
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এক মার্কিন বিচারক এই সিদ্ধান্ত দেন। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, তারা আদানির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষের মামলাটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রুকলিনভিত্তিক জেলা বিচারক নিকোলাস গারাউফিস ফেডারেল প্রসিকিউটরদের করা এই বিরল আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি প্রসিকিউটরদের মামলা প্রত্যাহারের কারণ জানতে চেয়েছিলেন। এমনকি আদানিকেও জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের বিনিময়ে তাকে কোনো কিছু দেওয়ার বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল কি না।
২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আনার পর আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তাঁর নেতৃত্বাধীন আদানি গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান যাতে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়নের অনুমোদন পায়, সে জন্য তিনি ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার মতো তথ্য দিয়ে তিনি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়।
আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আদানি নিজে মার্কিন আদালতে হাজির হয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেননি। গত ১৮ মে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা আর এই মামলা এগিয়ে নেবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপ্রোফাইল শ্বেতপোশাক অপরাধের মামলায় ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মামলা প্রত্যাহারের এটি ছিল সর্বশেষ দৃষ্টান্ত।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল প্রসিকিউটররা কোনো ফৌজদারি মামলা আর চালিয়ে যেতে না চাইলে মার্কিন বিচারকদের তাদের তা চালিয়ে যেতে বাধ্য করার ক্ষমতা খুবই সীমিত। তবে বিচারকের অনুমোদন ছাড়া অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করা যায় না। মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিলেন গারাউফিস। তিনি লিখেছিলেন, বিচার বিভাগের দেওয়া ব্যাখ্যা ছিল “নিরস ও উপসংহারনির্ভর” এবং এতে মামলা প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে তাকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গত ৪ জুলাই আদালতে দাখিল করা এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রেন্ট ম্যাককটর বলেন, মামলাটি মূলত বিদেশ-সংশ্লিষ্ট, অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন এবং এটি বিচার বিভাগের বর্তমান অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই নথিতে ম্যাককটর গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, আদানি যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার আংশিক কারণেই তিনি মামলাটি খারিজের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গারাউফিস আদানিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘অভিযোগপত্র খারিজের বিনিময়ে কোনো কিছু দেওয়ার বা নেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তির কথা’ তিনি জানতেন কি না। গত ১৫ জুলাই আদালতে দাখিল করা এক শপথনামায় আদানি জানান, এমন কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিলেন যে এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ‘বিষয়গুলোর একটি নিষ্পত্তির অংশ হতে পারে।’
আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা ১৫ জুলাই আদালতে দাখিল করা এক নথিতে বলেন, মার্কিন বিচার বিভাগ তাকে জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের জন্য আদানি গ্রুপের আগ্রহকে মামলাটির কোনো নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

হংকংয়ের মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অ্যাবি চোইকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে একটি পাত্রে গাজর ও অন্যান্য সবজির সঙ্গে রান্না করা হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছেন কৌঁসুলিরা।
৪ ঘণ্টা আগে
মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আন্তর্জাতিক র্যানসমওয়্যার চক্র ‘কিলসেক’-এর (KillSec) মূল পরিচালনাকারী হিসেবে সন্দেহ করছে ইউরোপীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে, সমন্বিত অভিযানে চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্যে বসতবাড়িতে বসানো ব্যাটারিগুলোকে এক সুতায় গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এমন এক বিদ্যুৎব্যবস্থা, যা এখন রাজ্যটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় বাড়িগুলোকে ব্যাকআপ সরবরাহের পাশাপাশি এসব ব্যাটারি একসঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘ভার্চুয়াল পাওয়ার প্ল্যান্ট’
৮ ঘণ্টা আগে
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলেছেন, হামলার সময় তিনি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের জীবন রক্ষার দায়িত্বটুকুও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে