Ajker Patrika

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ৫ বিষয় ভেবে নিন

শিক্ষা ডেস্ক
বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ৫ বিষয় ভেবে নিন

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত জীবনের বড় একটি পদক্ষেপ। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বেছে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পছন্দ, সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। পড়াশোনার খরচ কত, ডিগ্রি শেষে কাজের সুযোগ কেমন, শিক্ষার মান কতটা ভালো এবং সেখানে জীবনযাপনের পরিবেশ কেমন, এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আইডিপি এডুকেশনের মতে, বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত।

স্নাতকের পর চাকরির সুযোগ

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ডিগ্রি শেষে কী ধরনের সুযোগ মিলতে পারে, তা জানা দরকার। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, সেখানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ কেমন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার সেবা কতটা কার্যকর, তা দেখে নিন। একই সঙ্গে যে দেশে পড়তে যাচ্ছেন, সেখানকার চাকরির বাজার সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। আপনার পড়ার বিষয়ের চাহিদা আছে কি না, ডিগ্রি শেষে কাজের সুযোগ কেমন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কতটা, এসব তথ্য আগে থেকে জানা থাকলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

মোট খরচ কত

বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বলতে শুধু টিউশন ফি বোঝায় না। বাসা, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা, বইপত্র ও ব্যক্তিগত খরচও এর সঙ্গে যুক্ত। একই দেশের একেক শহরে জীবনযাপনের খরচও একেক রকম। বড় শহরে বাসা ও দৈনন্দিন খরচ সাধারণত বেশি। ছোট শহরে তুলনামূলক কম খরচে থাকা সম্ভব হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জানার পাশাপাশি পুরো শিক্ষাজীবনে আনুমানিক কত টাকা প্রয়োজন হবে, তার একটি হিসাব করে নেওয়া ভালো। কিউএস গ্লোবাল স্টুডেন্ট ফ্লোসের তথ্য অনুযায়ী, ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী জীবনযাত্রার খরচকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। আগে থেকে ব্যয়ের হিসাব থাকলে পড়াশোনার সময় আর্থিক চাপও অনেকটা কমানো যায়।

শিক্ষার মান ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আপনি যে প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চান, সেখানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শেখার সুযোগ আছে কি না, তা দেখুন। গবেষণা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও থাকা দরকার। তাই ভর্তির আগে প্রোগ্রামের পাঠ্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা তৈরির ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।

জীবনযাপন কেমন হবে

বিদেশে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন দেশে কোথায় থাকবেন, কীভাবে চলাফেরা করবেন এবং কীভাবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেবেন, এসব বিষয়ও ভাবতে হবে। নিরাপত্তা, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকে জানা ভালো। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের সহায়তা রয়েছে, সেটিও দেখে নেওয়া দরকার। নতুন দেশে মানিয়ে নিতে সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম কাজে আসতে পারে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগও তৈরি হয়।

সামনে এগোনোর সুযোগ

একটি ডিগ্রি শেষ করার পর আপনার পরিকল্পনা কী, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় ভাবা দরকার। কেউ হয়তো আরও পড়াশোনা করতে চান। কেউ গবেষণায় যেতে চান। আবার কেউ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিশেষায়িত হতে চান। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, সেখানে পরবর্তী ধাপে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ কেমন, তা দেখে নেওয়া উচিত। স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম, গবেষণার সুযোগ এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হতে পারে।

বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের বাইরে আরও কিছু বিষয় দেখতে হবে। পড়াশোনার খরচ, শিক্ষার মান, চাকরির সম্ভাবনা এবং জীবনযাপনের পরিবেশ সম্পর্কে যত বেশি জানা যাবে, সিদ্ধান্ত নেওয়াও তত সহজ হবে। তথ্য যাচাই করে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারলে বিদেশে পড়াশোনার অভিজ্ঞতাটিও হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও ফলপ্রসূ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত