Ajker Patrika

ডিজিটাল প্রতারণা: যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর কারাদণ্ডের মুখে বাংলাদেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ডিজিটাল প্রতারণা: যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর কারাদণ্ডের মুখে বাংলাদেশি
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার দায় স্বীকার করেছেন ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি ইফতেখার লতিফ নিয়ন। ডিজিটাল প্রতারণার (wire fraud) এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে তাঁর। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট তথা বিচার বিভাগ এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি মাইকেল ডি’জিয়াকোমো এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক এলিজাবেথ এ. উলফোর্ডের আদালতে নিয়ন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিয়ন আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে তিনজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। এসব প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সবাই বয়স্ক ছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কে বসবাসকারী ৬৮ বছর বয়সী এক নারীর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য নিয়নের সহযোগীরা সংগ্রহ করে। এরপর তার কার্ডে ‘ভাইরাস প্রোটেকশন সফটওয়্যার’-এর নামে একটি অননুমোদিত ফি কেটে নেওয়া হয়। এই ফি’র দেখতে পেয়ে নারীটি এমন একটি নম্বরে ফোন করেন, যেটিকে তিনি ওই ‘ভাইরাস প্রোটেকশন সফটওয়্যার কোম্পানি’র নম্বর বলে মনে করেছিলেন। নিয়নের সহযোগীরা ফোনটি ধরে নিজেদের ওই কোম্পানির ‘প্রতিনিধি’ হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেয়।

তারা ওই নারীকে বলে, টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর কম্পিউটারে কোম্পানির ‘প্রতিনিধি’কে রিমোট অ্যাক্সেস দিতে হবে। নারীটি তাতে সম্মতি দেন। তবে রিফান্ড দেওয়ার পরিবর্তে সহযোগী তাঁর অজান্তে ও অনুমতি ছাড়াই তার সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার ডলার চেকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। এরপর এমনভাবে লেনদেনটি সম্পন্ন করা হয়, যাতে মনে হয় ‘প্রতিনিধি’ ভুল করে ২০ হাজার ডলারের রিফান্ড ওই অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন।

এরপর ওই ‘প্রতিনিধি’ ওই নারীকে জানায়, তাঁকে ১৯ হাজার ৫০০ ডলার ‘ফেরত’ দিতে হবে। এজন্য তাঁকে নগদ টাকা তুলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়নের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। ওই নারী নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা তুলে নির্ধারিত স্থানে নিয়নের সঙ্গে দেখা করেন।

‘গিক স্কোয়াড’ পরিচয়ে ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তির কাছ থেকে ২৮ হাজার ডলার

২০২৫ সালের এপ্রিলে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিয়নের এক সহযোগীর কাছ থেকে একটি ই-মেইল পান। সেখানে সহযোগী নিজেকে ‘গিক স্কোয়াডে’র (এটি একটি টেক সাপোর্ট ও কম্পিউটার মেরামত পরিষেবা প্রতিষ্ঠান) প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়।

ই-মেইলে ওই ব্যক্তিকে জানানো হয়, ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ‘গিক স্কোয়াড সাবস্ক্রিপশন’ নবায়ন হবে এবং এজন্য তাঁর কাছ থেকে ৩২৯ দশমিক ৯৯ ডলার নেওয়া হবে। এ অর্থ কাটা ঠেকাতে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে ‘গিক স্কোয়াডের’ সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ব্যক্তিটি নম্বরটিতে ফোন করলে নিয়নের এক সহযোগী তাঁকে পাল্টা ফোন করে এবং নিজেকে ‘গিক স্কোয়াড সুপারভাইজার’ হিসেবে পরিচয় দেয়। তাঁকে বলা হয়, তিনি ৪৪০ ডলার রিফান্ড পাবেন।

এরপর ওই সহযোগী দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ডলার রিফান্ড জমা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২৮ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে। ব্যক্তি নিজের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে ৩০ হাজার ডলারের একটি ‘পেন্ডিং’ জমা দেখতে পান।

নিয়নের এক সহযোগীর নির্দেশে তিনি ২৮ হাজার ডলার নগদে তুলে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়ন ও তাঁর এক সহযোগীর হাতে তুলে দেন। পরদিন নিজের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন, ৩০ হাজার ডলারের কথিত জমাটি কখনোই সম্পন্ন বা ক্লিয়ার হয়নি।

পেপ্যালের প্রতিনিধি পরিচয়ে ৮২ বছর বয়সী ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা

এ ছাড়া, ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ওহাইওর ৮২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে নিয়নের এক সহযোগী ফোন করে। সহযোগী মিথ্যাভাবে নিজেকে পেপ্যালের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয় এবং দাবি করে, ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে একটি “ত্রুটি” হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার ডলার তুলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়নের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। তিনি এ নিয়ে অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে নিয়নের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে ১৪ হাজার ৫০০ ডলার দেন।

একাধিক সংস্থার তদন্ত

মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি মেগান কে. ম্যাকগুরিরে। এই দোষ স্বীকারের ঘটনা তদন্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ এবং ওহাইওর পেপার পাইক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট।

এফবিআইয়ের তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্পেশাল এজেন্ট-ইন-চার্জ অ্যালেন ডি. ডেভিস দ্বিতীয়। ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ছিলেন স্পেশাল এজেন্ট-ইন-চার্জ হ্যারি টি. চ্যাভিস জুনিয়র। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর কেভিন সুচার। আর পেপার পাইক, ওহাইও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে ছিলেন চিফ কার্ল ডিয়েটজ।

প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করায় নিয়নের সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর। প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক এলিজাবেথ এ. উলফোর্ডের আদালতেই তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত