Ajker Patrika

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশালদের’ বিচ্ছিন্ন করার ডাক মোদির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৩৫
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশালদের’ বিচ্ছিন্ন করার ডাক মোদির
ঐতিহাসিক লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে সশস্ত্র মাওবাদের পাশাপাশি ‘দিমাগী নকশাল’ বা মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের বিষয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি জানিয়েছেন, যৌথ অভিযানের ফলে সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও দেশে মাওবাদী ভাবধারায় পুষ্ট বুদ্ধিজীবী ও ব্যক্তিবর্গ এখনো সক্রিয় রয়েছে, যাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে মোদি ২০১৪ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাওবাদ দমনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সশস্ত্র মাওবাদ বহুলাংশে দুর্বল হয়ে পড়লেও একটি গোষ্ঠী ‘দিমাগী নকশাল’ হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে কাজ করছে এবং দেশের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এরা দেশে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে চাচ্ছে এবং সমাজকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তরুণ প্রজন্ম ও তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে এই মনোভাবাপন্নদের চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।’

মাওবাদী ভাবধারা চার দশক ধরে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এটি হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন ধ্বংস করেছে।

নিজের প্রথম মেয়াদের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাওবাদ এই দেশকে রক্তাক্ত করেছে। ২০১৪ সালে দেশবাসী যখন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে ভারতকে মাওবাদমুক্ত করব।’

নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাণহানির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। মোদি দাবি করেন, ধারাবাহিক অভিযান ও নীতিগত পদক্ষেপের ফলে মাওবাদীরা এখন তাদের ‘শেষ প্রহর গুনছে’।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতিপূর্বে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে পুরোপুরি মাওবাদমুক্ত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে ছত্তীশগড় ও ওড়িশাসহ মাওবাদী-প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তাবাহিনী ধারাবাহিক ও ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে শত শত সশস্ত্র মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষপর্যায়ের ক্যাডার ও নেতা নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত অথবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনের মূলস্রোতে ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত