
যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমঝোতা সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে, তবে চুক্তির পূর্ণ টেক্সট তাদের সরবরাহ করা হয়নি। গত রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ডিজিটালি স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই সমঝোতা স্মারককে সমর্থন করেছেন। ভ্যান্স বলেন, এই কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।
এর আগে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র (তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন) এবং ইরান কয়েক মাসের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছায়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতির অংশ হিসেবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, তিনি এই সমঝোতা কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আগে কখনো এটা পাঠানোর কথা ভাবিনি... কিন্তু আমি পাঠাব। আমি কংগ্রেসে পাঠাব।’ তিনি আরও জানান, সমঝোতা স্মারকের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুও প্রকাশ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সম্ভবত একটি সংবাদ সম্মেলন করব এবং শব্দে শব্দে পড়ে শোনাব, যাতে গণমাধ্যম এটি সঠিকভাবে প্রচার করে।’
তবে ইসরায়েলকে এই চুক্তি সম্পর্কে আগে অবহিত না করা এবং পূর্ণ পাঠ না দেওয়ার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে এই ধারণাকে আরও জোরদার করেছে যে, এই সমঝোতা ইরানের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অনেকটাই পূরণ হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনাথে ইতোমধ্যেই এই সমঝোতাকে ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ডানপন্থী রাজনীতিক আভিগদর লাইবারম্যান এক সাক্ষাৎকারে চুক্তিটির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি নিশ্চিতভাবে ইরানকে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করছে।’ তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। লাইবারম্যান বলেন, ‘আমাদের এটা নিয়েই বাঁচতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এখানে এমন লোক আছে যারা মনে করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের স্বার্থ অনুযায়ী চলতে হবে, কিন্তু তা নয়। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি সমালোচনার প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কাতারের শাসকের পাশে বসে জি-৭ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল এখন আর অস্তিত্বে থাকত না। ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।’

নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে আশা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এত দিন করে আসছিলেন, তা ইতিমধ্যে নড়বড়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি তাঁর সেই রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও বেশি জটিল ও সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে...
২ ঘণ্টা আগে
নরেন্দ্র মোদিকে শান্ত, ধীরস্থির এবং একজন জাঁদরেল খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের মধ্যাহ্নভোজের আসরে মোদিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প...
৫ ঘণ্টা আগে
সমঝোতা স্মারকের শর্ত যদি তাঁর পছন্দ না হয় কিংবা ইরান যদি ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তবে তিনি আবারও দেশটিতে হামলা শুরু করবেন। ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বুধবার (১৭ জুন) ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন...
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চেয়েছিলেন—সিরিয়া লেবাননে প্রবেশ করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাক। তাঁর দাবি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বাহিনী এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের তুলনায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক
১০ ঘণ্টা আগে