চাই।’ তিনি যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, আপনারা জানতে পারবেন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, গত ৫০ বছরে ইরান যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অর্থ দাবি করবে। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় ইরানেরই সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।’

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন ‘খোলা।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন খোলা...এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে। আমাদের একটি অবরোধ রয়েছে, যা অপ্রতিরোধ্য। এটি একটি ইস্পাতের দেয়ালের মতো। আমরা যাদের প্রবেশ করতে দিতে চাই, তাদেরই ঢুকতে দিই। তারা ঢুকছে এবং বেরিয়েও যাচ্ছে। ফলে এটি এখন আসলে খোলা।’

তবে ট্রাম্প স্বীকার করেন, জাহাজ চলাচলে ইরান এখনো বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ইরানে যেতে দিই না। তাদের ইরানে যাওয়ার জন্য প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। কিন্তু অন্যদের জন্য এটি এখন খোলা।’

ইরানি বাহিনী মাঝে মাঝে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুঁতে দিতে পারে বলেও ট্রাম্প স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী পুরো প্রণালিতে থাকা মাইন শনাক্ত করে অপসারণ করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা হয়তো শুনে থাকবেন, হয়তো শোনেননি, কিন্তু আমরা পুরো প্রণালির মাইন সরিয়ে ফেলেছি। এখন প্রণালিটির ১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে।’

তবে তিনি বলেন, ইরান চাইলে এখনো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা কি সমস্যা তৈরি করতে পারে? হ্যাঁ, তারা সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিন্তু তারা দেউলিয়া। তাদের কোনো টাকা নেই।’

তথ্যসূত্র: আশারক আল–আওসাত ও আনাদোলু এজেন্সি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত