Ajker Patrika

চীন উপকূলের কাছে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার হারাল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৬: ৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের এফএ–১৮ যুদ্ধবিমান। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের এফএ–১৮ যুদ্ধবিমান। ছবি: এএফপি

মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানে দক্ষিণ চীন সাগরে পৃথক ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে একটি হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার নিয়মিত টহলের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এই হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। তবে সব সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে—কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলসীমায় দুই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। অঞ্চলটি বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনাকে ‘খুব অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জ্বালানিতে সমস্যা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকে জাপানে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা মনে করছে, জ্বালানি খারাপ ছিল। আমরা তা খতিয়ে দেখব। লুকানোর কিছু নেই, স্যার।’

নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা পোস্টে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইউএসএস নিমিৎজ বিমানবাহী রণতরী থেকে নিয়মিত টহলের সময় একটি এমএইচ-৬০ আর ‘সি–হক’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। তৎক্ষণাৎ তিন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

এর প্রায় ৩০ মিনিট পর একই রণতরী থেকে উড্ডয়নের পর আরেকটি এফ/এ-১৮ এফ ‘সুপার হর্নেট’ যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়। দুই পাইলটই প্যারাসুটে অবতরণ করে নিরাপদে উদ্ধার হন বলে জানায় নৌবাহিনী। এ নিয়ে চলতি বছর ৬ কোটি ডলার মূল্যের চতুর্থ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলো।

চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সীমানা ঘেঁষা দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশে একাধিক দেশ মালিকানা দাবি করলেও বেইজিং কার্যত গোটা জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। গত দুই দশকে চীন এই অঞ্চলের বিতর্কিত দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীরে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এভাবে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে টহল ও উপস্থিতি বজায় রাখছে—চীনের সার্বভৌমত্ব দাবির বিরোধিতা ও মিত্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এশিয়া সফরে রয়েছেন। সফরে তিনি এ সপ্তাহেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে বাণিজ্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছিল। পরস্পরের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল দুই দেশ। তবে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, চীনের সঙ্গে একটি কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ট্রাম্প–সি বৈঠকের আগে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিমিৎজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো সক্রিয় বিমানবাহী রণতরী। আগামী বছর এটি অবসরে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত